সৌদিতে অগ্নিকান্ডে নিহত রবিউলের দাফন সম্পন্ন
নলডাঙ্গা (নাটোর) প্রতিনিধি: সৌদি আরবের একটি সোফা কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে নিহত নাটোরের নলডাঙ্গা উপজেলার রবিউল আউয়াল হৃদয়ের(২৫) দাফন সম্পন্ন হয়েছে। আজ শুক্রবার (২৮ আগস্ট) সকাল সাড়ে ১০টায় মহিষডাঙ্গা ভাটোদারা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে জানাজা শেষে পারিবারিক গোরস্থানে তাকে দাফন সম্পন্ন করা হয়।
এর আগে, গত বৃহস্পতিবার দিনগত রাত পৌনে ২টায় রবিউলের কফিনবন্দী মরদেহ তার নিজ বাড়িতে পৌঁছায়। কফিনবন্দী মরদেহ দেখে কান্নায় ভেঙে পড়েন বাবা আসলাম হোসেনসহ স্বজনরা। শোকে মুহ্যমান হয়ে পড়েন প্রতিবেশীরাও।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, সংসারের অভাব ঘোচাতে, বন্ধকী জমি ছাড়াতে এবং ঋণের বোঝা মেটাতে চড়া সুদে ঋণ করে ২০২১ সালে করোনাকালীন সময়ে সৌদি আরবে পাড়ি জমান রবিউল ইসলাম। সেখানে একটি সোফা তৈরির কারখানায় কর্মরত ছিলেন তিনি। গত ৯ আগস্ট রাতে ওই কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ১৬ বাংলাদেশি শ্রমিক নিহত হন। তাদেরই একজন রবিউল আউয়াল।
বাবা আসলাম হোসেন বলেন, ছেলের পাঠানো টাকার ওপরই সংসার চলতো। তাকে বিদেশ পাঠাতে গিয়ে এখনও অনেক টাকা ঋণ রয়েছে। কথা ছিল ঋণের শোধ করে সামনে ঈদে দেশে এসে বিয়ে করবে। কিন্তুসব স্বপ্ন পুড়ে ছাই হয়ে গেছে।
খাজুরা ইউপি চেয়ারম্যান সোহরাব হোসেন বলেন, পরিবারটি একেবারে অসহায়। উপজেলা প্রশাসন ও ইউনিয়ন পরিষদ থেকে কিছু আর্থিক সহায়তা করা হয়েছে। তিনি সরকারের পাশাপাশি সমাজের বিত্তবান ব্যক্তি ও প্রবাসী কল্যাণ সংশ্লিষ্টদের শোকাহত পরিবারটির পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান।
তিনি বলেন, সৌদিআরবে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে এই ইউনিয়নের আরো দুইজন নিহত হন। তারা হলেন, নলডাঙ্গা উপজেলার খাজুরা ইউনিয়নের দিঘিরপাড় গ্রামের শামীম হোসেন এবং একই ইউনিয়নের শ্রীপুর গ্রামের সাব্বির হোসেন শুভ। রবিউল ইসলাম হৃদয়ের মরদেহ দেশে ফিরে দাফন সম্পন্ন হলেও এখনো দেশে ফেরেনি নিহত শামীম হোসেন ও সাব্বির হোসেন শুভর মরদেহ।
পোস্ট লিংক : https://karatoa.com.bd/article/181617