১৫ মামলা থেকে খালাস পেলেন মির্জা আব্বাস
সরকারি ১৮টি পরিত্যক্ত বাড়ি বরাদ্দে অনিয়ম ও দুর্নীতিসংক্রান্ত ১২৭ কোটি ৬৪ লাখ টাকা ১৫টি মামলা থেকে বিএনপি’র স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাসসহ ১২ জনকে খালাস দিয়েছেন আদালত।
আজ বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৩-এর বিচারক মুহাম্মদ কামরুল হাসান খান এই রায় দেন। এসব তথ্য নিশ্চিত করেন মির্জা আব্বাসের আইনজীবী মো. শাহীনুর ইসলাম।
আদালত সূত্রে জানা যায়, বিনা দরপত্রে ১৮টি সরকারি বাড়ি বিক্রি সংক্রান্ত ১২৭ কোটি ৬৪ লাখ ১৯ হাজার ৫৯ টাকা দুর্নীতির অভিযোগে মির্জা আব্বাসসহ ২১ জনকে আসামি করে পৃথক ১৫টি মামলা করে দুদক। এর মধ্যে মির্জা আব্বাসসহ ১২ জনকে প্রত্যেক মামলায় আসামি করা হয়। অপর আসামিরা হলেন এস এম জাফর উল্লাহ, মো. এমদাদুল ইসলাম, মোহাম্মদ আলী, গোলাম নবী, কাজী রিয়াজুল মনির, জিয়াউদ্দিন আহমেদ, আব্দুস সাদেক, হুমায়ন খান, মীর মোশাররফ হোসেন, ইকবাল উদ্দিন চৌধুরী, মো. শহীদ আলম। এর বাইরে আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীকে ২ মামলায়, আহমেদ আকবর সোবহানকে ২ মামলায়, মেহেদী হাসান, শফিকুর রহমান কিরন, নুরুচ্ছাফা, মো. শুকুর মিয়া, হাসনা আহমেদ, আলী হায়দার চৌধুরীকে পৃথক মামলায় আসামি করা হয়। তারা প্রত্যেকেই এসব মামলায় খালাস পেয়েছেন।
২০০৭ সালের ২৯ মার্চ এসব মামলা দায়ের করে সংস্থাটি। তদন্ত শেষে অভিযোগপত্র জমা দেওয়া হলে ওই বছরের ২৫ সেপ্টেম্বর তৎকালীন বিচারক শাহেদ নূরউদ্দিন আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন। মামলাগুলোর অভিযোগে বলা হয়, সর্বমোট ১৮টি পরিত্যক্ত বাড়ি রাজউক কর্তৃক সাজানো দরপত্রে কারচুপি ও দুর্নীতির মাধ্যমে নিজ পছন্দের ব্যক্তিদের বাড়িগুলো পাইয়ে দিয়ে প্রকারান্তরে নিজে লাভবান হয়ে সরকারের ১২৭ কোটি ৬৪ লাখ ১৯ হাজার ৫৯ টাকার অর্থের ক্ষতি সাধন করেন।
সাবেক গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী অসৎ উদ্দেশ্যে ক্ষমতার অপব্যবহার ও অবৈধ প্রভাব খাটিয়ে দ্য বাংলাদেশ অ্যাবানডন্ড প্রোপার্টি (কন্ট্রোল, ম্যানেজমেন্ট ও ডিসপোজাল) অর্ডার, ১৯৭২ অনুযায়ী উল্লিখিত ১৮টি সরকারি বাড়ি বিক্রির ব্যবস্থা না করে লাভবান ও অন্যান্য প্রভাবশালীদের লাভবান করার জন্য গণপূর্ত অধিদফতরের নির্বাহী প্রকৌশলীদের দর বেশি হওয়া সত্ত্বেও তা আমলে না নিয়ে রাজউক কর্তৃক সাজানো কম মূল্যের দরপত্রের মাধ্যমে মূল্যায়ন না করে বিক্রির অনুমোদন করেন। আসামি মির্জা আব্বাসসহ অপর আসামিরা দণ্ডবিধির ৪০৯, ১৯৪৭ সালের দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫(২) ধারাসহ দণ্ডবিধির ১০৯ ধারার অধীনে শাস্তিযোগ্য অপরাধ করেছেন।
মামলা সূত্রে জানা যায়, বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের আমলে রাজধানীর অভিজাত এলাকায় সরকারি ১৮টি পরিত্যক্ত বাড়ি সাজানো দরপত্র ডেকে অস্বাভাবিক কম দামে বিক্রির অভিযোগে ২০০৭ সালের মার্চে সাবেক মন্ত্রী মির্জা আব্বাসসহ ১২ জনের বিরুদ্ধে মতিঝিল থানায় মামলা করে দুদক। মামলায় ওই বছরের ২০ সেপ্টেম্বর অভিযোগপত্র দেওয়া হয়। অভিযোগপত্রে বলা হয়, সাজানো দরপত্রের মাধ্যমে এবং প্রকৃত দামের চেয়ে কম দাম দেখিয়ে ১৮টি সরকারি বাড়ি বিক্রি করে আসামিরা আর্থিকভাবে লাভবান হয়েছেন। এতে সরকারের ক্ষতি হয়েছে ১২৭ কোটি ৬৪ লাখ ১৯ হাজার টাকা। অভিযোগপত্রে আরও ১৪ আসামির নাম যুক্ত হয়। তাদের বিরুদ্ধে সুবিধা আদায়ের অভিযোগ পাওয়া যায়।
মামলা সূত্রে আরও জানা যায়, এই ১৮টি বাড়ি বরাদ্দ নিয়ে ১৫টি মামলা রয়েছে। এর মধ্যে পাঁচ জনের পৃথক আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে সাতটি মামলা বাতিল করে হাইকোর্টের দেওয়া রায়ের বিরুদ্ধে দুদক সাতটি আবেদন করে। ওই পাঁচ জন হলেন বসুন্ধরা গ্রুপের চেয়ারম্যান আহমেদ আকবর সোবহান, রাজউকের সাবেক প্রধান প্রকৌশলী ইমদাদুল ইসলাম, একম ইঞ্জিনিয়ারিং কোম্পানি লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মেহেদী হাসান, চট্টগ্রামের আওয়ামী লীগ নেতা আফছার উদ্দিন আহম্মেদের স্ত্রী হাসনা আহমেদ ও এস এম আনোয়ার হোসেন। এছাড়া মামলার বৈধতা নিয়ে করা হাইকোর্টে আবেদন খারিজের বিরুদ্ধে লিভ টু আপিল করেন বায়রার আলী হায়দার চৌধুরী। এসব আবেদনের ওপর শুনানি হয়। আলী হায়দারের লিভ টু আপিল খারিজ হয়।
মামলার বিচার চলাকালে আদালত ২৪ সাক্ষীর মধ্যে ২৩ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করেন। দীর্ঘ বিচারিক কার্যক্রম শেষে আদালত আজ মামলার অভিযোগ থেকে আসামিদের খালাস দেন।
পোস্ট লিংক : https://karatoa.com.bd/article/181447