ক্ষত সারাতে ৪৭৮ কোটি ডলার প্রয়োজন, জাতিসংঘকে জানাবে নেপাল

ক্ষত সারাতে ৪৭৮ কোটি ডলার প্রয়োজন, জাতিসংঘকে জানাবে নেপাল

ভয়াবহ বন্যায় বিপর্যস্ত নেপাল পুনর্গঠনে ৪.৭৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলার প্রয়োজন হবে বলে জানিয়েছে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে এ তথ্য জানানো হয়।  

এর মধ্যে আগামী ছয় মাসে স্বল্পমেয়াদি পুনরুদ্ধার ও পুনর্গঠনে লাগবে ৫৭.৬৭ মিলিয়ন ডলার। দীর্ঘমেয়াদি পুনর্গঠনে প্রয়োজন হবে প্রায় ৪.৭১ বিলিয়ন ডলার।

নেপালের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র লোক বাহাদুর ছেত্রী জানান, সম্পূর্ণ ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণে সরকার দুর্যোগ-পরবর্তী চাহিদা মূল্যায়ন করছে।

গত ২৬ আগস্ট চীন-নেপাল সীমান্ত থেকে শুরু হওয়া এ বন্যায় ১ হাজার ৪০০ জনের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। এই বিধ্বংসী প্রাকৃতিক দুর্যোগে এখনও প্রায় ৫ হাজার ৬০০ জন মানুষ নিখোঁজ আছেন বলে নিশ্চিত করা হয়েছে। উদ্ধারকর্মীরা এখনও কাদায় ডুবে থাকা জলবিদ্যুৎ সুড়ঙ্গসহ অন্যান্য জায়গায় অভিযান পরিচালনা করছেন।

জরুরি বিষয়টি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সামনে তুলে ধরতে সেপ্টেম্বরের শেষের দিকে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে ভাষণ দেবেন নেপালের প্রধানমন্ত্রী বলেন্দ্র শাহ। তিনি দেশটির বিপর্যয়কর পরিস্থিতি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে জোরালোভাবে তুলে ধরবেন। দেশের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর এটিই হতে যাচ্ছে তার প্রথম বিদেশ সফর।

পররাষ্ট্র সচিব অমৃত বাহাদুর রায় জানান, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে নেপালকে বারবার ক্ষতির মুখোমুখি হতে হচ্ছে।

এই বিষয়টি নিয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করবেন প্রধানমন্ত্রী। দ্রুত পরিবর্তনশীল এই পরিবেশের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে নেপালের দীর্ঘমেয়াদী আন্তর্জাতিক সহায়তা অত্যন্ত প্রয়োজন।

জাতিসংঘের এক প্রাথমিক মূল্যায়নে বলা হয়েছে, নেপালের এই বন্যায় শুধু ভবনগুলোর ক্ষতির পরিমাণ ১৫৮ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। সংস্থাটি সতর্ক করেছে যে, রাস্তাঘাট, সেতু, কৃষি জমি ও মানবিক সহায়তার খরচ যোগ করলে মোট ক্ষতির পরিমাণ অনেক বেশি হবে।

নেপাল শিল্পোন্নত দেশগুলোর তুলনায় বৈশ্বিক গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমনে খুব সামান্য ভূমিকা রাখে।

অথচ জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব দেশটির পার্বত্য পরিবেশ ও মানুষের জীবনে ক্রমেই বড় হয়ে উঠছে।

গত মাসে চীন-নেপাল সীমান্তে হিমবাহ ধস বা বন্যার সঠিক কারণ এখনো স্পষ্ট নয়।

তবে বিশ্বজুড়ে জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে হিমবাহ দ্রুত গলে যাচ্ছে। এতে এ ধরনের দুর্যোগের ঝুঁকি বাড়ছে। বিজ্ঞানীরা বলছেন, বৈশ্বিক তাপমাত্রা বৃদ্ধির কারণে বিশ্বের সর্বোচ্চ পর্বতমালা হিমালয়ের হিমবাহগুলোও দ্রুত গলছে।

পোস্ট লিংক : https://karatoa.com.bd/article/183355