তীব্র গ্যাস সংকট ঢাবির হলগুলোর ক্যান্টিনে
ঢাবি প্রতিনিধি : রাজধানীর বিভিন্ন এলাকার মতো ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হলগুলোর ক্যান্টিন ও ডাইনিংয়েও তীব্র গ্যাস সংকট দেখা দিয়েছে। গ্যাসের সরবরাহ না থাকায় অনেক ক্যান্টিনে লাকড়ির চুলায় রান্না করতে হচ্ছে। এতে রান্নায় বেশি সময় লাগার পাশাপাশি ক্যান্টিনগুলোর পরিচালন ব্যয় বেড়েছে। ফলে খাবারের মান ও পদসংখ্যা কমার পাশাপাশি কোথাও কোথাও দাম বাড়ানোর চিন্তাও করছেন ক্যান্টিন মালিকরা।
সরেজমিনে কয়েকটি হলের ক্যান্টিন ও ডাইনিং ঘুরে দেখা যায়, গ্যাস না থাকায় লাকড়ির চুলায় রান্না চলছে। সংশ্লিষ্টরা জানান, ক্যান্টিনভেদে মাসে প্রায় ৪০ থেকে ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত অতিরিক্ত ব্যয় হচ্ছে। এক ক্যান্টিন মালিক জানান, প্রতিদিন দুই থেকে তিন মণ লাকড়ি প্রয়োজন হচ্ছে, এতে মাসে প্রায় ৪৫ হাজার টাকা বাড়তি খরচ হচ্ছে।
শিক্ষার্থীরা বলছেন, বাড়তি জ্বালানি ব্যয়ের চাপ শেষ পর্যন্ত তাদের ওপরই পড়ছে। লাকড়ির চুলায় রান্নার কারণে খাবার পরিবেশনে দেরি হচ্ছে এবং মান ও পদসংখ্যাও কমেছে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী তাসনিম আক্তার বলেন, “গ্যাসের অপ্রতুলতার কারণে ক্যান্টিনগুলোকে বাড়তি অর্থ ব্যয় করে লাকড়ি কিনতে হচ্ছে। শেষ পর্যন্ত খাবারের দাম বাড়িয়ে শিক্ষার্থীদের ওপরই এর চাপ পড়বে।” সংকটকালীন সময়ে ক্যান্টিনগুলোকে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সাময়িক ভর্তুকি দেওয়ার দাবি জানান তিনি।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) জিএস এসএম ফরহাদ বলেন, “গ্যাস সংকটের কারণে ক্যান্টিনগুলোতে বাড়তি খরচ হচ্ছে। আমরা প্রশাসনকে সংকটকালীন সময়ে ভর্তুকির ব্যবস্থা করতে বলেছি।” প্রশাসন এক সপ্তাহের মধ্যে সংকট সমাধানের উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানিয়েছে বলেও জানান তিনি।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান প্রকৌশলী কাজী আকরাম হোসেন বলেন, গ্যাস সংকটের বিষয়টি জানিয়ে তিতাস কর্তৃপক্ষকে চিঠি দেওয়া হয়েছে। তবে এটি জাতীয় সমস্যা হওয়ায় এর সমাধান জাতীয় পর্যায়েই করতে হবে।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভিসি (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আলমোজাদ্দেদী আলফেছানী বলেন, “হলগুলোর ক্যান্টিনে গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে প্রকৌশল দপ্তরের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। সংকট বাড়লে শিক্ষার্থীদের স্বার্থে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
দীর্ঘদিন গ্যাস সংকট চলতে থাকলে ক্যান্টিনের পরিচালন ব্যয় আরও বাড়ার পাশাপাশি খাবারের দাম ও মানেও নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন শিক্ষার্থীরা।
পোস্ট লিংক : https://karatoa.com.bd/article/182894