বগুড়ার সোনাতলায় সমস্যায় জর্জরিত করমজা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় 

বগুড়ার সোনাতলায় সমস্যায় জর্জরিত করমজা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় 

সোনাতলা (বগুড়া) প্রতিনিধি : শত বছরের ঐতিহ্য বহন করে আজও দাঁড়িয়ে আছে বগুড়ার সোনাতলা উপজেলার করমজা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। প্রজন্মের পর প্রজন্মকে শিক্ষার আলোয় আলোকিত করা এই শতবর্ষী প্রতিষ্ঠানটি বর্তমানে নানা সমস্যায় জর্জরিত। জরাজীর্ণ অবকাঠামো, শ্রেণিকক্ষ সংকট, প্রয়োজনীয় শিক্ষা উপকরণের অভাবসহ বিভিন্ন সমস্যার কারণে ব্যাহত হচ্ছে স্বাভাবিক পাঠদান।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিনের পুরোনো এই বিদ্যালয়টি এলাকার শিক্ষার প্রসারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে আসছে। এখান থেকে শিক্ষা গ্রহণ করে অনেক শিক্ষার্থী বর্তমানে বিভিন্ন পেশায় প্রতিষ্ঠিত। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বিদ্যালয়ের অবকাঠামো ও সুযোগ-সুবিধা প্রয়োজনের তুলনায় পিছিয়ে পড়েছে।

বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে গিয়ে দেখা যায়, পুরোনো ভবনের বিভিন্ন অংশে জরাজীর্ণতার ছাপ স্পষ্ট। কোথাও দেয়ালের পলেস্তারা খসে পড়ছে, কোথাও ছাদ ও অন্যান্য অবকাঠামোর সংস্কার প্রয়োজন। ফলে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে।

বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও অভিভাবকদের মতে, শিক্ষার্থীর সংখ্যা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় শ্রেণিকক্ষ ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধার ঘাটতি রয়েছে। পাঠদানের জন্য উপযুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করতে বিদ্যালয়ের পুরোনো ভবন সংস্কার এবং প্রয়োজনীয় অবকাঠামো উন্নয়ন জরুরি।

ওই বিদ্যালয়ের ৫ম শ্রেণির শিক্ষার্থী জান্নাতুল ফেরদৌসৗ, সারাহাত জাহান, মোসাদ্দেকুল ইসলাম, তমা রানী বলে, তারা নিরাপদ ও সুন্দর পরিবেশে পড়াশোনা করতে চায়। একটি শতবর্ষী প্রতিষ্ঠানে আধুনিক শিক্ষার পরিবেশ, পর্যাপ্ত শ্রেণিকক্ষ, নিরাপদ ভবন, বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা ও স্বাস্থ্যসম্মত স্যানিটেশন নিশ্চিত করার দাবি তাদের। এমনকি বিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে নেই কোন টিউবওয়েল।

ফলে বিশুদ্ধ পানি পান থেকে বঞ্চিত হচ্ছে শিক্ষার্থীরা। স্থানীয় শিক্ষানুরাগী আইয়ুব হোসেন নান্টু, ফসি উদ্দিন, তোজাম্মেল হক, সিরাজুল ইসলাম বলেন, শত বছরের ইতিহাস ও ঐতিহ্যের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা এই বিদ্যালয়টি শুধু একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নয়; এটি এলাকার শিক্ষা ও সংস্কৃতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তাই প্রতিষ্ঠানটির সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।

এ বিষয়ে অত্র বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আবু সাইদ বলেন, বর্তমান সরকার শিক্ষা সহায়ক সরকার। অর্থ সংকটের কারণে সম্প্রতি ঝড়ে ধ্বসে যাওয়া একটি ভবন সংস্কার করা সম্ভব হচ্ছে না। প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার ইতি আরা পারভীন বলেন, এটি একটি ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। এই প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নে বরাদ্দ চেয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নিকট আবেদন করা হয়েছে।

পোস্ট লিংক : https://karatoa.com.bd/article/181880