শজিমেকে ইন্টার্নদের কর্মবিরতি সাময়িক প্রত্যাহার, ছাত্রদলের ৫ জন বহিষ্কার
অনলাইন ডেস্ক : বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রোগীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে মারামারির ঘটনায় জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের পাঁচ নেতাকর্মীকে বহিষ্কার এবং হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনার পর টানা ৪০ ঘণ্টা ধরে চলা কর্মবিরতি সাময়িকভাবে প্রত্যাহার করেছেন ইন্টার্ন চিকিৎসকেরা।
বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) বিকেলে শজিমেক হাসপাতালের কনফারেন্স রুমে জেলা প্রশাসন, পুলিশ, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ, বিএনপি ও ছাত্রদলের শীর্ষ স্থানীয় নেতাদের দীর্ঘ সাড়ে তিন ঘণ্টার বৈঠক শেষে এ ঘোষণা দেওয়া হয়। কর্মবিরতি সাময়িক প্রত্যাহারের বিষয়টি নিশ্চিত করেন হাসপাতালের ইন্টার্ন চিকিৎসক রিতুল মণ্ডল স্নিগ্ধ।
এর আগে, মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) রাতে মেডিসিন ওয়ার্ডে আব্দুল মালেক (৫৫) নামে এক রোগীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের ওপর রোগীর স্বজনেরা বার্মিজ চাকু ও রড নিয়ে হামলা চালান বলে অভিযোগ ওঠে। এতে অন্তত ২১ জন ইন্টার্ন চিকিৎসক আহত হন এবং চিকিৎসাসামগ্রী ভাঙচুর করা হয়। এ ঘটনার বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) হাসপাতালে ভাঙচুর ও চুরির অভিযোগে থানায় সাতজনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতপরিচয় আসামিদের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়। পুলিশ এ পর্যন্ত ছয়জনকে গ্রেফতার করে বিচারিক আদালতে পাঠিয়েছে।
এদিকে চিকিৎসকদের ওপর সন্ত্রাসী হামলা ও নিরাপত্তার দাবিতে বুধবার থেকে কর্মবিরতি শুরু করেন ইন্টার্ন চিকিৎসকরা। আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় বৃহস্পতিবার সকালে হাসপাতালের বহির্বিভাগের টিকিট কাউন্টার বন্ধ করে অবস্থান নেন আন্দোলনকারীরা। এতে দূর-দূরান্ত থেকে আসা শত শত রোগী ভোগান্তিতে পড়েন। তবে সার্বক্ষণিক চালু ছিল জরুরি বিভাগ।
পরিস্থিতি নিরসনে বৃহস্পতিবার দুপুরে শজিমেক মিলনায়তনে জরুরি বৈঠকে বসেন বগুড়ার জেলা প্রশাসক তৌফিকুর রহমান, পুলিশ সুপার মীর্জা সায়েম মাহমুদ, হাসপাতালের উপ-পরিচালক ডা. মঞ্জুর-এ-মোর্শেদ, রাজশাহী ও বগুড়া জেলা বিএনপির শীর্ষনেতা এবং বিএমএ ও চিকিৎসকদের প্রতিনিধিরা।
বৈঠক চলাকালেই বগুড়া শহর ছাত্রদলের পক্ষ থেকে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে ১৮ নম্বর ওয়ার্ড ছাত্রদলের আহ্বায়ক মো. নাফিউল ইসলাম, সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মো. মনির হোসেন, যুগ্ম আহ্বায়ক মো. প্রান্ত ইসলাম, সদস্য রাকিবুল হাসান রাকিব এবং ১৯ নং ওয়ার্ড ছাত্রদলের সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক এস এম শিহাবকে দল থেকে স্থায়ী বহিষ্কার করা হয়েছে। ঘটনায় যুক্তদের বিরুদ্ধে দলীয় ও আইনি কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন জেলা ছাত্রদলের সভাপতি হাবিবুর রশিদ সন্ধান।
বৈঠক শেষে হাসপাতালের উপ-পরিচালক ডা. মঞ্জুর-এ-মোর্শেদ বলেন, অত্যন্ত সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে জেলা প্রশাসক, পুলিশ প্রশাসন ও রাজনৈতিক অভিভাবকসুলভ নেতাদের উপস্থিতিতে একটি সফল বৈঠক হয়েছে। ইন্টার্ন চিকিৎসকদের দেওয়া দাবির মধ্যে বহিরাগত হামলাকারীদের দলীয় শাস্তি নিশ্চিত করা হয়েছে, হাসপাতালে আর্মড আনসার ও সার্বক্ষণিক পুলিশ ফাঁড়ির প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। এসব আশ্বাসের ভিত্তিতে ইন্টার্ন চিকিৎসকেরা তাদের কর্মবিরতি সাময়িকভাবে প্রত্যাহার করেছে।
পোস্ট লিংক : https://karatoa.com.bd/article/182364