দিনাজপুরের ফুলবাড়ীর ৭২ প্রাথমিকে নেই প্রধান শিক্ষক নৈশপ্রহরী কাম দপ্তরি নেই ৮০টিতে  

দিনাজপুরের ফুলবাড়ীর ৭২ প্রাথমিকে নেই প্রধান শিক্ষক নৈশপ্রহরী কাম দপ্তরি নেই ৮০টিতে  

ফুলবাড়ী (দিনাজপুর) প্রতিনিধি: দিনাজপুরের ফুলবাড়ী উপজেলার ১০৯ টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে ৭২টিতেই প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য রয়েছে। এতে বিদ্যালয়ের শৃঙ্খলার পাশাপাশি শিক্ষাদানও ব্যাহত হচ্ছে। এছাড়া ৮০টিতে নেই কোনো নৈশপ্রহরী কাম দপ্তরি। সেই সাথে বিদ্যালয় পরিদর্শনের জন্য তিনজন সহকারী উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা (এটিইও) থাকার কথা থাকলেও বর্তমানে কর্মরত আছেন দু’জন।

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা যায়, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নিয়োগ ও পদোন্নতি নীতিমালা অনুযায়ী ৩৫শতাংশ প্রধান শিক্ষক সরাসরি নিয়োগ হয় ও ৬৫ শতাংশ পদোন্নতির মাধ্যমে হয়। বর্তমানে সরাসরি নিয়োগ হওয়া প্রধান শিক্ষকের মধ্যে অনেকেই অবসরে চলে গেছেন। 

অন্যদিকে মামলার কারণে আদালতের নিষেধাজ্ঞায় থাকায় ২০০৯ সাল থেকে পদোন্নতি বন্ধ রয়েছে। এ কারণে প্রধান শিক্ষকের শূন্যপদ পূরণ করা যাচ্ছে না। দীর্ঘদিন থেকে পদোন্নতি বন্ধ থাকায় শিক্ষকরাও পাঠদান কার্যক্রমে আগ্রহ হারিয়ে ফেলছেন। আবার ৩৫ শতাংশ সরাসরি নিয়োগ পক্রিয়াতে রয়েছে গাফিলতি।
এদিকে প্রধান শিক্ষক সংকটের পাশাপাশি বিদ্যালয়গুলোর নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। ১০৯টি বিদ্যালয়ের মধ্যে ৮০টিতে কোনো নৈশপ্রহরী কাম দপ্তরি নেই। দীর্ঘদিন এসব পদ শূন্য থাকায় রাতে বিদ্যালয়গুলো অরক্ষিত অবস্থায় থাকছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, এ সুযোগে বিভিন্ন বিদ্যালয় থেকে ল্যাপটপ, প্রজেক্টর, সাউন্ড সিস্টেম, বৈদ্যুতিক ফ্যানসহ সরকারি সরঞ্জাম চুরির ঘটনা ঘটছে। এতে সরকারি সম্পদের ক্ষতির পাশাপাশি ডিজিটাল শিক্ষা কার্যক্রমও ব্যাহত হচ্ছে।

ফুলবাড়ী উপজেলায় বিদ্যালয় পরিদর্শনের জন্য তিনজন সহকারী উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা (এটিইও) থাকার কথা থাকলেও বর্তমানে কর্মরত আছেন দু’জন। একটি পদ শূন্য থাকায় কর্মরত কর্মকর্তাদের অতিরিক্ত বিদ্যালয়ের দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে। ফলে নিয়মিত বিদ্যালয় পরিদর্শন ও শিক্ষকদের পাঠদান মূল্যায়ন করা কঠিন হয়ে পড়েছে।

বাংলাদেশ প্রাথমিক শিক্ষক সমিতি ফুলবাড়ী উপজেলা শাখার সভাপতি এস কে মোহাম্মদ আলী দুলাল ও সাধারণ সম্পাদক আব্দুল আলিম বলেন, যারা ২০ থেকে ২৫ বছর ধরে সহকারী শিক্ষক পদে চাকরি করছেন। যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও তাদের পদোন্নতি না দিয়ে নতুনদের প্রধান শিক্ষক পদে নিয়োগ দেওয়ায় শিক্ষকদের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হচ্ছে। ফলে প্রাথমিক শিক্ষার গুণগতমান ব্যাহত হচ্ছে।

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মহসিন আলী বলেন, সহকারী শিক্ষকদের প্রধান শিক্ষক পদে পদোন্নতি প্রাপ্তির বিষয়ে উচ্চ আদালতে মামলা চলায় দীর্ঘদিন তাদের পদোন্নতি আটকে আছে। তবে শূন্যপদের তালিকা নিয়মিত ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হচ্ছে। নিয়োগ ও পদোন্নতি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে এই সংকট দ্রুত সমাধান হবে বলে আশা করছি।

 

পোস্ট লিংক : https://karatoa.com.bd/article/183224