কবীর-লালনের গানে দেশজুড়ে আট বিভাগে ভাবের আসর
বিনোদন ডেস্ক : লোকজ সংগীতের সুরে কখনো মানুষ খুঁজেছে নিজের পরিচয়, কখনো প্রশ্ন তুলেছে সমাজ ও ধর্মের প্রচলিত দেয়াল নিয়ে। সেই ভাবনারই দুই শক্তিশালী কণ্ঠ সন্ত কবীর ও লালন ফকির। তাদের দর্শন, ভাবধারা ও সংগীতকে সামনে রেখে এবার দেশের আট বিভাগে বসছে ‘কবীর-লালন ভাবসংগীত উৎসব’। গান, আলোচনা ও সাধনার আবহে এই আয়োজন ছড়িয়ে পড়বে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে।
সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতায় লালন বিশ্বসংঘ আয়োজিত উৎসবের আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হচ্ছে শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি মাঠ থেকে। মাসব্যাপী এ আয়োজনের পর্দা নামবে আগামী ৩০ অক্টোবর শ্রীমঙ্গলে সমাপনী অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে।
গানের ভেতর দিয়ে কবীর-লালনের দর্শন
উৎসবটির মূল আকর্ষণ শুধু সংগীত পরিবেশনা নয়; কবীর ও লালনের দর্শনের নানা দিক নিয়েও হবে আলোচনা। উদ্বোধনী আয়োজনে দেশ-বিদেশের গবেষক ও সাধকেরা অংশ নেবেন। তাঁদের আলোচনার পাশাপাশি থাকবে ভাবসংগীতের পরিবেশনা।
গানের ভেতর দিয়ে কবীর-লালনের দর্শন
উৎসবটির মূল আকর্ষণ শুধু সংগীত পরিবেশনা নয়; কবীর ও লালনের দর্শনের নানা দিক নিয়েও হবে আলোচনা। উদ্বোধনী আয়োজনে দেশ-বিদেশের গবেষক ও সাধকেরা অংশ নেবেন। তাঁদের আলোচনার পাশাপাশি থাকবে ভাবসংগীতের পরিবেশনা।
শুক্রবার বিকেলে উৎসবের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন সংসদ সদস্য ফজলুর রহমান। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম এবং বিশেষ অতিথি হিসেবে ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী উপস্থিত থাকবেন।
লালন বিশ্বসংঘের চেয়ারম্যান অধ্যাপক আনিসুজ্জামানের সভাপতিত্বে আয়োজিত উদ্বোধনী পর্বে বিভিন্ন ধারার শিল্পীদের অংশগ্রহণ উৎসবকে আরও বৈচিত্র্যময় করে তুলবে।
থাকছেন নানা ধারার শিল্পীরা
কবীরপন্থি, রবিদাসপন্থি ও নানকপন্থি শিল্পীদের পাশাপাশি উৎসবে গান পরিবেশন করবেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সংগীত বিভাগের শিল্পীরা। এতে অংশ নেবেন কবীর-লালন মিউজিক্যাল মিশনের শিল্পীরাও।
ফলে এক মঞ্চে শুধু লালন বা কবীরের গান নয়, তাদের ভাবধারার সঙ্গে যুক্ত বিভিন্ন সংগীত ও সাধনধারার শিল্পীদের পরিবেশনার সুযোগ তৈরি হচ্ছে। আয়োজকদের এ উদ্যোগে কবীর ও লালনের দর্শনের মিল-অমিল, মানবিকতার বোধ এবং সংগীতের ভিন্ন ভিন্ন প্রকাশ উঠে আসবে।
রাজধানী ছাড়িয়ে উৎসবের সুর
ঢাকায় উদ্বোধনের পর উৎসবটি পর্যায়ক্রমে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়বে। বরিশাল, খুলনা, শেরপুর (ময়মনসিংহ বিভাগ), রাজশাহী, রংপুর ও চট্টগ্রামে অনুষ্ঠিত হবে এর বিভিন্ন পর্ব।
এরপর সিলেট বিভাগের শ্রীমঙ্গলে আগামী ৩০ অক্টোবর বসবে সমাপনী আয়োজন। অর্থাৎ রাজধানীকেন্দ্রিক কোনো একক অনুষ্ঠান নয়, দেশের আট বিভাগকে যুক্ত করেই সাজানো হয়েছে পুরো আয়োজন।
লোকগানের দর্শনে মানুষের খোঁজ
কবীর ও লালনের সংগীতে ভিন্ন সময় ও ভিন্ন ভূখণ্ডের ছাপ থাকলেও তাদের ভাবনায় মানুষ ও মানবিকতার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। সেই জায়গা থেকেই তাদের সংগীতকে নতুন প্রজন্মের সামনে তুলে ধরার সুযোগ তৈরি করছে এমন আয়োজন।
উৎসবের মঞ্চে গান যেমন থাকবে, তেমনি থাকবে সেই গানের অন্তর্নিহিত দর্শন নিয়ে আলোচনা। ফলে এটি কেবল সংগীতের অনুষ্ঠান হয়ে না থেকে কবীর-লালনের ভাবজগতকে নতুন করে জানার একটি সাংস্কৃতিক পরিসরও তৈরি করবে।
আট বিভাগ ঘুরে যখন এই উৎসবের সুর শ্রীমঙ্গলে গিয়ে থামবে, তখন এর সবচেয়ে বড় অর্জন হতে পারে শ্রোতার মনে রেখে যাওয়া কিছু প্রশ্ন—মানুষকে কীভাবে দেখা যায়, বিভেদের বাইরে কতটা যাওয়া যায়, আর গানের ভেতর দিয়ে কতটা কাছে আসা সম্ভব। কবীর ও লালনের ভাবসংগীত সেই প্রশ্নগুলোর উত্তর হয়তো দেবে না; বরং নতুন করে ভাবার দরজা খুলে দেবে।