ডেঙ্গু প্রতিরোধে ১২ সেপ্টেম্বর থেকে তিন মাসের বিশেষ অভিযান : মীর শাহে আলম
ডেঙ্গু প্রতিরোধে আগামী ১২ সেপ্টেম্বর থেকে সারা দেশে তিন মাসব্যাপী ক্র্যাশ প্রোগ্রাম শুরু করতে যাচ্ছে সরকার। এ কর্মসূচির আওতায় এডিস মশার লার্ভা ধ্বংসের পাশাপাশি পরিচ্ছন্নতা অভিযান চালানো হবে। সম্পৃক্ত করা হবে স্বেচ্ছাসেবীদেরও।
আজ বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে জাতীয় ডেঙ্গু প্রতিরোধ দিবস বাস্তবায়ন উপলক্ষে জরুরি মতবিনিময় সভা শেষে ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। তিনি বলেন, সেপ্টেম্বর, অক্টোবর ও নভেম্বর—বছরের এই সময়ে এডিস মশার লার্ভা বেশি হয় এবং ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যাও বাড়ে। এ আশঙ্কা থেকেই আগামী ১২ সেপ্টেম্বর থেকে তিন মাসব্যাপী ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান শুরু হবে।
প্রতিমন্ত্রী জানান, ১২ সেপ্টেম্বর সকাল ৯টায় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী। এসময় জেলা ও উপজেলা পরিষদগুলো জুমের মাধ্যমে যুক্ত থাকবে। তিনি বলেন, উপজেলা, ইউনিয়ন, পৌরসভা ও মহানগর এলাকায় এডিস মশার লার্ভা ধ্বংস এবং অন্যান্য ময়লা পরিষ্কারে ক্র্যাশ প্রোগ্রাম পরিচালনা করা হবে। কলেজ, হাইস্কুল ও মাদ্রাসায় প্রতি শনিবার শিক্ষার্থীদের নিয়ে শিক্ষকরা নিজ নিজ প্রতিষ্ঠান এলাকায় পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম চালাবেন। পাশাপাশি সিটি করপোরেশন ও পৌরসভাগুলো তাদের নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম চালিয়ে যাবে।
মীর শাহে আলম বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। এতে দক্ষিণ সিটির প্রশাসককে আহ্বায়ক এবং উত্তর সিটির প্রশাসককে যুগ্মসচিব করে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির উপদেষ্টা থাকবেন প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব। তিনি জানান, ডেঙ্গু রোগীদের চিকিৎসায় সারা দেশে রেড এলার্ট দেওয়া জেলা ও উপজেলার প্রত্যেক হাসপাতালে পাঁচটি করে বেড রাখার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। প্রয়োজনে রেড মার্কিং এলাকার উপজেলাগুলোতে পাঁচটির পরিবর্তে ১০টি বেড রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বিশেষায়িত হাসপাতাল নিয়েও সিদ্ধান্ত দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে গত পরশু দিন পর্যন্ত ডেঙ্গুতে ১৩৭ জন মারা গেছেন। চিকিৎসা নিয়ে ফিরে গেছেন কিংবা হাসপাতালে ভর্তি আছেন—এমন রোগীর সংখ্যা ২ হাজার ৭০০ থেকে ২ হাজার ৮০০। তিনি জানান, খুলনা, ময়মনসিংহ, ঢাকা ও চট্টগ্রামে ডেঙ্গু রোগী বেশি। বরিশালেও রোগী বেশি, বিশেষ করে পিরোজপুরে। অন্যদিকে সিলেট ও রংপুরে রোগী নেই বললেই চলে এবং রাজশাহীতে কিছু রোগী রয়েছে। পিরোজপুরে ডেঙ্গু বাড়ার কারণ হিসেবে নারকেল ও সুপারি গাছ কাটার পর গোড়ায় জমে থাকা পানিকে এডিস মশার লার্ভার উৎস হিসেবে উল্লেখ করেন
পোস্ট লিংক : https://karatoa.com.bd/article/183052