গরমে সিরাজগঞ্জে ঘোলের চাহিদা বেড়েছে

গরমে সিরাজগঞ্জে ঘোলের চাহিদা বেড়েছে

সিরাজগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি: কয়েকদিনের প্রচন্ড গরমে সিরাজগঞ্জে ঘোলের চাহিদা বেড়েছে। গরমে পানীয় হিসেবে ঘোল বা মাঠার কোনো তুলনা নেই। সিরাজগঞ্জ ছাড়াও সলপের ঘোলের চাহিদা তৈরি হয়েছে সারাদেশে। প্রতিদিন আড়াইশ’ থেকে তিনশ’ মণ সলপের ঘোল রাজধানী, যশোর, চট্টগ্রাম, সিলেটসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় যাচ্ছে।

স্থানীয় খামারিদের কাছ থেকে সংগ্রহ করা দুধ দিয়ে বিশেষ প্রক্রিয়ায় তৈরি হয় সুস্বাদু ঘোল ও মাঠা। সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া উপজেলার সলপ রেলস্টেশন এলাকায় তৈরি এই ঘোল খ্যাতি পেয়েছে ‘সলপের ঘোল’ হিসেবে। প্রতি কেজি ঘোল ৮০ টাকা, মাঠা ১০০ টাকা এবং ঘি প্রতি কেজি ১ হাজার থেকে ১২শ’ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

স্থানীয় ব্যবসায়ী আব্দুল বারি ও পঞ্চক্রোশী উচ্চ বিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক হাবিবুজ্জামান বলেন, ব্রিটিশ আমলে তৎকালীন জমিদারের উৎসাহে সাদেক খান ঘোলের ব্যবসা শুরু করেন। সাদেক আলীর মৃত্যুর পর তার ছেলেরা এই ব্যবসার হাল ধরে আছেন। তাদের তৈরি ঘোলের সুনাম ছড়িয়ে পড়ে আশপাশের বিভিন্ন এলাকায়। তাদের দেখাদেখি আরো অনেকে এই ব্যবসায় আকৃষ্ট হন। বর্তমানে ২৫-৩০টি কারখানায় ঘোল, মাঠা, ঘি তৈরি হচ্ছে।

ঘোল ব্যবসায়ী আবদুল মালেক খান বলেন, ঘোল ও মাঠার ব্যবসা কেবল অর্থ উপার্জনের মাধ্যম নয়, এটি এখন এই অঞ্চলের ঐতিহ্যে পরিণত হয়েছে। প্রতিদিন তার কারখানাতেই ৪০/৫০ মণ ঘোল তৈরি হয়। সব কারখানা মিলে ৩শ’ মণ দুধ নেওয়া হয়। তিনি জানান, তার ঘোল কানাডা, দুবাই, মালয়েশিয়াসহ বিভিন্ন দেশে পাঠিয়েছেন।

সলপ ইউনিয়ন পরিষদের বর্তমান প্যানেল চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম জানান, সলপের ঘোলের ঐতিহ্য ধরে রাখতে প্রতি বছর এখানে মেলার আয়োজন করা হয়। এছাড়াও নিত্যদিনই দূরদুরান্ত থেকে সলপের ঘোল পান করতে ভির জমায় সকল বয়সী মানুষ।

সিরাজগঞ্জ শহরের মেডিনোভা হাসপাতালের পরিচালক ডা. আকরামুজ্জামান জানান, ঘোলে পানির পরিমাণ বেশি থাকায় গরমে শরীর সতেজ ও ঠান্ডা রাখতে সহযোগিতা করে। এটি অম্বল, গ্যাস ও বদহজম দূর করতে সাহায্য করে। ঘোলে পর্যাপ্ত পরিমাণে ক্যালসিয়াম প্রোটিন, ভিটামিন বি-১২ এবং রিবোফ্লাবিন থাকাতে দুধের বিকল্প হিসেবে পুষ্টির চাহিদা মেটাতে সাহায্য করে। এছাড়াও ঘোলে ক্যালসিয়াম ও খনিজ উপাদান থাকায় হাড় ও দাঁত মজবুত করতে গুরুত্ব ভূমিকা পালন করে।

পোস্ট লিংক : https://karatoa.com.bd/article/181211