রাশিয়ার বিমান হামলায় ইউক্রেনে নিহত ১০

রাশিয়ার বিমান হামলায় ইউক্রেনে নিহত ১০

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : ইউক্রেনের একাধিক অঞ্চলে রাশিয়ার ভয়াবহ বিমান হামলায় অন্তত ১০ জন নিহত এবং বহু মানুষ আহত হয়েছেন। শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) চালানো এসব হামলায় দেশের বিভিন্ন স্থানে আবাসিক ভবন ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় কর্মকর্তারা। রয়টার্সের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি টেলিগ্রামে জানিয়েছেন, শনিবার সকাল থেকে রাশিয়া ইউক্রেনের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে প্রায় ৫০০টি ড্রোন মোতায়েন করেছে। তার দাবি, সামরিক অগ্রগতি না হওয়ায় রাশিয়া এখন ইউক্রেনের অর্থনীতি ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোকে লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করেছে।

জেলেনস্কি বলেন, রাশিয়ার উদ্দেশ্য হলো এমন সব স্থাপনা ধ্বংস করা, যেগুলো ইউক্রেনের মানুষকে যুদ্ধের মধ্যে টিকে থাকতে সহায়তা করছে। একই সঙ্গে দেশটির অর্থনীতিকে অচল করে দেওয়া এবং ইউক্রেনের প্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল করাই মস্কোর লক্ষ্য বলে অভিযোগ করেন তিনি।

এদিকে রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় দাবি করেছে, তাদের বাহিনী জাপোরিজিয়া, দানিপ্রো ও ক্রিভি রিহ এলাকায় একাধিক ইস্পাত কারখানা এবং শিল্প কমপ্লেক্সে সফল হামলা চালিয়েছে। তবে রুশ বাহিনীর এসব দাবির স্বাধীনভাবে সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

অন্যদিকে মস্কো-নিয়ন্ত্রিত পূর্ব দোনেৎস্ক অঞ্চলের রুশ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ইউক্রেনীয় ড্রোন হামলায় সেখানে তিনজন নিহত হয়েছেন।

ইউক্রেনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ফ্রন্টলাইন শহর ক্রামাতোর্স্কেও রুশ হামলায় হতাহতের ঘটনা ঘটেছে। শহরটির সিটি কাউন্সিল জানিয়েছে, রুশ বাহিনী ব্যক্তিগত গাড়িকে লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে। প্রায় ৯০ মিনিটের ব্যবধানে তিনটি পৃথক ঘটনায় তিনজন নিহত এবং চারজন আহত হয়েছেন।

ক্রামাতোর্স্ক সিটি কাউন্সিল বলেছে, হামলার শিকার গাড়িগুলো কোনো সামরিক লক্ষ্যবস্তু ছিল না। সাধারণ মানুষ দৈনন্দিন কাজে বের হওয়ার সময় এসব হামলার শিকার হয়েছেন।

গত দুই মাসে ইউক্রেনে বেসামরিক মানুষের হতাহতের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। রাশিয়া ইউক্রেনের বিদ্যুৎকেন্দ্রসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোতে হামলা জোরদার করেছে। পাল্টা হিসেবে ইউক্রেনও রাশিয়ার দূরবর্তী জ্বালানি স্থাপনা ও গুদামগুলোতে হামলা চালিয়ে আসছে। সাম্প্রতিক সময়ে দুই পক্ষের মধ্যে পণ্যবাহী জাহাজ লক্ষ্য করেও হামলার ঘটনা ঘটেছে।

ফলে দীর্ঘস্থায়ী রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ নতুন করে আরও বিস্তৃত ও প্রাণঘাতী হয়ে উঠছে। বিশেষ করে বেসামরিক ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোতে হামলা বাড়ায় সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ ক্রমেই বাড়ছে।

পোস্ট লিংক : https://karatoa.com.bd/article/183487