বেপরোয়া হয়ে উঠছে রাশিয়া: ন্যাটো প্রধান

বেপরোয়া হয়ে উঠছে রাশিয়া: ন্যাটো প্রধান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : রাশিয়া ক্রমেই ‘বেপরোয়া’ হয়ে উঠছে বলে মন্তব্য করেছেন ন্যাটোর মহাসচিব মার্ক রুট। ইউক্রেন যুদ্ধকে কেন্দ্র করে ন্যাটোভুক্ত দেশগুলোর আকাশসীমায় রুশ ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্রের প্রবেশ এবং ন্যাটোর ভূখণ্ডে বিভিন্ন ‘বিধ্বংসী তৎপরতা’ বাড়ার কথা উল্লেখ করে তিনি এ মন্তব্য করেন।

বুধবার ব্রাসেলসে ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ফন ডার লায়েনের সঙ্গে যৌথ সংবাদ সম্মেলনে রুট বলেন, ইউক্রেনের বিরুদ্ধে রাশিয়ার যুদ্ধ চলতে থাকায় দেশটি আরও বেপরোয়া আচরণ করছে। ন্যাটোর পূর্বাঞ্চলীয় সীমান্তে মিত্র দেশগুলোর আকাশসীমায় আগের চেয়ে বেশি ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রবেশ করছে। এতে ঝুঁকি বাড়ছে।

রুট বলেন, বাড়তে থাকা হুমকি মোকাবিলায় ন্যাটো ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) ‘দিনরাত’ কাজ করছে। রাশিয়ার এসব কর্মকাণ্ডের কারণে ন্যাটোভুক্ত দেশগুলোর নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ স্পষ্ট বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

 
 
 

ন্যাটো মহাসচিব আরও অভিযোগ করেন, ইউক্রেনের জন্য প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম তৈরি করা কারখানায় অগ্নিসংযোগ এবং জার্মানির লাইপজিগে রাশিয়ার কথিত ‘হাইব্রিড হামলা’সহ ন্যাটোর ভূখণ্ডকে সরাসরি লক্ষ্য করে বিভিন্ন তৎপরতা চালানো হচ্ছে।

 
 

তিনি বলেন, রাশিয়ার কর্মকাণ্ড ন্যাটোর মিত্রদের মধ্যে বিভাজন তৈরি করবে কিংবা ইউক্রেনের প্রতি তাদের সমর্থন দুর্বল করবে- এমন ধারণা ঠিক নয়।

 

উরসুলা ফন ডার লায়েন বলেন, জার্মানি লাইপজিগ/হালে বিমানবন্দরে সামরিক কাজে ব্যবহৃত সরঞ্জাম দিয়ে কার্গো বিমানগুলোতে হামলার একটি প্রচেষ্টার পেছনে রাশিয়ার সংশ্লিষ্টতা শনাক্ত করেছে। তিনি বলেন, ইউরোপীয় ইউনিয়ন এ ধরনের কর্মকাণ্ড মেনে নেবে না এবং জার্মানির পাশে রয়েছে।

ইইউ কমিশনের প্রেসিডেন্ট আরও জানান, রাশিয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরও কঠোর করতে এবং নিষেধাজ্ঞার ফাঁকফোকর বন্ধ করতে প্রস্তুত রয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন।

এদিকে ইউক্রেন আকাশ প্রতিরক্ষা জোরদারে কয়েক বিলিয়ন ইউরোর নতুন সহায়তা চেয়েছে। এর মধ্যে উন্নত প্যাট্রিয়ট আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাও রয়েছে। ইইউর সদস্য দেশগুলো এ অনুরোধ বিবেচনা করছে বলে জানান ফন ডার লায়েন।

তাদের এ মন্তব্যের একদিন আগে জার্মানি গত মাসে লাইপজিগ বিমানবন্দরে কথিত ড্রোন হামলার চেষ্টার জন্য রাশিয়াকে দায়ী করে। জার্মান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আলেকজান্ডার ডোব্রিন্ট বলেন, তদন্তে হামলার পরিকল্পনার সঙ্গে রুশ গোয়েন্দা সংস্থার সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ পাওয়া গেছে এবং মাঠপর্যায়ের কয়েকজন ব্যক্তি তা বাস্তবায়নের চেষ্টা করেছিল।

লাইপজিগ বিমানবন্দর জার্মানির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কার্গো ও সরবরাহকেন্দ্র। ইউক্রেনের সামরিক সরঞ্জাম পরিবহনেও বিমানবন্দরটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

তবে রাশিয়া এসব অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে। ইউক্রেন-সমর্থক পশ্চিমা দেশগুলোতে হত্যাকাণ্ড, নাশকতা, ড্রোন অনুপ্রবেশ ও গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে মস্কো বলেছে, পশ্চিমা সরকারগুলো রাশিয়াবিরোধী ‘অযৌক্তিক আতঙ্ক’ ছড়াচ্ছে।

পোস্ট লিংক : https://karatoa.com.bd/article/182252