দিনাজপুরের নবাবগঞ্জে পূর্ব পুরুষের ঐতিহ্য ধরে রেখেছেন মৃৎশিল্পীরা

দিনাজপুরের নবাবগঞ্জে পূর্ব পুরুষের ঐতিহ্য ধরে রেখেছেন মৃৎশিল্পীরা

নবাবগঞ্জ (দিনাজপুর) প্রতিনিধি: দিনাজপুরের নবাবগঞ্জে পূর্ব পুরুষদের ঐতিহ্য ধরে রেখেছেন মৃৎশিল্পীরা। এখনও তারা মাটি দিয়ে নানা ধরণের সামগ্রী তৈরি করে জীবিকা নির্বাহ করে আসছেন। তবে অনেকেই এ পেশায় টিকতে না পেরে জীবনজীবিকার তাগিদে অন্য পেশায় চলে যাচ্ছেন। এক সময় গ্রামবাংলার ঘরে ঘরে মাটির হাঁড়ি পাতিলসহ নানা ধরণের সামগ্রীর ব্যবহার ছিল। তবে সময়ের পরিবর্তনের সাথে পাল্টে গেছে মানুষের মাঝে এসব ব্যবহার।

এখন বিভিন্ন ধাতবের তৈরি সামগ্রী সহজলভ্য হওয়ায় মাটির তৈরি পাত্রের ব্যবহার অনেকটা কমেছে। প্রযুক্তিনির্ভর আধুনিক জীবনে জায়গা সংকুচিত হয়েছে গ্রামবাংলার এ প্রাচীন ঐতিহ্যের। উপজেলার তর্পনঘাট (কুমারপাড়া) এলাকায় কুমার সম্প্রদায়ের বেশ কয়েকটি পরিবার নিয়মিত মাটির তৈজসপত্র তৈরি করে থাকেন।

বর্তমানে তারা তাদের বাপ-দাদার ঐতিহ্যবাহী পেশাটি ধরে রেখেছেন। তাদের তৈরি সামগ্রী স্থানীয় গ্রামসহ বাজারে বিক্রি হলেও আগের মতো আর নেই। নতুন প্রজন্মও এ পেশায় আগ্রহী না হওয়ায় ধিরে ধিরে সংকুচিত হয়ে পড়েছে মৃৎশিল্পের পরিধি।

উপজেলা সদরের তর্পণঘাট পালপাড়া (কুমার পাড়া) গ্রামের সুরেশ চন্দ্র পাল(৭৩) জানান, এক সময় তাদের পাড়ায় ঘরে ঘরে ছিল এ শিল্পের কাজ। এখন ছোট বড় মিলে প্রায় ৫০ ঘর এ শিল্পের কাজ করে থাকে। তবে আগের মত আর চলেনা। আগে পাইকাড়রা এসে তাদের নিকট থেকে সামগ্রী নিয়ে গ্রামে গ্রামে ফেরী করে বিক্রি করতো। এখন সেগুলো আর নেই বললেই চলে।

মৃৎশিল্পী বিজয় চন্দ্র পাল বলেন, ভালো মানের মাটি সংগ্রহ থেকে শুরু করে সামগ্রী তৈরি শুকানো, নকশা করা এবং পোড়ানোর প্রতিটি ধাপেই এখন খরচ বেড়েছে। অথচ বাজারে এসব পণ্যের চাহিদা কম। ফলে উৎপাদন খরচের সাথে বিক্রয় মূল্যের সামঞ্জস্য থাকে না। এ কারণে অনেকেই বাধ্য হয়ে পেশা পরিবর্তন করেছন। তাদের ভাষায়, কয়েক বছর আগেও মাটির পণ্যের ভালো চাহিদা ছিল।

সারা দিন কাজ করেও ক্রেতাদের চাহিদা পূরণ করা কঠিন হতো। বর্তমানে অধিকাংশ মানুষ প্লাস্টিক ও স্টিলের পণ্যের দিকে ঝুঁকেছেন। এতে মাটির তৈজসপত্র তৈরি করে সংসার চালানো এক প্রকার কঠিন হয়ে পড়েছে। বাপ দাদার ঐতিহ্য ধরে রাখতে পেরেছে এটাই তাদের সান্তনা।

পোস্ট লিংক : https://karatoa.com.bd/article/181876