অস্ট্রেলিয়া-ভারতের বিপক্ষে তারুণ্য নির্ভর দল ব্রাজিলের, বাদ নেইমার
স্পোর্টস ডেস্ক : আসন্ন ফিফা প্রীতি ম্যাচে অস্ট্রেলিয়া ও ভারতের মুখোমুখি হওয়ার আগে নতুন স্কোয়াড ঘোষণা করেছেন সেলেসাও কোচ কার্লো আনচেলত্তি। আর এই স্কোয়াডেই এসেছে বড় ধরনের পরিবর্তন, যেখানে বাদ পড়েছেন নেইমার জুনিয়র, আলিসন বেকার ও কাসেমিরোর মতো অভিজ্ঞ তারকারা।
চলতি মাসের শেষ দিকে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে দুটি প্রীতি ম্যাচ এবং আগামী ৩ অক্টোবর কলকাতার ঐতিহাসিক যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে ভারতের বিপক্ষে প্রথবারের মতো মুখোমুখি হতে যাচ্ছে ব্রাজিল। ভারতের বিশাল সংখ্যক ফুটবলপ্রেমীর কথা মাথায় রেখে এবং ২০২৮ লস অ্যাঞ্জেলেস অলিম্পিক ও ২০৩০ বিশ্বকাপকে সামনে রেখে এই দল গড়েছেন ইতালীয় এই অভিজ্ঞ কোচ।
বিশ্বকাপের স্কোয়াড থেকে এবার আমূল পরিবর্তন আনা হয়েছে গোলকিপার পজিশনে। লিভারপুলের বিশ্বস্ত গোলরক্ষক আলিসন বেকারকে দলের বাইরে রেখে সম্পূর্ণ নতুন তিন মুখ—হিউগো সুজা (করিন্থিয়ান্স), পেদ্রো মোরিসকো (কোরিটিবা) এবং ওতাভিওকে (ক্রুজেইরো) সুযোগ দিয়েছেন আনচেলত্তি। তবে একে আলিসনের জন্য জাতীয় দলের দরজা বন্ধ হয়ে যাওয়া হিসেবে দেখছেন না কোচ। আনচেলত্তি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, কোপা আমেরিকার মতো বড় টুর্নামেন্টের আগে বর্তমান ফর্ম বিবেচনায় অভিজ্ঞদের ফেরার সুযোগ এখনও খোলা রয়েছে। বিশ্বকাপের পর অবসরের ঘোষণা দেওয়া সময়ের সেরা তারকা নেইমার জুনিয়রের অনুপস্থিতির পাশাপাশি অভিজ্ঞ মিডফিল্ডার কাসেমিরো ও ফাবিনহোকেও এই স্কোয়াডে রাখা হয়নি। তবে দলের পরিবর্তনের ধারাকে এগিয়ে নিতে মারকুইনহোস, গ্যাব্রিয়েল মাঘালয়েস, ব্রুনো গুইমারায়েস, রাফিনিয়া এবং ভিনিসিউস জুনিয়রের মতো পরীক্ষিত তারকাদের ওপরই ভরসা রেখেছেন আনচেলত্তি। তরুণদের পথ দেখানোর ক্ষেত্রে এই অভিজ্ঞ ফুটবলাররাই মূল চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করবেন বলে মনে করেন তিনি।
নতুন এই স্কোয়াডে জায়গা করে নিয়েছেন আর্থার দিয়াস (আতলেতিকো পারানায়েন্স) ও মাউরো জুনিয়রের (পিএসভি) মতো বেশকিছু উদীয়মান ফুটবলার। এছাড়া চেলসি ফরোয়ার্ড জোয়াও পেদ্রোও দলে ফিরেছেন, যিনি গত বিশ্বকাপ স্কোয়াড থেকে বাদ পড়ে বেশ আলোচনায় ছিলেন। দলের এই রদবদল নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছিলেন সাবেক ব্রাজিলিয়ান অধিনায়ক থিয়াগো সিলভা। বয়সের ভিত্তিতে খেলোয়াড় বাদ না দেওয়ার পক্ষে মত দিয়েছিলেন তিনি। এ প্রসঙ্গে আনচেলত্তি স্পষ্ট করে জানান, এর অর্থ এই নয় যে বাকিদের পুরোপুরি বাদ দেওয়া হয়েছে। আলিসনকে আমরা খুব ভালো করেই জানি। যখন কোপা আমেরিকার মতো বড় প্রতিযোগিতাগুলো আসবে, তখন সে যদি ব্রাজিলের সেরা গোলরক্ষক হিসেবে টিকে থাকে, তবে আলিসনই খেলবে। তবে এই মুহূর্তে আমাদের তরুণদের অগ্রাধিকার দিতে হবে। এই কোচ আরও বলেন, একটি বিষয় একদম নিশ্চিত: ৩৪ বা ৩৫ বছর বয়সী কোনো খেলোয়াড় দলের ভবিষ্যৎ নয়, তারা হলো বর্তমান। ওই বয়সী কোনো খেলোয়াড় যদি কোনো বড় টুর্নামেন্টে খেলার জন্য প্রস্তুত থাকে, তবে সে অবশ্যই জাতীয় দলে ফিরবে। এটা খুবই সম্ভব যে, যখন আমরা মূল প্রতিযোগিতায় পৌঁছাব, তখন আজকের এই তালিকায় নেই এমন খেলোয়াড়রাও চূড়ান্ত স্কোয়াডে জায়গা পেতে পারে।
বর্তমান স্কোয়াড নিয়ে তিনি বলেন, আমি মারকুইনহোস, গ্যাব্রিয়েল, ব্রুনো, রাফিনিয়া এবং ভিনি জুনিয়রকে বেছে নিয়েছি আমাদের নতুন পথচলায় অবদান রাখতে। ভবিষ্যতের জন্য তারা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাদের মান, নিষ্ঠা এবং পেশাদারিত্বের ওপর আমাদের পূর্ণ আস্থা রয়েছে, যা তরুণদের উন্নতি করতে সাহায্য করবে। তবে এর মানে এই নয় যে অন্য খেলোয়াড়েরা আর কখনো যুক্ত হবেন না। সবার সম্পর্কে আরও নিখুঁত তথ্য পাওয়ার জন্যই আমরা এই প্রীতি ম্যাচগুলোতে তরুণদের অগ্রাধিকার দিয়েছি।
ব্রাজিল স্কোয়াড:
গোলরক্ষক : হিউগো সুজা (করিন্থিয়ান্স), পেদ্রো মোরিসকো (কোরিটিবা), ওতাভিও (ক্রুজেইরো)।
ডিফেন্ডার : আর্থার ডিয়াস (আতলেতিকো পারানায়েন্স), ওয়েসলি (রোমা), মারকুইনহোস (প্যারিস সেন্ট জার্মেই), গ্যাব্রিয়েল মাঘালয়েস (আর্সেনাল), ডগলাস সান্তোস (জেনিত সেন্ট পিটার্সবার্গ), জাইর (নটিংহাম ফরেস্ট), মাথেউজিনহো (করিন্থিয়ান্স), মাউরো জুনিয়র (পিএসভি আইন্দহোভেন), ভিতোর রেইস (ম্যানচেস্টার সিটি)।
মিডফিল্ডার : ব্রুনো গুইমারায়েস (আর্সেনাল), আন্দ্রে সান্তোস (ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড), দানিলো সান্তোস (বোতাফোগো), ডগলাস লুইজ (জুভেন্টাস), ব্রেনো বিডন (করিন্থিয়ান্স), গ্যাব্রিয়েল বন্টেম্পো (সান্তোস)।
ফরোয়ার্ড : এনদ্রিক, ভিনিসিউস জুনিয়র (রিয়াল মাদ্রিদ), রাফিনিয়া (বার্সেলোনা), রায়ান (বোর্নমাউথ), জোয়াও পেদ্রো (চেলসি), স্যামুয়েল লিনো, পেদ্রো (ফ্লেমেঙ্গো)।