নীলফামারীতে ৭৯৪ বস্তা অবৈধ মজুত সার জব্দ ও জরিমানা গোডাউন সিলগালা
নীলফামারী প্রতিনিধি: কৃষকের জন্য বরাদ্দকৃত সার নিয়ে যখন নানা অভিযোগ, ঠিক তখনই নীলফামারীতে মিললো সার অবৈধ মজুদের সন্ধান। গত সোমবার দুপুর থেকে বিকেল পর্যন্ত জেলা সদরের কচুকাটা বাজারে পৃথক দু’টি গোডাউনে যৌথ অভিযান চালিয়ে মোট ৭৯৪ বস্তা সার জব্দ করেছে সদর উপজেলা প্রশাসন ও সদর উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর।
এ ঘটনায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে দুই ব্যবসায়ীকে নগদ অর্থ জরিমানা করা হয়েছে। উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের যৌথ এ অভিযানে নেতৃত্ব দেন সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোবাশ্বিরা আমাতুল্লাহ।
সদর উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে দুপুরের জেলার সদরের কচুকাটা বাজারের মেসার্স ভাই-ভাই ট্রেডার্সের গোডাউনে এবং একই বাজারের মেসার্স মাস্টার ট্রেডার্সের গোডাউনে যৌথ অভিযান পরিচালনা করে সদর উপজেলা প্রশাসন ও সদর উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর।
অভিযানে মেসার্স ভাই-ভাই ট্রেডার্সের গোডাউন থেকে অবৈধ মজুদ থাকা ইউরিয়া ১৮ বস্তা, ডিএপি ৩৭ বস্তা, টিএসপি ১৯৩ বস্তা এবং এমওপি ৫০০ বস্তাসহ মোট ৭৪৮ বস্তা সার জব্দ করা হয়। এরপর বিকেলে ওই বাজারের মেসার্স মাস্টার ট্রেডার্সের গোডাউনে অভিযান চালিয়ে অবৈধ মজুদ থাকা ইউরিয়া ২২ বস্তা, ডিএপি ১২ বস্তা, টিএসপি ৫ বস্তা এবং এমওপি ৭ বস্তাসহ মোট ৪৬ বস্তা সার জব্দ করা হয়।
সার মজুদসহ অনুমোদনের বৈধ কাগজপত্র না থাকায় সেখানে ভ্রাম্যমাণ আদালত বসিয়ে মেসার্স ভাই-ভাই ট্রেডার্সের মালিক মো. শহিদুল্লাহ ইসলাম জাদুকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে এক মাসের বিনাশ্রম কারাদন্ড এবং মেসার্স মাস্টার ট্রেডার্সের মালিক মো. শাহজাহানকে ৫ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে এক মাসের বিনাশ্রম কারাদন্ডাদেশ প্রদান করে ভ্রাম্যমাণ আদালতের বিচারক নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোবাশ্বিরা আমাতুল্লাহ।
তাৎক্ষণিক জরিমানার অর্থ ভ্রাম্যমাণ আদালতে পরিশোধ করায় ওই দুই ব্যবসায়ী কারাদন্ড থেকে মুক্তি পায়। এসময় জব্দকৃত সারসহ গোডাউন দু’টি সিলগালা করে ভ্রাম্যমাণ আদালত।
নীলফামারী সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. আতিক আহমেদ জানান, ওই দুই ব্যবসায়ী বিএডিসি কিংবা বিসিআইসির পরিবেশক না। দু’জনই কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর কর্তৃক অনুমোদিত খুচরা ও পাইকারি বালাইনাশক বিক্রেতা। বালাইনাশক বিক্রয়ের নিবন্ধন নিয়ে চোরাই পথে এসব সার ক্রয় করে সরকার নির্ধারিত মূল্যের থেকেও দ্বিগুণ দামে কৃষকদের মাঝে বিক্রি করছিল।
সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোবাশ্বিরা আমাতুল্লাহ বলেন, অবৈধ মুজত ও বেশি দামে সার বিক্রির দায়ে সার ব্যবস্থাপনা আইন ২০০৬ এর ১২ ধারায় এবং ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইনের ৪০ ধারায় দুই ব্যবসায়ীকে নগদ অর্থ জরিমানা ও অনাদায়ে এক মাসের বিনাশ্রম কারাদন্ডের রায় প্রদান করা হয়। জব্দকৃত সারগুলো পরবর্তীতে ন্যায্য মূল্যে কৃষকদের মাঝে বিক্রি করে বিক্রয়লব্ধ অর্থ সরকারের কোষাগারে জমা করার জন্য উপজেলা কৃষি কর্মকর্তাকে নির্দেশ প্রদান করা হয়েছে।
পোস্ট লিংক : https://karatoa.com.bd/article/182155