এসিসি শিরোপা জিতে এশিয়া কাপের টিকিট পেল নেপাল

এসিসি শিরোপা জিতে এশিয়া কাপের টিকিট পেল নেপাল

স্পোর্টস ডেস্ক :  কুয়ালালামপুরে এসিসি প্রিমিয়ার কাপের তৃতীয় আসরের ফাইনালে সংযুক্ত আরব আমিরাতকে ৪৪ রানে হারিয়ে শিরোপা জিতেছে নেপাল। এই জয়ের মধ্যে দিয়ে আগামী বছরে বাংলাদেশে অনুষ্ঠেয় এশিয়া কাপে নিজেদের জায়গা নিশ্চিত করেছে দলটি।

এদিন বায়ুমাস ওভালে টস জিতে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নিয়ে নির্ধারিত ওভারে ৯ উইকেট হারিয়ে ৩১৩ রান সংগ্রহ করে নেপাল। দলের পক্ষে ওপেনার আসিফ শেখ ১০৬ বলে ১০২ রানের ইনিংস খেলেন, যেখানে ছিল আটটি চার ও চারটি ছক্কা। এটি ছিল ওয়ানডে ক্রিকেটে তার দ্বিতীয় সেঞ্চুরি। আসিফ শেখ ও অর্জুন কুমাল উদ্বোধনী জুটিতে ৯৭ রান তুলে দলকে দারুণ সূচনা এনে দেন। কুমাল ৬৩ বলে ৪৩ রান করে রান-আউট হন; তার ইনিংসে ছিল ছয়টি চার। এরপর আসিফ শেখ অধিনায়ক রোহিত পাউডেলের সঙ্গে তৃতীয় উইকেটে ৬৮ রানের জুটি গড়েন। পাউডেল ৪৪ বলে ৪০ রান করেন; খুজাইমা তানভীরের বলে ড্রাইভ করতে গিয়ে তিনি উইকেটকিপারের হাতে ধরা পড়েন।

পাউডেল ও গুলশান ঝা চতুর্থ উইকেটে আরও ৬৭ রান যোগ করেন। ঝা ৩৬ বলে অর্ধশতক পূর্ণ করেন এবং শেষ পর্যন্ত ৩৮ বলে ৫২ রান করেন, যার মধ্যে ছিল তিনটি চার ও চারটি ছক্কা। সন্দীপ জোরা ৭, কারণ কেসি ১ এবং দীপেন্দ্র সিং আইরি ১৮ রান করেন। অন্যদিকে অধিনায়ক সন্দীপ লামিছানে ১ রানে আউট হন। বশির আহমেদ শেষদিকে দ্রুত রান তুলে দলকে সহায়তা করেন। তিনি ৪ বলে ১৫ রান করেন, যার মধ্যে ছিল দুটি চার ও একটি ছক্কা। ললিত রাজবংশী ১ রানে অপরাজিত থাকেন।

সংযুক্ত আরব আমিরাতের বিপক্ষে ওয়ানডেতে এটিই ছিল নেপালের সর্বোচ্চ দলীয় সংগ্রহ; এর আগে মে মাসে কীর্তিপুরে তাদের সর্বোচ্চ স্কোর ছিল ২৮৯ রান। এছাড়া এটি ছিল নেপালের ওয়ানডে ইতিহাসের তৃতীয় সর্বোচ্চ দলীয় সংগ্রহ। জবাবে রাহুল চোপড়া অপরাজিত সেঞ্চুরি করলেও সংযুক্ত আরব আমিরাত প্রয়োজনীয় রান রেট বজায় রাখতে হিমশিম খায়। তানিশ সুরি ৪২ এবং অধিনায়ক হরপ্রীত ভাটিয়া ৩৩ রান করেন। সবশেষ তারা ৪৯.১ ওভারে ২৬৯ রানে অলআউট হয়ে যায়।

নেপালের হয়ে কেসি তিনটি এবং ললিত রাজবংশী দুটি উইকেট শিকার করেন। সন্দীপ লামিছানে, রোহিত পাউডেল, গুলসান ঝা, বশির আহমেদ এবং দীপেন্দ্র সিং আইরি প্রত্যেকে একটি করে উইকেট নেন। টুর্নামেন্টের ফাইনালে ওঠার আগে সংযুক্ত আরব আমিরাত অপরাজিত ছিল। অন্যদিকে নেপাল তাদের প্রথম তিনটি ম্যাচ জিতলেও গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে হংকং, চীনের কাছে ১৫ রানে হেরেছিল।

সেমিফাইনালেও ব্যাটিংয়ে ধুঁকতে হয়েছিল নেপালকে; ওমানের বিপক্ষে তারা ১৪৭ রানে অল-আউট হয়ে যায়। তবে তাদের বোলাররা ওমানকে ৮৭ রানে আটকে রেখে ৬০ রানের জয় নিশ্চিত করেন। নেপালের আয়োজনে অনুষ্ঠিত ২০২৩ সালের আসরে স্বাগতিকরা ফাইনালে সংযুক্ত আরব আমিরাতকে সাত উইকেটে হারিয়ে প্রথমবারের মতো শিরোপা জিতেছিল এবং এশিয়া কাপের যোগ্যতা অর্জন করেছিল।

পোস্ট লিংক : https://karatoa.com.bd/article/183427