গোসলের পরও শরীর থেকে ঘামের দুর্গন্ধ আসে কেন?
লাইফস্টাইল ডেস্ক : গোসল করার পর শরীর পরিষ্কার ও সতেজ থাকার কথা। কিন্তু অনেকের ক্ষেত্রে দেখা যায়, গোসলের কিছুক্ষণ পরই শরীর থেকে আবার ঘামের মতো গন্ধ আসতে শুরু করেছে। এতে যেমন অস্বস্তি হয়, তেমনি বাইরে বা কর্মক্ষেত্রেও বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়তে হতে পারে। তবে এর জন্য শুধু ঘামকে দায়ী করা ঠিক নয়। ত্বকের ব্যাকটেরিয়া, শরীরের আর্দ্রতা, পোশাক, পরিচ্ছন্নতার অভ্যাস থেকে শুরু করে কিছু শারীরিক কারণও এর পেছনে থাকতে পারে।
ঘাম থেকেই দুর্গন্ধ হয়
সাধারণভাবে ঘাম নিজে তীব্র দুর্গন্ধযুক্ত নয়। ত্বকে থাকা ব্যাকটেরিয়া ঘামের বিভিন্ন উপাদান ভেঙে ফেললে দুর্গন্ধ তৈরি হতে পারে। বগল, কুঁচকি ও শরীরের অন্যান্য ভাঁজযুক্ত জায়গায় ঘাম বেশি জমে বলে এসব স্থান থেকে গন্ধও তুলনামূলক বেশি হতে পারে। গোসলের পর শরীরের এসব অংশে আর্দ্রতা রয়ে গেলে এবং আবার ঘাম হলে কিছু সময়ের মধ্যেই দুর্গন্ধ ফিরে আসতে পারে।
গোসলের সময় ভালোভাবে পরিষ্কার না করলে
দ্রুত গোসল করতে গিয়ে শরীরের কিছু অংশ অনেক সময় ঠিকমতো পরিষ্কার করা হয় না। বিশেষ করে বগল, ঘাড়, কুঁচকি, পায়ের আঙুলের ফাঁক ও অন্যান্য ভাঁজে ঘাম, ত্বকের তেল ও মৃত কোষ জমে থাকতে পারে।
তাই শুধু পানি দিয়ে শরীর ভিজিয়ে নেওয়া যথেষ্ট নয়। ঘাম বেশি হয় এমন জায়গাগুলো মৃদু ক্লিনজার বা সাবান দিয়ে পরিষ্কার করে ভালোভাবে ধুয়ে নিতে হবে।
সাবান ও স্ক্রাবার ব্যবহারে সতর্কতা
দুর্গন্ধ দূর করতে অতিরিক্ত শক্তিশালী বা অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল সাবান বারবার ব্যবহার করাই যে ভালো, এমন নয়। অতিরিক্ত পরিষ্কার করার ফলে ত্বকের স্বাভাবিক আর্দ্রতা ও সুরক্ষাব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে শুষ্কতা বা জ্বালাপোড়া তৈরি হতে পারে। তাই ত্বকের ধরন অনুযায়ী মৃদু ক্লিনজার ব্যবহার করাই ভালো।
এছাড়া লুফা দীর্ঘ সময় ভেজা অবস্থায় পড়ে থাকলে তাতে জীবাণু ও মৃত ত্বকের অংশ জমতে পারে। ব্যবহার করলে সেটি নিয়মিত পরিষ্কার ও সম্পূর্ণ শুকিয়ে রাখা জরুরি। সংবেদনশীল ত্বকে অতিরিক্ত ঘষাঘষি না করাই ভালো।
গোসলের পর শরীর ভালোভাবে শুকানো
গোসল শেষে শরীর পুরোপুরি না শুকিয়েই পোশাক পরে ফেললে আর্দ্রতা আটকে থাকতে পারে। বিশেষ করে বগল, কুঁচকি ও পায়ের আঙুলের মাঝের অংশ ভালোভাবে শুকানো জরুরি।
পরিষ্কার তোয়ালে দিয়ে আলতোভাবে শরীর মুছে সম্পূর্ণ শুকিয়ে তারপর পোশাক পরার অভ্যাস করুন। তোয়ালেটিও নিয়মিত ধুয়ে ভালোভাবে শুকিয়ে ব্যবহার করতে হবে।
পরিষ্কার শরীরে পুরোনো পোশাক পরলে
অনেক সময় দুর্গন্ধের উৎস শরীর নয়, পোশাক। ঘামে ভেজা টি-শার্ট, অন্তর্বাস, মোজা বা ব্যায়ামের পোশাকে ঘাম ও ব্যাকটেরিয়ার কারণে গন্ধ আটকে থাকতে পারে। গোসলের পর সেই পোশাক পরলে পরিষ্কার শরীরেও আবার দুর্গন্ধ অনুভূত হতে পারে।
তাই প্রতিদিন পরিষ্কার পোশাক পরুন। ঘামে ভেজা পোশাক দীর্ঘ সময় পরে না থেকে ধুয়ে ভালোভাবে শুকিয়ে ব্যবহার করুন। তোয়ালে, বিছানার চাদর ও শরীর মুছতে ব্যবহৃত কাপড়ও নিয়মিত পরিষ্কার করা প্রয়োজন।
ডিওডোরেন্ট শরীরের গন্ধ কমাতে বা ঢাকতে সাহায্য করতে পারে। অন্যদিকে অ্যান্টিপার্সপিরেন্ট ঘাম কমাতে কাজ করে। তবে এগুলো দুর্গন্ধের মূল কারণ সবসময় দূর করে না।
তাই শুধু সুগন্ধি বা ডিওডোরেন্টের ওপর নির্ভর না করে প্রথমে শরীর পরিষ্কার রাখা, ভালোভাবে শুকানো এবং পরিষ্কার পোশাক পরার বিষয়টি নিশ্চিত করা জরুরি। কোনো পণ্য ব্যবহারের পর ত্বকে জ্বালা, চুলকানি বা র্যাশ হলে ব্যবহার বন্ধ করে প্রয়োজন অনুযায়ী বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
পরিচ্ছন্নতার অভ্যাস ঠিক রাখার পরও যদি দীর্ঘদিন শরীরের দুর্গন্ধ থেকে যায়, গন্ধের ধরন হঠাৎ বদলে যায় কিংবা অস্বাভাবিকভাবে বেশি ঘাম হতে থাকে, তাহলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া ভালো। কিছু ত্বকের সমস্যা, অতিরিক্ত ঘাম বা অন্যান্য শারীরিক অবস্থার সঙ্গেও শরীরের গন্ধের পরিবর্তন সম্পর্কিত হতে পারে।
তাই গোসলের পরও দুর্গন্ধ হলে বারবার সাবান বা সুগন্ধি ব্যবহার না করে আগে কারণটি খুঁজে বের করুন। ভালো কয়েকটি অভ্যাসই শরীরকে দীর্ঘ সময় সতেজ রাখতে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
সূত্র: ভেরিওয়েল হেলথ, হিন্দুস্তান টাইমস
পোস্ট লিংক : https://karatoa.com.bd/article/182095