নজরদারির ঘাটতিতে বাড়ছে জনস্বাস্থ্য ঝুঁকি
দেবীগঞ্জ (পঞ্চগড়) প্রতিনিধি: পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জে পশু জবাইয়ের আগে স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও সনদ নেওয়ার নিয়ম থাকলেও তা মানছেন না অনেক মাংস ব্যবসায়ী। এতে স্বাস্থ্য পরীক্ষা ছাড়াই অসুস্থ বা রোগাক্রান্ত পশু জবাই করে মাংস বাজারজাত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
তথ্য অনুযায়ী, চিলাহাটি ইউনিয়নের মো. আজিম উদ্দিন সর্বশেষ স্বাস্থ্য সনদ নিয়েছেন ১৬ আগস্ট এবং রাজু ইসলাম নিয়েছেন ৭ আগস্ট। অর্থাৎ ২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তাদের সর্বশেষ সনদ নেওয়ার পর যথাক্রমে প্রায় ১৭ ও ২৬ দিন পেরিয়ে গেছে। দেবীগঞ্জ পৌর এলাকার এলএসডি মোড়ের ইউসুফ ১৮ আগস্ট এবং মধ্য বাজারের আনিছার ৩০ আগস্ট স্বাস্থ্য সনদ নিয়েছেন। এদিকে এলএসডি মোড় এলাকার ফয়জুল বাইরে থেকে মাংস এনে বিক্রি করছেন বলে নিজেই স্বীকার করেন। অন্যদিকে, সোনাহার ইউনিয়নের তৌহিদুল এবং দণ্ডপাল ইউনিয়নের রনি ইসলাম এখন পর্যন্ত কোনো স্বাস্থ্য সনদ নেননি।
এছাড়া শালডাঙা, পামুলি ও চেংঠী হাজরাডাঙ্গা ইউনিয়নে নিয়মিত গরু জবাই হয় না বলে তথ্য পাওয়া গেছে।
সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, শুধু ব্যবসায়ীদের সচেতন করলেই এ নিয়ম বাস্তবায়ন সম্ভব নয়। নিয়মিত বাজার পরিদর্শন, জবাইয়ের আগে পশুর স্বাস্থ্য পরীক্ষা এবং সনদ যাচাই নিশ্চিত করতে প্রশাসনিক তদারকি প্রয়োজন। তবে উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তরে পর্যাপ্ত জনবল না থাকায় এবং উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে পৌর শহরসহ ইউনিয়নের মাংসের দোকানগুলোতে নিয়মিত নজরদারি করা কঠিন হয়ে পড়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, স্বাস্থ্য পরীক্ষা ছাড়াই অসুস্থ বা রোগাক্রান্ত পশু জবাই, জবাইয়ের পর নির্ধারিত সময়ের মধ্যে মাংস বিক্রি না করা, বাইরে থেকে মাংস এনে বিক্রি করা এবং সংরক্ষণ ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় অনিয়মের অভিযোগও কার্যকরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হয়ে পড়ছে। ভোক্তাদের দাবি, মাংস ব্যবসায়ীদের নিয়মিত স্বাস্থ্য সনদ গ্রহণ নিশ্চিত করতে উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তরের পাশাপাশি উপজেলা প্রশাসনেরও কার্যকর নজরদারি প্রয়োজন।
উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. আখতারুজ্জামান বলেন, জনবল সংকটের কারণে নিয়মিত তদারকি কার্যক্রম কিছুটা বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। এরপরও জবাইয়ের আগে পশুর স্বাস্থ্য সনদ গ্রহণের বিষয়ে ব্যবসায়ীদের উদ্বুদ্ধ করার চেষ্টা করছি। এ কার্যক্রম বাস্তবায়নে উপজেলা প্রশাসনের সহযোগিতা নেওয়া হবে।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার ইন্দ্রজীৎ সাহা বলেন, উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তার সাথে কথা বলব। নিয়মিত পশুর স্বাস্থ্য সনদ গ্রহণের বিষয়টি যেন কার্যকরভাবে প্রচলিত হয়, সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেব।
পোস্ট লিংক : https://karatoa.com.bd/article/182384