বগুড়ায় সাইফুল হত্যায় জড়িত থাকার অভিযোগ অস্বীকার করে জনির সংবাদ সম্মেলন
শহর প্রতিনিধি: বগুড়া সদরের নুনগোলা ইউনিয়ন যুবলীগের সহসভাপতি ও সাবেক ইউপি সদস্য সাইফুল ইসলাম হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছেন বিএনপি নেতা শাহ আলম জনি। আজ বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১২টায় বগুড়া প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ অভিযোগ অস্বীকার করে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানান।
শাহ আলম জনি নুনগোলা ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও বগুড়া সদর উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক। লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, তিনি রাজনীতির পাশাপাশি দীর্ঘদিন ধরে ক্রীড়াঙ্গনের সঙ্গেও যুক্ত এবং বগুড়ায় চলমান মাদকবিরোধী ফুটবল টুর্নামেন্ট ও ডিসি কাপ ফুটবল টুর্নামেন্টে কোচের দায়িত্ব পালন করছেন।
তিনি জানান, গত ২৩ আগস্ট রাত সাড়ে ১০টার দিকে নুনগোলা ইউনিয়নের আশোকোলা গ্রামে সাইফুল ইসলামকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। এই হত্যাকাণ্ডের তীব্র নিন্দা জানিয়ে নুনগোলা ইউনিয়ন বিএনপির পক্ষ থেকে নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত হত্যাকারীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানান তিনি।
শাহ আলম জনি বলেন, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থাকার কারণে তাঁর বিরুদ্ধে ২১টি রাজনৈতিক মামলা হয়েছিল এবং তিনবার গ্রেপ্তার হয়ে কারাভোগও করতে হয়েছে। তবে চাঁদাবাজি, হত্যা বা সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে তাঁর বিরুদ্ধে কোনো মামলা বা জিডি নেই বলে দাবি করেন তিনি।গত ২৬ আগস্ট একই প্রেসক্লাবে নিহত সাইফুল ইসলামের বড় বোন ও মামলার বাদী মাবিয়া বেগম সংবাদ সম্মেলন করে শাহ আলম জনিকে হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িয়ে বক্তব্য দেন।
তারই প্রেক্ষাপটে আজকের সংবাদ সম্মেলনে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেন তিনি এবং হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে কোনো সম্পৃক্ততা নেই বলে দৃঢ়ভাবে জানান। সংবাদ সম্মেলনে শাহ আলম জনি নিহত সাইফুল ইসলামের অতীত কর্মকাণ্ড নিয়ে এলাকায় প্রচলিত বিভিন্ন অভিযোগের কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, এলাকাবাসীর ভাষ্য অনুযায়ী সাইফুল ইসলামের বিরুদ্ধে মাদক ব্যবসা, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড এবং অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে মদদ দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ অনুযায়ী তাঁর মুরগির খামারে গভীর রাত পর্যন্ত মাদকের আড্ডা বসত এবং ব্যক্তি আটক রেখে মুক্তিপণ আদায় ও চাঁদাবাজির সঙ্গে জড়িতদের মদদ দেওয়ার অভিযোগও তাঁর বিরুদ্ধে ছিল।
তিনি আরও জানান, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলনের বিপক্ষে অবস্থান নিয়ে সাইফুল ইসলাম বিক্ষোভে হামলায় নেতৃত্ব দিয়েছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে, যার জেরে আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর তাঁর নামে মামলা হয় এবং তিনি কয়েক মাস কারাভোগ করেন। এ ছাড়া ২০০০ সালের আগে ঠেঙ্গামারা গ্রামের মোতাহার মাস্টারের ছেলে সজল হত্যা মামলায় সাইফুল ইসলাম প্রধান আসামি ছিলেন এবং যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত হয়ে দীর্ঘদিন কারাভোগের পর আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে জামিনে মুক্তি পান বলে স্থানীয়ভাবে জানা যায়।
শাহ আলম জনি বলেন, এসব অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ের দায়িত্ব তাঁর নয়, বরং সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও তদন্তকারী সংস্থার। তিনি দাবি করেন, হত্যাকাণ্ডের সময় সাইফুল ইসলামের সঙ্গে থাকা তাঁর ব্যক্তিগত সহকারী পরিচিত রাকিব নামের এক যুবকের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতেই পুলিশ গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পায় এবং সেই ভিত্তিতে মামলা দায়ের হয়। কিন্তু মামলা দায়েরের মাত্র দুই দিন পর নিহতের বোন সংবাদ সম্মেলন করে তাঁকে জড়ানোর চেষ্টা করেন বলে তিনি অভিযোগ করেন।
পোস্ট লিংক : https://karatoa.com.bd/article/181482