বগুড়ার নন্দীগ্রামে স্কুলছাত্রীকে জোড় করে ইজিবাইকে তোলার চেষ্টা

বগুড়ার নন্দীগ্রামে স্কুলছাত্রীকে জোড় করে ইজিবাইকে তোলার চেষ্টা

নন্দীগ্রাম (বগুড়া) প্রতিনিধি: বগুড়ার নন্দীগ্রামে টিফিন শেষে বিদ্যালয়ে ফেরার পথে চতুর্থ শ্রেণির এক ছাত্রীকে বিস্কুট-চকলেটের লোভ দেখিয়ে ইজিবাইকে তুলে নেওয়ার চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। তবে শিশুটি দৌড়ে বিদ্যালয়ে ফিরে আসায় কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। আজ মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) বেলা পৌনে ২টার দিকে উপজেলার ভাটরা ইউনিয়নের ভাটরা-নাগরা আঞ্চলিক সড়কের ফরহাদের বাড়ির মোড়ের নির্জন এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, প্রতিদিনের মতো টিফিনের সময় বাড়িতে খাবার খেতে যায় ভাটরা আদর্শ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির ওই শিক্ষার্থী। তার বাড়ি বিদ্যালয়ের পার্শ্ববর্তী নাগরা গ্রামে। প্রতিদিনের মতো মঙ্গলবার টিফিনের সময় বাড়িতে গিয়ে খাবার খেয়ে ভাটরা-নাগরা আঞ্চলিক সড়ক দিয়ে বিদ্যালয়ে ফিরছিল সে।

পথে ফরহাদের বাড়ির মোড়ের নির্জন এলাকায় একটি ইজিবাইক তার সামনে এসে দাঁড়ায়। শিশুটির ভাষ্য, ইজিবাইকে একজন পুরুষ চালক, কালো বোরকা পরা একজন নারী ও আরও একজন ব্যক্তি ছিলেন। তারা তাকে ইজিবাইকে উঠতে বলে।

এতে সে রাজি না হলে বিস্কুট, চকলেটসহ বিভিন্ন খাবার লোভ দেখায় তাকে। তারপরও সে রাজি না হলে ওই শিক্ষার্থীকে টেনে ইজিবাইকে তোলার চেষ্টা করা হয় বলে অভিযোগ করেছে শিশুটি। একপর্যায়ে শিশুটি চিৎকার শুরু করলে তারা তাকে ছেড়ে দেয়। পরে সে দৌড়ে বিদ্যালয়ে ফিরে এসে  শিক্ষকদের কাছে ঘটনাটি জানায়।

খবর পেয়ে বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা মোটরসাইকেল নিয়ে আশপাশের বিভিন্ন সড়কে ইজিবাইকটি খোঁজ করেন। পরে স্থানীয়দের কাছ থেকে তারা জানতে পারেন, ইজিবাইকটি ভাটরা ইউনিয়নের খড়নার মাথা থেকে গোয়ালগাড়ির কাঁচা সড়কের দিকে চলে গেছে। ভাটরা আদর্শ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক তাছলিমা খাতুন বলেন, ছাত্রীটি বিদ্যালয়ে ফিরে এসে ঘটনাটি আমাদের জানায়।

বিষয়টি জানার পর শিক্ষকরা দ্রুত বিভিন্ন দিকে ইজিবাইকটি খোঁজাখুঁজি করেন। এ ঘটনায় আমরা উদ্বিগ্ন। শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা এসএম সারওয়ার জাহান জানান, বিষয়টি আমার জানা নেই। তবে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হবে।

শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার বিষয়ে শিক্ষক ও অভিভাবকদের আরও সতর্ক থাকতে বলা হবে। নন্দীগ্রাম থানার উপপরিদর্শক সাম মোহাম্মাদ জানান, এ ঘটনায় থানায় এখন পর্যন্ত কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

পোস্ট লিংক : https://karatoa.com.bd/article/182965