আলুর লাভের টাকা মধ্যস্বত্বভোগীর পকেটে, বেশি দামে কেনে ভোক্তা

আলুর লাভের টাকা মধ্যস্বত্বভোগীর পকেটে, বেশি দামে কেনে ভোক্তা

স্টাফ রিপোর্টার : প্রকৃতি থেকে বর্ষা বিদায়ের পর স্বাভাবিক সরবরাহে কমতে শুরু করেছে সব ধরনের সবজির দাম। তবে ভিন্ন চিত্র আলুর বাজারে। রেকর্ড উৎপাদন, পর্যাপ্ত মজুদ ও হিমাগারে নিম্নমুখী দামের পরেও খুচরা পর্যায়ে কমছে না সবজিটির দাম।

আজ রোববার (৩০ আগস্ট) মহানগরের বিভিন্ন বাজারে প্রতি কেজি কার্ডিনাল ও স্টিক আলু মানভেদে ২৫ থেকে ৩০ টাকা এবং পাকড়ি আলু ৩৫ থেকে ৪০ টাকা পর্যন্ত বেচাকেনা হতে দেখা যায়। তবে স্টোরেজ থেকে আলু সংগ্রহ করে যারা ভ্রাম্যমাণ, তারা আলু বিক্রি করছেন কিছুটা কম দামে।

জানা গেছে, বগুড়া জেলায় কোল্ড স্টোরেজের সংখ্যা প্রায় ৫১টি। এসব হিমাগারে বার্ষিক ৫ লাখ থেকে সাড়ে ৫ লাখ মেট্রিকটন আলু সংরক্ষণের ধারণক্ষমতা রয়েছে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, বগুড়ায় গত মৌসুমে প্রায় ৬০ হাজার ৪৩৫ হেক্টর জমিতে আলু চাষ হয়, যা নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৫ হাজার হেক্টরের বেশি।

এই পরিমাণ জমিতে উৎপাদিত আলুর পরিমাণ ছিল প্রায় ১৩ লাখ ৩৫ হাজার ৭৭০ মেট্রিকটন। হেক্টরপ্রতি গড় ফলন ছিল প্রায় ২৩ মেট্রিকটন। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর ও জেলা কৃষি বিপণন বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, বগুড়া জেলায় বার্ষিক আলুর মোট চাহিদা প্রায় ৩ লাখ মেট্রিকটন। চাহিদা মেটানোর পর ৯ থেকে ১০ লাখ মেট্রিকটন উদ্বৃত্ত আলু দেশের অন্যান্য জেলায় সরবরাহ এবং হিমাগারে সংরক্ষণ করা হয়।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বগুড়ার হিমাগারগুলোতে বর্তমানে প্রতি কেজি কার্ডিনাল ও স্টিক আলু মানভেদে ১৪ থেকে সাড়ে ১৪ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, আর পাকড়ি জাতের আলু বিক্রি হচ্ছে মানভেদে ২৪ থেকে ২৭ টাকা কেজি।

বগুড়া সদরের কাফেলা কোল্ড স্টোরেজ সংলগ্ন আলুর পাইকারি ব্যবাসয়ী মুকুল হোসেন বলেন, হিমাগার পর্যায়ে আলু দাম খুবই কম। কার্ডিনাল আলু প্রতি কেজি ১৪ এবং পাকড়ি আলু ২৪ থেকে ২৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। প্রতি কেজি আলুতে সর্বোচ্চ ২ কেজি করে বীজ ও পচা বের হয়।

এছাড়াও এখান থেকে প্রতি ভ্যানে (৬০ কেজি ১৫ বস্তা) আলু পরিবহনের খরচ ৭০ টাকা, বগুড়ার যেকোন স্টোরেজ থেকে শহরের রাজা বাজারের পরিবহন খরচ সর্বোচ্চ ১০০ টাকা, সে হিসেবে আলুর খুচরা দাম এতো বেশি হওয়ার কথা নয়।

রাজা বাজারের পাইকারি ব্যবসায়ী বাবু মিয়া বলছেন, স্টোরেজ থেকে আলু কেনার পর পচা, বীজ আলু বাদ দেওয়াসহ পরিবহন খরচ দিয়ে পাইকারিতে প্রতি কেজি কার্ডিনাল আলু ২৫ থেকে ২৬ এবং পাকড়ি আলু ৩৩ থেকে ৩৪ টাকা বিক্রি না করলে লাভ তোলা মুশকিল হয়ে যায়। খুচরা বিক্রেতা শহিদুল ইসলামের দাবি, পাকড়ি আলু ৪০ এবং কার্ডিনাল আলু ২৫ টাকা বিক্রি করে খুব বেশি লাভ হয় না।

জানতে চাইলে নর্দান কোল্ড স্টোরেজের ম্যানেজার ফারুক হোসনে বলেন, বর্তমানে স্টোরেজে আলুর যে দাম তাতে বস্তা প্রতি কৃষক ও ব্যবসায়ীর ৪৮০ থেকে ৫০০ টাকা পর্যন্ত লোকসান হচ্ছে। এই লোকসানের কারণে স্টোরেজ থেকে আলু উত্তলোনের পরিমাণও কমে গেছে। কৃষকের লোকসানের বিপরীতে মধ্যস্বত্বভোগীদের কারণে সাধারণ মানুষকে বেশি দামে তা কিনে খেতে হচ্ছে।

পোস্ট লিংক : https://karatoa.com.bd/article/181875