রাজশাহীতে কর্ণহার থানার সামনে মশাল মিছিলের পর পুলিশি মামলা, গ্রেফতার ৩
রাজশাহী প্রতিনিধি: রাজশাহীর কর্ণহার থানার সামনে সদ্য পদত্যাগ করা এক তাঁতীদল নেতার নেতৃত্বে বিক্ষোভ ও মশাল মিছিলের ঘটনায় পুলিশি কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। ওই মামলায় তিনজনকে গ্রেফতার দেখিয়ে আজ শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) দুপুরে আদালতে পাঠানো হয়েছে।
গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের (আরএমপি) কর্ণহার থানায় মামলাটি দায়ের করা হয়। এতে ২০ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরও ৩০ থেকে ৪০ জনকে আসামি করা হয়েছে। মামলায় গত ২৮ আগস্ট দিবাগত রাতে পুলিশের সরকারি কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে। গ্রেফতারকৃতরা হলো শিশাপাড়া গ্রামের ছাত্রদলকর্মী নাজমুল হোসেন, সরিষাকুণ্ডি গ্রামের মো. রানা ও মো. জনি।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত মঙ্গলবার সন্ধ্যায় কর্ণহার থানার সামনে বিক্ষোভ ও মশাল মিছিল হয়। এতে নেতৃত্ব দেন জেলা তাঁতী দলের সদ্য পদত্যাগ করা সাংগঠনিক সম্পাদক সাদমান সাকিব। তিনি বর্তমানে ছাত্রদলকে সংগঠিত করার চেষ্টা চালালেও দলটিতে তার সুনির্দিষ্ট কোনো পদ নেই।
বিক্ষোভকালে সাদমান সাকিব অভিযোগ করেছিলেন, গত ২৮ আগস্ট মধ্যরাতে তার দুই কর্মী নাজমুল ও রেফাজুল তাকে বাড়িতে নামিয়ে দিয়ে ফেরার পথে শিশাপাড়া ঈদগাহের সামনে কর্ণহার থানা পুলিশের একটি দল তাদের থামিয়ে দুর্ব্যবহার করে।
এ সময় তার নাম শুনে পুলিশ আপত্তিকর মন্তব্য করে বলেও তিনি দাবি করেন। পরদিন পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল, পুলিশ ওই রাতে সাদমান সাকিবকে চিনতে না পারার ভুলের কারণে এ বিক্ষোভ ও মশাল মিছিল হয়। এই ঘটনার দুদিন পর পুলিশ গত ২৮ আগস্ট রাতের ঘটনায় সরকারি কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগে মামলা করে।
আটকের ২৪ ঘণ্টা পর আদালতে পাঠানোর অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে কর্ণহার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাবিবুর রহমান বলেন, “জিজ্ঞাসাবাদ করে নাম-ঠিকানা যাচাই করতে হয়। সকালে আটক করা হলেও তখন তাদের গ্রেফতার দেখানো হয়নি। মামলা হওয়ার পর রাতে তাদের গ্রেফতার দেখানো হয়, ফলে আইনি কোনো ব্যত্যয় ঘটেনি।”
মশাল মিছিলের সাথে এই মামলার কোনো সম্পর্ক নেই দাবি করে ওসি আরও বলেন, “মধ্যরাতে পুলিশ নিয়মিত আইন অনুযায়ী দায়িত্ব পালনকালে তারা সরকারি কাজে বাধা দেন। এ কারণেই মূলত মামলাটি রেকর্ড করা হয়েছে।”
পোস্ট লিংক : https://karatoa.com.bd/article/182501