নীলফামারীর ডিমলার তিস্তায় অবৈধ পাথর উত্তোলন বন্ধে ব্যর্থতায় প্রশ্নের মুখে প্রশাসন

নীলফামারীর ডিমলার তিস্তায় অবৈধ পাথর উত্তোলন বন্ধে ব্যর্থতায় প্রশ্নের মুখে প্রশাসন

ডিমলা (নীলফামারী) প্রতিনিধি: নীলফামারীর ডিমলায় ডালিয়া তিস্তা ব্যারেজের উজানে আবারও প্রকাশ্যে চলছে অবৈধ পাথর উত্তোলন। দিন-রাত তিস্তা নদীর বুকে নৌকায় ভারী শ্যালো মেশিন বসিয়ে নদীর তলদেশ খুঁড়ে পাথর তুলে নেওয়া হচ্ছে। বারবার অভিযান, মেশিন ও নৌকা ধ্বংস এবং জরিমানা করা হলেও অল্প সময়ের মধ্যেই আবারও একই তৎপরতা শুরু হওয়ায় অবৈধ পাথর উত্তোলন বন্ধে প্রশাসনের সক্ষমতা ও অভিযানের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, তিস্তাবাজার, তেলীরবাজার, চরখড়িবাড়ী, বাইশপুকুর, ছাতুনামা ও দোহলপাড়া এলাকায় প্রায় দুই শতাধিক শ্যালো মেশিন দিয়ে পাথর উত্তোলন চলছে। এর মধ্যে টেপাখড়িবাড়ী ইউনিয়নের তেলীরবাজার এলাকাতেই শতাধিক মেশিন সক্রিয় রয়েছে। নদী থেকে উত্তোলিত পাথর তেলীরবাজার থেকে নৌকায় এনে শুটিবাড়ী বাজারের উত্তর পাশে অন্তত ১২টি পয়েন্টে মজুত করা হচ্ছে বলে স্থানীয়দের দাবি।

সর্বশেষ গত ১ সেপ্টেম্বর যৌথ অভিযান চালিয়ে তিস্তা নদী থেকে ১৬টি নৌকা ও চারটি শ্যালো মেশিন বিনষ্ট করা হয়। তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, অভিযান শেষ হওয়ার দিন বিকেল থেকেই নতুন করে নদীতে মেশিন নামিয়ে পাথর উত্তোলন শুরু হয়। ফলে প্রশ্ন উঠেছে, একটি অভিযান শেষ হওয়ার পর এত দ্রুত কিভাবে আবার বিপুল সংখ্যক মেশিন নদীতে সক্রিয় হলো।

পাথর উত্তোলন ঘিরে একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট সক্রিয় রয়েছে বলেও অভিযোগ স্থানীয়দের। প্রশাসন ও প্রভাবশালীদের ম্যানেজ করার কথা বলে মেশিন মালিকদের কাছ থেকে প্রতিদিন ৫০ থেকে ৬০ হাজার টাকা পর্যন্ত আদায়ের অভিযোগ রয়েছে। তবে উপজেলা প্রশাসন ও পুলিশ এ অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

তিস্তা থেকে অবৈধ পাথর উত্তোলন ও বাজারজাতকরণে ১৫১৬ জন পাথর ব্যবসায়ী জড়িত রয়েছেন। ডিমলা উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. ইমরানুজ্জামান বলেন, গত ১ সেপ্টেম্বর যৌথ অভিযানে ১৬টি নৌকা ও চারটি শ্যালো মেশিন বিনষ্ট করা হয়েছে। আবারো পাথর উত্তোলন শুরুর অভিযোগ পাওয়ার পর বিষয়টি জেলা প্রশাসককে জানানো হয়েছে। তার দিকনির্দেশনা অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তিস্তাপাড়ের মানুষের দাবি, শুধু মেশিন ধ্বংস নয়, পাথর উত্তোলনের মূল হোতা, নৌকা-মেশিন সরবরাহকারী, অর্থের যোগানদাতা, মজুতদার ও বাজারজাতকারীদের পুরো নেটওয়ার্ক শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে হবে। একই সাথে তিস্তার তলদেশ ও তীররক্ষা অবকাঠামোর ওপর এর প্রভাব নিরূপণে জরুরি বৈজ্ঞানিক সমীক্ষারও দাবি জানিয়েছেন তারা।

পোস্ট লিংক : https://karatoa.com.bd/article/183428