বগুড়া শজিমেক হাসপাতালের বহির্বিভাগের টিকিট কাউন্টার বন্ধ

বগুড়া শজিমেক হাসপাতালের বহির্বিভাগের টিকিট কাউন্টার বন্ধ

শহর প্রতিনিধি : বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালে মঙ্গলবার রাতে রোগীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে স্বজন ও ইন্টার্ন চিকিৎসকদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনার জেরে চার দফা দাবিতে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি অব্যাহত রয়েছে। বৃহস্পতিবার কর্মবিরতির পাশাপাশি হাসপাতালের বহির্বিভাগের টিকিট কাউন্টার বন্ধ হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। এ ছাড়া আন্দোলনরত ইন্টার্ন চিকিৎসকেরা হাসপাতালের উপপরিচালক ডা. মনজুর মোর্শেদের কার্যালয়ে তালা দিয়েছেন।

সূত্র জানায়,আজ বৃহস্পতিবার বেলা ১২টার পর সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা শেষে পরবর্তী কর্মসূচি বা সিদ্ধান্ত জানাবেন আন্দোলনরত ইন্টার্ন চিকিৎসকেরা।

এদিকে, ইন্টার্ন চিকিৎসকদের কর্মবিরতিতে শজিমেক হাসপাতালের চিকিৎসাসেবা ব্যাহত হচ্ছে। ফলে চিকিৎসা নিতে আসা রোগী ও স্বজনদের ভোগান্তি বেড়েছে।

এর আগে বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) দুপুরে কলেজ প্রাঙ্গণে সংবাদ সম্মেলন করে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের পক্ষে ডা. রিতুল মন্ডল স্নিগ্ধ চার দফা দাবি তুলে ধরেন।

দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে—ঘটনায় অভিযুক্ত সব দুষ্কৃতকারীকে গ্রেপ্তার করে আদালতে উপস্থাপন এবং মামলার অগ্রগতি দৃশ্যমান করা; হাসপাতালে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আর্মড পুলিশ বা সমপর্যায়ের নিরাপত্তাব্যবস্থা গ্রহণ; হাসপাতালের মোট শয্যার এক-তৃতীয়াংশের বেশি অতিরিক্ত রোগী ভর্তি না নেওয়া এবং শয্যা বাড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে প্রয়োজনীয় জনবল নিশ্চিত করা; একজন রোগীর সঙ্গে একজনের বেশি অ্যাটেনডেন্ট না রাখা।

অন্যদিকে, মঙ্গলবার রাতের ঘটনায় শজিমেক হাসপাতালের ওয়ার্ড মাস্টার মো. আনোয়ার হোসেন বাদী হয়ে সাতজনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ৮ থেকে ১০ জনকে আসামি করে থানায় মামলা করেন।

মামলার পর ছয়জনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন—বগুড়া মহানগরের ফুলবাড়ি মধ্যপাড়ার মো. সাজুর ছেলে মো. নাফিউল (২৬), একই এলাকার মিজানুর রহমানের ছেলে প্রান্ত (২২), ফুলবাড়ি উত্তরপাড়ার রফিকুল ইসলামের ছেলে এস.এম. সিহাব (১৯), একই এলাকার সবুজ প্রামাণিকের ছেলে রাকিবুল হাসান (১৯), নিশিন্দারা পূর্ব খাঁপাড়ার জাকির হোসেনের ছেলে মো. তানবিন শেখ (২৬) এবং নামাজগড় ভান্ডারি মসজিদ লেনের লোকমান হাকিমের ছেলে বিপ্লব সরদার (২৬)।

বুধবার বিকেলে গ্রেপ্তার ছয়জনকে আদালতে হাজির করা হলে বিচারক তাঁদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

পোস্ট লিংক : https://karatoa.com.bd/article/182313