বগুড়ায় গোল্ডকাপ ফুটবল ফাইনাল : শুধু মানুষ আর মানুষ, বাদ নেই গাছের ডাল আর সীমানা প্রাচীর
শহর প্রতিনিধি : বগুড়া জেলা প্রশাসনের আয়োজনে গোল্ডকাপ ফুটবল টূর্নামেন্টের ফাইনাল অনুষ্ঠিত হয়েছে শহীদ চাঁন্দু স্টেডিয়াম সংলগ্ন ফুটবল মাঠে। আজ বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) বেলা ১২টার পর থেকেই মাঠে আসতে থাকেন দর্শকরা।
ফাইনাল খেলার প্রতিদ্বন্দ্বী বগুড়া সদর এবং সিটি কর্পোরেশন হওয়ায় দর্শক উপস্থিতি ছিল গ্রুপ পর্ব এবং সেমিফাইনালের তুলনায় কয়েকগুণ। বিকেলে বল মাঠে গড়ানোর আগেই দর্শকদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। বগুড়া সদরকে ট্রাইব্রেকারে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে সিটি কর্পোরেশন ফুটবল দল।
বগুড়া মহানগরের ২১টি ওয়ার্ডের বিভিন্ন এলাকা থেকে ফুটবলপ্রেমীরা নিজেদের আসন ধরে রাখতে মাঠে প্রবেশ করতে থাকেন। মাঠের দক্ষিণ পাশের গেট দিয়ে প্রবেশ করে কেউ বসেন মাঠের সীমানা দাগ ঘেঁষে ।আবার কেউ বসেন অস্থায়ী বাঁশের গ্যালারিতে। অনেকই নিজেদের ব্যবস্থাপনায় চেয়ার ও মাদুর এনে জায়গা নিশ্চিত করেন ভালোভাবে খেলা দেখার জন্য।
মূল মাঠের চারপাশের মাটিতে, বাঁশের গ্যালারিতে জায়গা না পেয়ে শত শত দর্শক উঠে পড়েন মাঠের চারপাশের সীমানা প্রাচীরের উপর। নিরাপত্তা ঝুঁকি উপেক্ষা করে শতাধিক দর্শক মাঠের মঞ্চের পেছনে থাকা শহীদ চাঁন্দু স্টেডিয়ামের ফ্লাডলাইটের উপর অবস্থান নেন।
সদরের মাটিডালী থেকে খেলা দেখতে আসা সরকারি আজিজুল হক কলেজের শিক্ষার্থী রাকিব বলেন, ফুটবল খেলা দেখতে ও খেলতে ভালোবাসি। সেই টান থেকেই যতো কষ্টই হোক ফুটবল খেলা দেখতে আসি। এছাড়াও , মাঠ সংলগ্ন ওয়ান্ডারল্যান্ড বিনোদন পার্কের প্রবেশপথের সামনের গেটের উপর উঠে বসে পড়েন অপেক্ষাকৃত তরুণ দর্শকরা।
মাঠের চারপাশে থাকা আমগাছ, ভলিবল মাঠের সামনের কড়ই গাছের ডালে এবং মাঠের দক্ষিণ পূর্ব কোণায় থাকা গাছের মগডালেও উঠে পড়েন অনেকে। ইঞ্জিনিয়ার্স টাওয়ার থেকৈ শুরু করে মাঠের আশেপাশের বসতবাড়ি, অফিস সহ ভবনগুলোর ছাদে, বেলকোনীতে বসেও খেলা দেখতে দেখা যায় বগুড়া মহানগর ও সদরের সমর্থকদের।
মহানগরের সেইজগাড়ী থেকে খেলা দেখতে আসা দর্শক আলিফ মাহমুদ জানান, জামিলনগর যুব সংঘের সদস্যরা টুর্নামেন্টে শুরু থেকে প্রতিটি ম্যাচে ৩০টি করে চেয়ার, মাটিতে বসে খেলা দেখার জন্য মাদুর নিয়ে অবস্থান নেয় । তাদের সাথে বসেই ফাইনাল খেলা উপভোগ করছেন তিনি।
মঞ্চের পাশের মাটিতে গাদাগাদি করে বসে খেলা উপভোগ করতে দেখা যায় অসংখ্য দর্শককে। তাদের কয়েকজনের সাথে কথা বলে জানা যায়, এতো বড় আয়োজন যদি একটু আরামে বসে খেলা দেখতে পারা যেতো তাহলে সত্যিকারের চিত্তের বিনোদন হতো।
কাহালু থেকে ধারা বর্ণনা দিতে আসেন আল-আমিন। বেসরকারি কলেজের এই কর্মচারী জানান, ধারা বর্ণনা দেওয়া আমার ঐচ্ছিক পেশা। ধারাভাষ্যকারদের জায়গাতেও উঠে পড়েন দর্শকরা। দর্শকদের নিরাপত্তা ও খেলার মাঠের সার্বিক পরিবেশ বজায় রাখতে হলেও বগুড়ায় জেলা পর্যায়ে অন্তত একটি স্টেডিয়াম এবং গ্যালারিসহ কয়েকটি মাঠ থাকা প্রয়োজন।
সংবাদ সংগ্রহের কাজে আসা ফটোসাংবাদিক,প্রতিবেদক ও প্রাক্তন খেলোয়াড়দেরদের জন্য নির্ধারিত স্থানও ছিল সাধারণ দর্শক, ফুটবলপ্রেমীদের দখলে। মাঠের পূর্বপ্রান্তের রেফারি, দলগুলোর তাবু ও মেডিকেলের নির্ধারিত জায়গাও খেলার দ্বিতীয়ার্ধে চলে যায় দর্শকদের মালিকানায়।
খেলার মাঝে বিভিন্ন সময় দর্শকসারিতে দাঁড়িয়ে থাকার কারণে পেছনের সারিতে দাঁড়িয়ে থাকা দর্শকদের মধ্যে বচসাও হয়। পর্যাপ্ত পুলিশ ও আয়োজকদের ম্যাচ অফিশিয়াল কার্ডধারী স্বেচ্ছাসেবকদের দক্ষতায় সেসব দর্শকদের উত্তেজনা দমানো সম্ভব হয়।
দর্শক উপস্থিতি ও মাঠের সার্বিক উপস্থিতিকে স্বাক্ষী করে বগুড়া সদর আসনের সংসদ সদস্য রেজাউল করিম বাদশা তার সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে প্রধান অতিথি যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মোঃ আমিনুল হকের কাছে ফুটবল স্টেডিয়াম ও গ্যালারির সুব্যবস্থার দাবি জানান।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, বগুড়া সদর ও সিটি কর্পোরেশন প্রধানমন্ত্রীর নির্বাচনী আসন। প্রধান অতিথি প্রতিমন্ত্রী মোঃ আমিনুল হক তার বক্তব্যে বগুড়ার এই মাঠে নিজের প্রীতি ম্যাচের সুখস্মৃতি স্মরণ করে বলেন, অচিরেই এই মাঠে দর্শকদের খেলা দেখার সুব্যবস্থা করতে গ্যালরি নির্মাণ করা হবে। এছাড়াও, বগুড়ায় আরাফাত রহমান কোকো প্যারা স্পোর্টস ভিলেজ নির্মাণের কার্যক্রমও শুরু হবে।
পোস্ট লিংক : https://karatoa.com.bd/article/183114