বাস ভাড়া দেওয়ার সময় টাকা দেখে ফেলায় খুন ইসমাইল

বাস ভাড়া দেওয়ার সময় টাকা দেখে ফেলায় খুন ইসমাইল

বাসের ভাড়া নেয়ার সময় ইসমাইল হোসেনের কাছে থাকা টাকা দেখে ফেলেছিলেন ‘রাজ ক্লাসিক’ বাসের সুপারভাইজার সাজু। সেই টাকা হাতিয়ে নিতে চালক ও হেলপারের সঙ্গে করেন পরিকল্পনা। পরে ইসমাইলকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে টাকা লুটের পর মরদেহ ফেলে দেন এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়েতে।

এ ঘটনায় তিনজনকে গ্রেপ্তারের পর আজ রবিবার (৬ সেপ্টেম্বর) ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানিয়েছেন ডিএমপি’র যুগ্ম কমিশনার (ক্রাইম) মো. ফারুক হোসেন। গ্রেপ্তাকৃতরা হলেন-রাজ ক্লাসিক বাসের চালক সোহেল রানা (৪১), সুপারভাইজার সাজু ওরফে লিমন (২৬) ও হেলপার মো. মনির হোসেন (১৯)। 

যুগ্ম কমিশনার (ক্রাইম) ফারুক হোসেন জানান, ইসমাইল হোসেন জামালপুরের নিজ গ্রাম থেকে জমি বিক্রির ৫ লাখ টাকা সঙ্গে নিয়ে গাজীপুরের কাশিমপুরে যাওয়ার জন্য রওনা হয়েছিলেন। তার ছেলে হাসান জিরানী বাসস্ট্যান্ডে বাবার জন্য অপেক্ষা করছিলেন, কিন্তু তার মোবাইল ফোন বন্ধ ছিল। ইসমাইল নিখোঁজ হওয়ার খবর জানার পর এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের বিভিন্ন সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে বনানী থানা পুলিশ। এক পর্যায়ে রাজ ক্লাসিক নামে একটি বাসের গতিবিধি সন্দেহজনক মনে হলে বাসটির সুপারভাইজার সাজু ওরফে লিমন এবং হেলপার মনির হোসেনকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে বাসের চালক সোহেল রানাকেও গ্রেপ্তার করে পুলিশ

পুলিশ কর্মকর্তা ফারুক জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন গ্রেপ্তাররা। জিজ্ঞাসাবাদে তারা জানিয়েছেন, গত শুক্রবার ভোর সাড়ে ৪টার দিকে জামালপুরের দিকপাই বাসস্ট্যান্ড থেকে ইসমাইলকে বাসে তোলা হয়। এক পর্যায়ে সাজু ভুক্তভোগীর কাছে বাসের ভাড়া নেওয়ার সময় তার কাছে থাকা টাকা দেখে ফেলেন। বিষয়টি তিনি বাসচালককে জানান। পরে বাসচালক ইসমাইলের কাছ থেকে টাকাগুলো হাতিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা করেন।

তিনি আরও জানান, পরিকল্পনা অনুযায়ী বাসের বাকি যাত্রীদের গাজীপুরের বিভিন্ন এলাকায় নামিয়ে দিলেও ইসমাইলকে নামানো হয়নি। তাকে নিয়ে বাসটি ঢাকার দিকে আসতে থাকে। এক পর্যায়ে সুপারভাইজার এবং হেলপার মিলে ইসমাইলের মুখ এবং হাত স্কচটেপ দিয়ে বেঁধে ফেলেন এবং গলায় গামছা পেঁচিয়ে মৃত্যু নিশ্চিত করা হয়। এই পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, ইসমাইলের মৃত্যু নিশ্চিত করে তারা এয়ারপোর্ট থেকে এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে দিয়ে বনানীতে আসেন। সেখান থেকে ইউটার্ন নিয়ে উল্টো পথে ফের এয়ারপোর্টের দিকে যাওয়ার ইসমাইলের মরদেহ ফেলে রেখে যান। ইসমাইলের কাছে ৫ লাখ টাকা থাকলেও গ্রেপ্তাররা জিজ্ঞাসাবাদে পুরো টাকা নেওয়ার কথা স্বীকার করেননি। তারা পুলিশকে বলেছেন, আড়াই লাখ টাকার মতো তারা নিয়েছেন।

ভুক্তভোগী বাসে একমাত্র যাত্রী ছিল কিনা—এমন প্রশ্নের জবাবে ফারুক বলেন, ভুক্তভোগী ইসমাইলকে আসামিরা ঘুমিয়ে যেতে বলেন। তাকে বলা হয়, নির্ধারিত স্থানে পৌঁছলে তাকে ঘুম থেকে তুলে দেওয়া হবে। ইসমাইল ঘুমিয়ে গেলে বাসের অন্যযাত্রীদের নির্ধারিত স্থানে নামিয়ে দেওয়া হয়। এবং ভুক্তভোগীকে ঘুমিয়ে থাকার সুযোগ নিয়ে তাকে নির্ধারিত স্থানে না নামিয়ে সুযোগ বুঝে এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটানো হয়।

গত শুক্রবার সকালে বনানীর এয়ারপোর্টগামী এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের ওপর স্টেডিয়াম সংলগ্ন এলাকায় একটি মরদেহ পড়ে আছে বলে খবর পায় পুলিশ। পরে মরদেহটি উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়। মৃতের মুখ ও দুই হাতে স্কচটেপ পেঁচানো ছিল এবং গলায় ছিল কালো দাগ। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় নিহতের নাম ইসমাইল হোসেন (৪৯) বলে জানা যায়। পরে পরিবারের সদস্যরা লাশ শনাক্ত করেন। এ ঘটনায় বনানী থানায় মামলা করেন নিহতের ছেলে।

পোস্ট লিংক : https://karatoa.com.bd/article/182676