বাংলাদেশের কৃষক বিশ্বসেরা
বাংলাদেশের মতো একটি উন্নয়নশীল রাষ্ট্রে কৃষি, কৃষক ও অর্থনৈতিক উন্নয়ন একই সূত্রে গাঁথা। কৃষি মূলত দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের মূল চাবি কাঠি। গ্রামের বেশির ভাগ মানুষই পরোক্ষ ও প্রত্যক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কাজেই দেশকে বাঁচাতে হলে গ্রামকে বাঁচাতে হবে। কেন গ্রামকে বাঁচাতে হবে গ্রামের এত গুরুত্ব কেন? ১৮কোটি মানুষের দেশে অধিকাংশই গ্রামে বাস করে। অর্থাৎ দেশের মোট জনসংখ্যার এক বৃহৎ অংশ গ্রামে বাস করে। আর অধিকাংশ মানুষই কোনো না কোন ভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু দুর্ভাগ্য, অধিকাংশ সময় কৃষক কৃষি পণ্যেরও ন্যায্য মূল্য পান না। পৃথিবীর মানচিত্রে ছোট একটি দেশ বাংলাদেশ।
বর্তমান জনসংখ্যা প্রায় ১৮কোটি। কাজের সঙ্গে জড়িত কৃষকরা অত্যন্ত কষ্ট করে একটু লাভের আশায় ফসল বোনে। রোদ, বৃষ্টি, ঝড়, প্রাকৃতিক দুর্যোগ সহ নানা প্রতিকূলতার মুখে কৃষক ফসল ফলায়। এদেশের কৃষক সমাজ রোদে পোড়া মানুষ তারা দিন রাত কঠোর পরিশ্রম করে ফসল উৎপাদন করে দেশকে খাদ্য নিরাপত্তার ঝুঁকি থেকে বাঁচাতে। কাজেই তাদের স্বার্থ সরকারকে অবশ্যই দেখতে হবে। আমরা জানি বাংলাদেশের অর্থনীতির ভুল ভিত্তি কৃষি। শুধু আলু, গম, ধান, সরিষাই নয় অর্থকরী ফসল সহ দেশের অভ্যন্তরীণ মোট উৎপাদনে কৃষির অবদান সবচেয়ে বেশি। আর এ খাতকে বাঁচিয়ে রেখেছে কষ্ট, সহিষ্ণু, ধৈর্য্যশীল রোদে পোড়া কৃষকরা। দেশের খাদ্য উৎপাদন দ্বিগুন, খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, দেশের অর্থনীতিকে একটি শক্ত ভিত্তির ওপর দাঁড় করানো সহ খাদ্যে স্বয়ং সম্পূর্ণতা অর্জনে কৃষকের যথেষ্ট অবদান রয়েছে।
কারণ কৃষকরাই কৃষি উৎপাদনের মূল চালিকা শক্তি। তারা এ সমাজের খাদ্য থেকে শুরু করে কিছুর যোগানদাতা। তাদের শারীরিক পরিশ্রমে একটি দেশ জাতিকে দৃঢ় ভিত্তির উপর প্রতিষ্ঠিত করছে। সমাজের অবহেলিত এ বঞ্চিত মানুষগুলো একটি দেশের আসল শক্তি। সমাজ দেশ, জাতির উন্নয়নে তারা নিবেদিত প্রাণ। যুগে যুগে তারা আমাদের খাদ্যের যোগানদাতা, আমাদের অন্নদাতা। কিন্তু তাঁরা চিরকালই অবহেলিত। অনেক সময় সার বীজসহ কৃষি উৎপাদনের উপকরণগুলো বাড়তি দামে কিনতে হয়। বর্তমানে বাংলাদেশের জনসংখ্যা প্রায় ১৮ কোটি। পাশাপাশি দেশটি কৃষি প্রধান। সে আদি যুগ থেকে মানুষ কৃষি কাজের সাথে জড়িত। আর এ কাজের সঙ্গে যারা জড়িত তারা সাধারণত কৃষক সমাজ। ক্রমাগতভাবে জনসংখ্যা বৃদ্ধিসহ বিভিন্ন কারণে দেশের খাদ্য উৎপাদন বাড়ানো জরুরি হয়ে পড়ে। বাংলাদেশ কৃষি প্রধান দেশ হওয়ায় এদেশের কৃষক সমাজ কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে খাদ্য উৎপাদন করে।
বাংলাদেশে কৃষি অর্থনীতির মূলভিত্তি। কৃষকরা মাঠে ময়দানে বিভিন্ন ধরনের ফসল ফলায়। তারা দেশকে ভবিষ্যৎ খাদ্য নিরাপত্তার ঝুঁকি থেকে রক্ষা করে। কৃষি অর্থনীতির মূল ভিত্তি হওয়ায় অবহেলিত কৃষক সমাজ ঝড়, বৃষ্টি, বর্ষা-বাদল উপেক্ষা করে তারা ফসল উৎপাদন করে দেশের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করে যাচ্ছে। বর্তমানে কৃষি খাতের দেশের যে অগ্রগতি বা খাদ্য উদ্বৃত্ত সেটা কৃষকের অবদান। তারাই আমাদের অন্নের যোগানদাতা । বদলে যাওয়া আবহাওয়া, বৈশ্বিক অর্থনীতির ভীত দুর্বল হওয়া, খাদ্য সংকটের আশঙ্কার প্রেক্ষাপটে কৃষি ও কৃষকের ভূমিকা খুবই গুরত্বপূর্ণ। প্রকৃত পক্ষে এরাই সমাজ ও রাষ্ট্রের শক্তি। পৃথিবীর যেকোনো রাষ্ট্রে মাটি, পানি এবং মানব সম্পদ হচ্ছে শ্রেষ্ঠ সম্পদ। বাংলাদেশও তার ব্যতিক্রম নয়। এ তিন সম্পদের পরিকল্পনা মোতাবেক সুষ্ঠু ব্যবহারই নির্ভর করছে দেশের আর্থসামাজিক উন্নয়ন তথা দেশের অগ্রগতি সমৃদ্ধি। আর বাংলাদেশ কৃষিপ্রধান দেশ হওয়ায় এর যথেষ্ট গুরত্ব বয়েছে। কেননা এ মাটি থেকেই উৎপাদিত পণ্য সমাগ্রী যেমন আমাদের ক্ষুধা নিবারণ করে তেমনি বিদেশে রপ্তানি করেও বৈদেশিক মুদ্রা অর্জিত হয়। এক্ষেত্রে কৃষকই হচ্ছে এর মূল নায়ক।
কিন্তু দুর্ভাগ্য, অধিকাংশ সময় ফসলের ন্যায্য মূল্য পাননা। অথচ বাংলাদেশের কৃষি যেভাবে অগ্রগতি হয়েছে সে অনুযায়ী আমাদের কৃষকের উন্নয়ন হয়নি। আজও সহজ শর্তে কৃষি ঋণের কোনো ব্যবস্থা নেই। কিন্তু সময়; এসেছে কৃষি নিয়ে, কৃষক নিয়ে তাদের প্রাপ্য মর্যাদা নিয়ে ভাবনার। আমাদের খাদ্যের যোগানদাতা হিসাবে আগামীর সম্ভাবনা নিয়ে তাদের সম্মানিত করা। বাংলাদেশের কৃষক বিশ্বসেরা। প্রতিকুল আবহাওয়ায় তারা পাথরেও ফুল ফোটাতে জানে। তাদের বুদ্ধি, মেধা, পরিশ্রমের মূল্য অপরিসীম। তাদের অবদান অনস্বীকার্য। তাই কৃষকের উৎপাদিত পণ্যে যেন তাদের লোকসান গুনতে না হয়। এ বিষয়ে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান কৃষকের স্বার্থ রক্ষা করবেন বলে আমরা আশাবাদী।
লেখকঃ সহকারী শিক্ষক (অব:) চামবল উচ্চ বিদ্যালয়, দুপচাঁচিয়া, বগুড়া
[email protected] ০১৭১৯-৫৩৬২৩১