কুড়িগ্রামের উলিপুর পৌরসভায় মিলছে না কাঙ্খিত নাগরিক সেবা
উলিপুর (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি: কুড়িগ্রামের উলিপুরে নাগরিকদের কাছ থেকে পৌরকর, ট্যাক্স ও বিভিন্ন ধরণের ফি আদায় করা হলেও কাঙ্খিত নাগরিক সেবা মিলছে না বলে অভিযোগ উঠেছে পৌরসভা কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে। পৌর শহরের বিভিন্ন সড়কে খানাখন্দ, জলাবদ্ধতা, যত্রতত্র ময়লা-আবর্জনা, ভাঙা ম্যানহোল, দুর্গন্ধ ও যানজটের পাশাপাশি নাগরিক সনদ পেতে ভোগান্তির অভিযোগও রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে এসব সমস্যা থাকলেও কার্যকর সমাধানে দৃশ্যমান উদ্যোগ না থাকায় ক্ষোভ বাড়ছে পৌরবাসীর।
পৌরসভার নাগরিক সেবার মধ্যে রয়েছে জাতীয়তা ও নাগরিকত্ব সনদ, চারিত্রিক সনদ, বেকারত্ব সনদ, জন্মনিবন্ধন, ওয়ারিশ সনদ ও মৃত্যু সনদ প্রদান। তবে এসব সেবা পেতে নাগরিকদের একাধিকবার পৌরসভায় যেতে হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা। পৌরকর ও বিভিন্ন ফি পরিশোধের ক্ষেত্রেও দুই-তিন দিন পর্যন্ত ঘোরাঘুরি করতে হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।
জানা যায়, ১৯৯৮ সালের ১০ অক্টোবর গ-শ্রেণির পৌরসভা হিসেবে উলিপুর পৌরসভার যাত্রা শুরু। ৯টি ওয়ার্ড নিয়ে গঠিত পৌরসভার আয়তন ২৭ দশমিক ৩৪ বর্গকিলোমিটার। জনসংখ্যা প্রায় ৬০ হাজার এবং ভোটার ৩৬ হাজার ৬২ জন। ২০০৫ সালের ১৬মে পৌরসভাটি খ- শ্রেণিতে উন্নীত হয়। পরে ২০২২ সালের ২১ নভেম্বর স্থানীয় সরকার বিভাগের প্রজ্ঞাপনে এটি ক-শ্রেণির পৌরসভায় উন্নীত হয়।
পৌরবাসীর অভিযোগ, পৌরসভার অন্যতম প্রধান দায়িত্ব সড়ক রক্ষণাবেক্ষণ, পানি নিষ্কাশন, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, সড়কবাতি, স্যানিটেশন ও নাগরিক সুবিধা নিশ্চিত করা হলেও এসব ক্ষেত্রে কাঙ্খিত সেবা পাওয়া যাচ্ছে না। পৌর শহরের বিভিন্ন সড়কে তৈরি হয়েছে ছোট-বড় অসংখ্য গর্ত ও খানাখন্দ। কোথাও পিচ উঠে গেছে, কোথাও সড়কের ওপর তৈরি হয়েছে বড় গর্ত। বৃষ্টির সময় এসব গর্তে পানি জমে দুর্ভোগ আরও বাড়ে।
স্থানীয় বাসিন্দা সাখাওয়াত হোসাইন বলেন, পৌরসভা নিয়মিত নাগরিকদের কাছ থেকে কর ও বিভিন্ন ধরণের ফি আদায় করছে। কিন্তু নাগরিক সেবা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে সেই তৎপরতা দেখা যায় না। কয়ছার আলী নামের এক বাসিন্দা বলেন, পৌরসভা ক-শ্রেণিতে উন্নীত হয়েছে। কিন্তু নাগরিক সেবার মান দেখে তা বোঝার উপায় নেই। প্রধান সড়ক থেকে অলিগলি সব জায়গাতেই উন্নয়ন ও রক্ষণাবেক্ষণের ঘাটতি রয়েছে।
পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী ও পৌর নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) মো. মাহবুবুল আলম বলেন, পৌরসভার তহবিলে পর্যাপ্ত অর্থ না থাকায় সড়ক সংস্কারসহ বিভিন্ন নাগরিক সেবায় সমস্যা হচ্ছে। পৌর প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার এ.টি.এম. আরিফ বলেন, পৌরসভার যেসব প্রকল্পের কাজ দীর্ঘদিনেও শেষ হয়নি, সেসব প্রকল্পের ঠিকাদারদের সাথে কথা বলা হয়েছে। আগামী নভেম্বরের মধ্যে কাজ শেষ না করলে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারদের টেন্ডার বাতিল করা হবে।
পোস্ট লিংক : https://karatoa.com.bd/article/183467