বগুড়ার দুপচাঁচিয়ায় দু’টি ইউপি ভবন নির্মাণ কাজের অগ্রগতি দৃশ্যমান
দুপচাঁচিয়া (বগুড়া) প্রতিনিধি : বগুড়া দুপচাঁচিয়া উপজেলায় বর্তমান বিএনপি সরকারের উন্নয়নমূলক কর্মকান্ডের অংশ হিসেবে প্রায় ৭ কোটি টাকা ব্যয়ে চামরুল ও তালোড়া দু’টি ইউনিয়ন পরিষদ কমপ্লেক্স ভবন নির্মাণ কাজ দৃশ্যমান।
উপজেলার ৬ টি ইউনিয়নের মধ্যে চামরুল ও তালোড়া ইউনিয়ন দুটি গুরুত্বপূর্ণ ইউনিয়ন। দুপচাঁচিয়া উপজেলা সদর থেকে প্রায় ৬ কিলোমিটার উত্তরে চামরুল ইউনিয়ন অবস্থিত। ১৮৫৬ সালে এই ইউনিয়ন পরিষদটি স্থাপিত হয়। তৎকালীন চামরুল ইউনিয়নের জোহাল মাটাই গ্রামে প্রাথমিকভাবে মাটির টিনের ছাউনি ঘরে পরিষদের কার্যক্রম শুরু হয়।
১৯৮৫ সালে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর থেকে একটি হলরুমসহ তিন কক্ষ বিশিষ্ট একটি পাকা ভবন নির্মিত হয়। ভবনটি পাকা ভবনে স্থানান্তরিত হওয়ার পর পরিষদ ভবনটি দীর্ঘদিন সংস্কার না করায় বিভিন্ন স্থানের প্লাস্টার উঠে গেছে। সামান্য বৃষ্টি হলেই ছাদ দিয়ে পানি পড়ে। এতে পরিষদের মুল্যবান কাগজপত্রসহ আসবাবপত্র ভিজে নষ্ট হতে থাকে। দরজা জানালা গুলোও ভেঙ্গে যাওয়ায় জরাজির্ণ ওই ভবনে ঝুকি নিয়েই পরিষদের কার্যক্রম চলছিল।
ইউনিয়ন চেয়ারম্যান শাহজাহান আলী জানান, একটি ইউনিয়ন পরিষদ ভবন নির্মানের জন্য বিভিন্ন দপ্তরে যোগাযোগ করে ব্যার্থ হয়েছেন। অপরদিকে উপজেলা সদর থেকে প্রায় ৮ কিলোমিটার দক্ষিণে তালোড়া ইউনিয়ন অবস্থিত।
বন্দর নগর তালোড়া ইউনিয়নের আংশিক এলাকা নিয়ে তালোড়া পৌরসভা গঠন হওয়ার পর প্রাথমিকভাবে তালোড়া পৌরসভা ও ইউনিয়ন পরিষদ কার্যক্রম একই ভবনে চলতে থাকে। এতে পৌরসভা ও ইউনিয়নের নাগরিক সুবিধা প্রদানে চরম বিঘ্ন ঘটছিল।
তালোড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মেহেরুল ইসলাম ইউনিয়ন পরিষদ কমপ্লেক্স ভবন নির্মাণের জন্য প্রায় ৩০ শতক জায়গা দান করেন। দেবখন্ড মৌজায় ওই জায়গার উপর ইউনিয়ন পরিষদ কমপ্লেক্স ভবন নির্মাণের জন্য আবেদন করেন। দীর্ঘ প্রায় ছয় বছর অতিবাহিত হলেও ইউনিয়ন পরিষদ কমপ্লেক্স ভবন নির্মাণ না হওয়ায় পরিষদের কার্যক্রম বিঘ্নিত হয়।
অবশেষে বিএনপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর-পরই স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর ইউনিয়ন পরিষদ দু’টির গুরুত্ব বিবেচনা করে নাগরিক সুবিধা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে দুটি দু’তলা বিশিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদ ভবন নির্মানে প্রয়োজনীয় প্রায় ৭ কোটি টাকা অনুমোদন দেয়া হয়।
আজ শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) উপজেলা প্রকৌশলী আবু তালিম হোসেন জানান, গত ১৬ এপ্রিল ভবন দু’টি নির্মানের দরপত্র আহ্বান করা হয়। নির্বাচিত ঠিকাদারকে কার্যাদেশ প্রদানও করা হয়েছে। ঠিকাদারদ্বয় যথা সময়ে কাজও শুরু করেছেন। ভবন দু’টি প্রায় শতকরা ২০ ভাগ নির্মান কাজ বাস্তবায়ন হয়েছে। ভবন দু’টির নির্মান কাজ এখন দৃশ্যমান।
পোস্ট লিংক : https://karatoa.com.bd/article/183318