ইসরায়েলি হামলায় হামাস কমান্ডার-স্নাইপারসহ নিহত ৫

ইসরায়েলি হামলায় হামাস কমান্ডার-স্নাইপারসহ নিহত ৫

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : গাজার জাবালিয়া এলাকায় ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) হামলায় হামাসের দুই কমান্ডার নিহত হয়েছেন। এছাড়াও হাসান জিদান নামে পরিচিত হামাসের একজন দক্ষ স্নাইপারকে হত্যা করেছে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী। ইসরায়েলি সেনাবাহিনী এ তথ্য জানিয়েছে বলে সংবাদ প্রকাশ করেছে দ্য জেরুজালেম পোস্ট।

আইডিএফের দাবি, নিহতদের একজন আবদ আল-ফাত্তাহ আবু আল-ঈশ। তিনি হামাসের নুখবা বাহিনীর একজন কমান্ডার ছিলেন এবং ৭ অক্টোবরের হামলার সময় ইসরায়েলে প্রবেশ করেছিলেন। এর আগে শুক্রবার (২৯ আগস্ট) গাজায় অভিযান চালানোর সময় নুখবা কোম্পানির কমান্ডার হানি আবদ আল-হাই ফাখরি মাজলুম এবং হামাসের স্নাইপার হাসান জিদান হাসান দেইরিকে হত্যার কথা জানায় আইডিএফ।

ইসরায়েলি বাহিনীর দাবি, মাজলুম ও দেইরি-দুজনই হামাসের কাছে অস্ত্র পাচার ও সরবরাহের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। তারা আইডিএফের সেনা ও ইসরায়েলি বেসামরিক নাগরিকদের বিরুদ্ধে হামলা চালানোর পাশাপাশি হামাসের সামরিক সক্ষমতা পুনর্গঠনের কাজ করছিলেন।

শুক্রবার একই দিনে পশ্চিম তীরে একটি গাড়িতে হামলা চালায় ইসরায়েলি বিমানবাহিনীর (আইএএফ)। ওই হামলায় জেনিনের জ্যেষ্ঠ সদস্যসহ তিনজন নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ)। আইডিএফ ও শিন বেতের (ইসরায়েল সিকিউরিটি এজেন্সি) যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়েছে, নিহতদের মধ্যে কাইস বিতওয়ানি ছিলেন বিলুপ্ত জেনিন সন্ত্রাসী নেটওয়ার্কের হামাসের একজন সদস্য। নিহত বিতওয়ানি জেনিনের সাবেক বিদ্রোহী নেটওয়ার্কের কমান্ডার নূর বিতাওয়ির আত্মীয় ছিলেন। এর আগে ২০২৫ সালের মে মাসে আইডিএফের অভিযানে নূর বিতাওয়ি নিহত হন।

ইসরায়েলি বাহিনীর দাবি, বিতওয়ানি ইসরায়েলি সেনা ও বেসামরিক নাগরিকদের বিরুদ্ধে হামলার পরিকল্পনা, অর্থায়ন ও বাস্তবায়নসহ ‘গুরুত্বপূর্ণ’ সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিলেন। গাজায় হামাসের সদস্যদের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক পর্যায়ের কিছু সহযোগীর সঙ্গেও তার যোগাযোগ ছিল বলে দাবি করা হয়েছে। আইডিএফ ও শিন বেত জানিয়েছে, বিতওয়ানির গাড়িতে থাকা অন্য দুজনও তার সহযোগী ছিলেন। গাড়িটিতে অস্ত্রও পাওয়া গেছে।

দ্য জেরুজালেম পোস্ট জানিয়েছে, হামাসের সাবেক শীর্ষ সদস্য বিতওয়ানিকে লক্ষ্য করে এই হামলা চালানোর আগে দীর্ঘদিন গোয়েন্দা তৎপরতা চালায় শিন বেত ও সামরিক গোয়েন্দা অধিদপ্তর। এই অভিযানের অংশ হিসেবে বিতওয়ানির সঙ্গে যোগাযোগ ছিল বলে সন্দেহ করা বেশ কিছু সহযোগীকে গ্রেফতার করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। তাদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতেই শেষ পর্যন্ত বিতওয়ানির অবস্থান শনাক্ত করে তাকে লক্ষ্যবস্তু করা হয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৪ সালের জুলাই মাসে গিলবোয়া সিম এলাকায় একটি বোমা হামলাতেও বিতওয়ানি সরাসরি জড়িত ছিলেন। ওই হামলায় ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের দুই কর্মী আহত হন। এছাড়া ইসরায়েলি সেনা ও বেসামরিক নাগরিকদের লক্ষ্য করে আরও কয়েকটি হামলায়ও তার সম্পৃক্ততা ছিল বলে দাবি করা হয়েছে। এই হামলার আগে তাকে কয়েকবার গ্রেফতারের চেষ্টা করা হয়েছিল বলেও জানানো হয়েছে।

পোস্ট লিংক : https://karatoa.com.bd/article/181806