আজ সালমান শাহর ৩০তম মৃত্যুবার্ষিকী

আজ সালমান শাহর ৩০তম মৃত্যুবার্ষিকী

বিনোদন ডেস্কঢাকাই চলচ্চিত্রের তুমুল জনপ্রিয় নায়ক সালমান শাহ। রূপালি পর্দায় তাঁর আবির্ভাব ছিল যেন ধূমকেতুর মতো। ‎১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর মাত্র ২৪ বছর বয়সে মৃত্যুবরণ করেন সালমান শাহ। তাঁর আকস্মিক মৃত্যু তখন পুরো চলচ্চিত্র অঙ্গন ও অসংখ্য ভক্তকে স্তব্ধ করে দেয়।

মৃত্যুর পর থেকেই ঘটনাটি নিয়ে তৈরি হয় নানা প্রশ্ন ও আলোচনা। দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও সালমান শাহর মৃত্যুরহস্য নিয়ে মানুষের আগ্রহ এখনো শেষ হয়নি।

সালমান শাহর পরিবারের পক্ষ থেকেও দীর্ঘদিন ধরে তাঁর মৃত্যুকে স্বাভাবিক মৃত্যু নয়, বরং হত্যাকাণ্ড হিসেবে দাবি করা হয়ে আসছে। বিশেষ করে তাঁর মা নীলা চৌধুরী ছেলের মৃত্যুর প্রকৃত রহস্য উদঘাটন এবং ন্যায়বিচারের দাবিতে দীর্ঘদিন ধরে সোচ্চার রয়েছেন।

পরিবারের একের পর এক নারাজি ও দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের পর আদালতের নির্দেশে নতুন করে গতি পেয়েছে মামলাটি।​দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের পরিপ্রেক্ষিতে গত বছরের ২০ অক্টোবর আদালতের আদেশে রমনা থানায় সালমানের সাবেক স্ত্রী সামীরা হকসহ ১১ জনকে আসামি করে নতুন করে হত্যা মামলা দায়ের করেন সালমান শাহর মামা মোহাম্মদ আলমগীর কুমকুম। বর্তমানে মামলাটি তদন্ত করছে সিআইডি।

সালমান শাহ- এর প্রকৃত নাম শাহরিয়ার চৌধুরী ইমন। জন্ম ১৯৭১ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর, সিলেটে। এই নায়ক মাত্র সাড়ে তিন বছরের মধ্যে ২৭টি চলচ্চিত্রে অভিনয় করে এক অনন্য ইতিহাস গড়েছিলেন। বলা হয়, বাংলা সিনেমায় নতুন একটি অধ্যায় শুরু হয়েছিলো তার আগমনে।

সালমান শাহ অভিনীত ‘কেয়ামত থেকে কেয়ামত’, ‘তোমাকে চাই’, ‘স্বপ্নের ঠিকানা’, ‘অন্তরে অন্তরে’, ‘দেনমোহর’, ‘প্রিয়জন’সহ একের পর এক হিট সিনেমা উপহার দিয়ে দর্শকদের হৃদয়ে চিরস্থায়ী জায়গা করে নিয়েছিলেন তিনি।

মাত্র সাড়ে তিন বছরের সময়ের চলচ্চিত্র ক্যারিয়ারেই সালমান শাহ হয়ে উঠেছিলেন তুমুল জনপ্রিয়। তাঁর অভিনয়, পোশাক, চুলের স্টাইল, কথা বলার ধরন ও ব্যক্তিত্ব-সবকিছুই নব্বইয়ের দশকের তরুণদের মধ্যে ব্যাপক প্রভাব ফেলেছিল। তাঁর সঙ্গে জুটি বেঁধে অভিনয় করা নায়িকাদের সিনেমাগুলোও পেয়েছিল দর্শকের বিপুল সাড়া।

সালমান শাহ শুধু একজন সফল নায়ক ছিলেন না; তিনি বদলে দিয়েছিলেন ঢাকাই চলচ্চিত্রের তারকাখ্যাতির সংজ্ঞা। তাঁর জনপ্রিয়তা ছিল সিনেমার পর্দা ছাড়িয়ে বাস্তব জীবনেও। মৃত্যুর পরও তাঁর সেই জনপ্রিয়তায় ভাটা পড়েনি। বরং সময় যত গড়িয়েছে, নতুন প্রজন্মের কাছেও তিনি হয়ে উঠেছেন এক নস্টালজিক তারকা। ‎তার মৃত্যুর তিন দশক পরও ঢালিউডে সালমান শাহর মতো তারকা-উন্মাদনা তৈরি করতে পেরেছেন-এমন উদাহরণ খুব কম। তার অভিনীত সিনেমা, গান ও চরিত্র এখনো দর্শকের স্মৃতিতে জীবন্ত।

‎সময়ের স্রোতে অনেক তারকা এসেছেন, অনেকে হারিয়েও গেছেন। কিন্তু সালমান শাহ যেন ব্যতিক্রম। মাত্র ২৪ বছরের জীবনে এবং স্বল্প সময়ের ক্যারিয়ারে যে উজ্জ্বল ছাপ তিনি রেখে গেছেন, তিন দশক পরও তা মুছে যায়নি। সালমান শাহ নেই-কিন্তু ঢালিউডের আকাশে তার সেই তারকা-দ্যুতি এখনো ঠিক আগের মতোই উজ্জ্বল।

পোস্ট লিংক : https://karatoa.com.bd/article/182639