ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে সবাইকে সচেতন হতে হবে : মেয়র ডা. শাহাদাত

ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে সবাইকে সচেতন হতে হবে : মেয়র ডা. শাহাদাত

ডেঙ্গু প্রতিরোধে সিটি করপোরেশনের মশক নিধন কার্যক্রমের পাশাপাশি নাগরিকদেরও সচেতন ও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানিয়েছেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন।

আজ শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) নগরীর পতেঙ্গার কমিশনার ঘাটা, দক্ষিণ পাড়া ও বাটারফ্লাই রোড এলাকায় ডেঙ্গু প্রতিরোধে পরিচ্ছন্নতা, মশক নিধন ও নাগরিক সচেতনতামূলক অভিযান কর্মসূচিতে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ আহ্বান জানান।

মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, প্রতি তিন দিনে একদিন জমে থাকা পানি ফেলে দিতে হবে। নিজ আঙিনা পরিষ্কার রাখতে হবে। বাসাবাড়ি, ছাদ, ফুলের টব, বালতি, ড্রাম, এসির নিচে এবং নির্মাণাধীন ভবনে কোথাও পানি জমে আছে কি না, তা নিয়মিত পরীক্ষা করতে হবে।

তিনি বলেন, বর্তমানে থেমে থেমে বৃষ্টি হওয়ায় বিভিন্ন স্থানে পানি জমে থাকছে। এসব জমে থাকা পানিতে অল্প সময়ের মধ্যেই এডিস মশার লার্ভা জন্ম নিতে পারে। তাই ডেঙ্গু প্রতিরোধে পানি জমতে না দেওয়া এবং জমে থাকা পানি দ্রুত অপসারণ করাই সবচেয়ে কার্যকর প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা।

তিনি বলেন, চসিকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা কোথাও ঠিকমতো ওষুধ ছিটাচ্ছেন না বা কোনো ধরনের গাফিলতি করছেন এমন অভিযোগ থাকলে নাগরিকরা তা জানাবেন। ‘আমাদের চট্টগ্রাম’ অ্যাপের মাধ্যমে সরাসরি অভিযোগ করা যাবে। অভিযোগ পাওয়ার পর সংশ্লিষ্ট এলাকায় দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে নাগরিক সচেতনতার গুরুত্ব তুলে ধরে মেয়র বলেন, যত্রতত্র প্লাস্টিক, পলিথিন, ডাবের খোসা ও পরিত্যক্ত পাত্র ফেলা যাবে না। এসব সামগ্রী বৃষ্টির পানি জমে এডিস মশার প্রজননস্থলে পরিণত হতে পারে। পাশাপাশি, বাড়ির ছাদ ও আশপাশের ঝোপঝাড় নিয়মিত পরিষ্কার রাখতে হবে।

ডেঙ্গুতে মৃত্যুর ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করে মেয়র বলেন, কোনো মৃত্যুই কাম্য নয়। আমরা চাই আগামী দিনগুলোতে ডেঙ্গুতে আর একজন মানুষও যেন প্রাণ না হারান। এজন্য সিটি করপোরেশনের কার্যক্রমের পাশাপাশি নগরবাসীকেও স্বাস্থ্য সচেতন হতে হবে এবং নিজ নিজ অবস্থান থেকে ডেঙ্গু প্রতিরোধে ভূমিকা রাখতে হবে।

নগরবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নগরবাসীর পাশে আছে এবং থাকবে। তবে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে সিটি করপোরেশনের পাশাপাশি প্রত্যেক নাগরিককে দায়িত্বশীল হতে হবে। সবাই মিলে বাসাবাড়ি ও আশপাশ পরিষ্কার রাখলে এবং কোথাও পানি জমতে না দিলে ডেঙ্গুর প্রকোপ অনেকাংশে কমিয়ে আনা সম্ভব হবে।

এ সময় চসিকের ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও সচিব মো. আশরাফুল আমিন, প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা ক্যাপ্টেন ইখতিয়ার উদ্দিন আহমেদ চৌধুরী, প্রধান প্রকৌশলী আনিসুর রহমান, প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. মো. ইমাম হোসেন রানা, স্থানীয় নেতারা এবং চসিকের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।

পোস্ট লিংক : https://karatoa.com.bd/article/183267