জয়পুরহাটের ৪শ’ শয্যার হাসপাতাল চলছে ১শ’ শয্যার জনবল দিয়ে

জয়পুরহাটের ৪শ’ শয্যার হাসপাতাল চলছে ১শ’ শয্যার জনবল দিয়ে

জয়পুরহাট জেলা প্রতিনিধি : জয়পুরহাট জেনারেল হাসপাতাল ৪শ’ শয্যায় উন্নীত করা হলেও চলছে ১শ’ শয্যার জনবল দিয়ে। ফলে রোগীরা যেমন বঞ্চিত হচ্ছে চিকিৎসা সেবা থেকে তেমন পোহাতে হচ্ছে ভোগান্তি।

গত ২ জুলাই ২৫০ শয্যার জয়পুরহাট জেনারেল হাসপাতালটি ৪০০ শয্যায় উন্নীত করার ঘোষণা দেওয়া হয়। তবে এর আগে ১৯৯৬ সালে হাসপাতালটি ১শ’ শয্যা থেকে ২৫০ শয্যায় উন্নীত করা হলেও এই দীর্ঘ সময় থেকে হাসপাতালটি ১শ’ শয্যার জনবল দিয়েই সেবা কার্যক্রম চলছে।

খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে হাসপাতালে আসন সংখ্যার চেয়ে দ্বিগুন সংখ্যক রোগী ভর্তি থাকে এবং প্রতিদিন শত শতরোগী হাসপাতালের বর্হিবিভাগে চিকিৎসা নিয়ে থাকেন। স্বপ্লসংক্ষক জনবল দিয়ে বিপুল সংখ্যক ওই রোগী সামলাতে হাঁপিয়ে উঠেছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

৪০০ শয্যার জন্য রোগীদের খাবার বরাদ্দ হলেও জনবল বৃদ্ধি না হয়ায় সংকটে পড়েছে চিকিৎসাসেবা। জয়পুহাট জেলার রোগী ছাড়াওযোগাযোগের সুবিধার কারণে দিনাজপুরের হাকিমপুর, নওগাঁ জেলার ধামুইরহাট ও বদলগাছি এবং বগুড়ার শিবগঞ্জসহ আশেপাশের প্রচুর সংখ্যক রোগী চিকিৎসা নিতে এই হাসপাতালে আসে। প্রতিদিন রোগীভর্তি থাকে প্রায় ৭০০ থেকে ৮০০ জন।

ফলে অতিরিক্ত রোগীদের ওয়ার্ডের মেঝে, বারান্দা ও করিডোরে চিকিৎসা দিতে হয়। এছাড়া প্রতিদিন বর্হিবিভাগে প্রায় ১২শ’ থেকে ১৬শ’ রোগী চিকিৎসা নিয়ে থাকেন। সল্পসংখ্যক চিকিৎসক, নার্স ও জনবল দিয়ে চিকিৎসা সেবা দিতে দারুনভাবে বেগ পেতে হচ্ছে। ওই হাসপাতালে বর্তমানে মাত্র ৩১ জন চিকিৎসক, ১২৫ জন নার্স  ও ৪৫ জন কর্মচারী রয়েছে।এদিকে নাক কান গলার বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক নেই, নেই কিডনি রোগের বিশেষজ্ঞ মেডিসিনের চিকিৎসক নেফ্রোলজিষ্ট।

২০২২ সাল থেকে ওই হাসপাতলে কিডনি রোগীদের ডায়ালাইসিসের ম্যাধ্যমে চিকিৎসা প্রদান করা হচ্ছে। কিডনি ফেলিয়র ১০ জন রোগীকে প্রতিদিন ডায়ালাইসিসের ম্যাধ্যমে চিকিৎসা দেওয়া হয়। কিন্তু শুরু থেকেই কিডনি মেডিসিন বিশেষজ্ঞ নেফ্রোলজিষ্ট নাই। অতি দ্রুত ১জন নেফ্রোলজিষ্ট নিয়োগ জরুরী হয়ে পড়েছে বলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানান।

এদিকে ৪ বছর আগে হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য আইসিইউইইনট প্রস্তুত করা হলেও শুধুমাত্র ১জন অ্যানেসথিসিয়া চিকিৎসক না থাকায় আইসিইউ চালু করা সম্ভব হচ্ছে না। ফলে এই হাসপাতালে ভর্তিকৃত আইসিইউপ্রয়োজনীয় রোগীদের বগুড়া জিয়াউর রহমান মেডিকেল হাসপতালসহ বিভিন্ন হাসপাতালে রেফার্ড করা হয়ে থাকে।

স্পর্শকাতর ওই রোগীদের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে আইসিইউ এর জন্য অন্যত্র নিতে হয়। ফলে অনেক রোগী রাস্তাতেই মারা যায়। বিশেষ করে গরীব রোগীদের জন্য বিষয়টি কঠিন হয়ে পড়ে। সিটিস্ক্যান ও এমআরআই মেশিনসহ আধুনিক যন্ত্রপাতি না থাকায় রোগীরা কাঙ্খিত সেবা পাচ্ছে না বলেও রোগীরা জানান। আবার হাসপাতালে অনেক প্যাথলজিক্যাল পরীক্ষার ব্যবস্থা না থাকায় রোগীদেরবাইরে থেকে ওইসব পরীক্ষা করে আনতে হয়।

এছাড়া ওষুধেরও সংকট রয়েছে বলে রোগীরা জানিয়েছে। জয়পুরহাট সদর উপজেলার দাদরা জন্তিগ্রামের ভর্তি হওয়া রোগী মানিক জানান তাকে সিরাপ ও  ইনজেকশন বাইরে থেকে কিনতে হচ্ছে। একাধিক রোগীর সাথে আলাপ করে ওষুধের সংকটের বিষয় জানা যায়। হাসপাতালের তত্ববধায়ক সরদার রাশেদ মোবারক জানান, প্রয়োজনীয় চিকিৎসক, নার্স ও জনবল চেয়ে চাহিদাপত্র পাঠানো হয়েছে। চাহিদা মোতাবেক সব এলেই রোগীরা কাঙ্খিত সেবা পাবে।

পোস্ট লিংক : https://karatoa.com.bd/article/182112