পৌরসভার নেতৃত্বে গুণী মানুষ চান ঝালকাঠির বাসিন্দারা, আলোচনায় আক্কাস সিকদার

পৌরসভার নেতৃত্বে গুণী মানুষ চান ঝালকাঠির বাসিন্দারা, আলোচনায় আক্কাস সিকদার

ঝালকাঠি প্রতিনিধি : আসন্ন ঝালকাঠি পৌরসভা নির্বাচনে মেয়র পদে প্রার্থী হওয়ার বিষয়ে স্থানীয় বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে মতবিনিময় করছেন সাংবাদিক ও আইনজীবী মো. আক্কাস সিকদার। দীর্ঘদিনের সাংবাদিকতা ও আইন পেশার পাশাপাশি সাংবাদিক সংগঠনে নেতৃত্ব দেওয়ার কারণে সম্ভাব্য মেয়র প্রার্থী হিসেবে স্থানীয়ভাবে তাঁর নাম আলোচনায় এসেছে।

১৯৯৭ সালে সাংবাদিকতা শুরু করেন আক্কাস সিকদার। অনার্স তৃতীয় বর্ষে অধ্যয়নরত অবস্থায় বরিশাল থেকে প্রকাশিত দৈনিক আজকের বার্তার ঝালকাঠি ব্যুরোয় স্টাফ রিপোর্টার হিসেবে যোগ দেন তিনি। প্রায় তিন দশকের সাংবাদিকতা জীবনে বিভিন্ন জাতীয় দৈনিক, সংবাদ সংস্থা ও টেলিভিশন চ্যানেলে কাজ করেছেন বলে তাঁর জীবনবৃত্তান্ত ও প্রকাশিত তথ্যে উল্লেখ রয়েছে।

বর্তমানে তিনি ঝালকাঠি প্রেসক্লাবের সভাপতি। একই সঙ্গে ঝালকাঠি জেলা ও দায়রা জজ আদালতে অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

২০০২ সালে ঝালকাঠি প্রেসক্লাবের সদস্য হওয়ার পর সংগঠনটির বিভিন্ন পদে দায়িত্ব পালন করেন তিনি। সহসাধারণ সম্পাদক, কোষাধ্যক্ষ, সহসভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেছেন। চারবার সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালনের পর ২০২৫ সালের নির্বাচনে ২০২৬-২০২৭ মেয়াদের জন্য সভাপতি নির্বাচিত হন।

সাংবাদিকতা জীবনে জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে প্রতিবেদন করেছেন আক্কাস সিকদার। ২০১১ সালে রাজাপুরের কলেজছাত্র লিমন হোসেন র‌্যাবের গুলিতে আহত হয়ে পা হারানোর ঘটনা নিয়ে প্রথম আলোতে ধারাবাহিক প্রতিবেদন করেন তিনি। পরে লিমনের আইনি লড়াইয়েও যুক্ত হন বলে প্রকাশিত তথ্যে উল্লেখ রয়েছে।

সাংবাদিকতায় অবদানের জন্য ২০১১ সালে বাংলাদেশ জাতীয় ইউনেস্কো ক্লাব পুরস্কার, ২০১৭ সালে সূর্যালোক ট্রাস্ট পুরস্কার এবং ২০২১ সালে শেরে-বাংলা গোল্ডেন অ্যাওয়ার্ড পাওয়ার তথ্যও প্রকাশিত হয়েছে।

আক্কাস সিকদারের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় ক্ষমতাসীন দলের বিভিন্ন নেতার অনিয়ম ও কর্মকাণ্ড নিয়ে সংবাদ প্রকাশ করায় তিনি তাঁদের রোষানলে পড়েছিলেন। তাঁর ভাষ্য, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান ও সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের সমালোচনা করায় ২০২১ সালে তাঁর বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা করা হয়। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

২০১০ সালে সাংবাদিকতার পাশাপাশি আইন পেশায় যুক্ত হন আক্কাস সিকদার। বর্তমানে তিনি রাষ্ট্রপক্ষে বিভিন্ন মামলা পরিচালনা করছেন।

মেয়র পদে নির্বাচন করার বিষয়ে আক্কাস সিকদার বলেন, “ইনশাআল্লাহ, ঝালকাঠি পৌরসভার মেয়র পদে নির্বাচন করার বিষয়ে আমি সাধারণ মানুষের সঙ্গে কথা বলছি। জনগণের আগ্রহকে প্রাধান্য দিয়েই সিদ্ধান্ত নেব। তবে সাধারণ মানুষ চাঁদাবাজ, মাদকসেবী বা সন্ত্রাসীকে মেয়র হিসেবে দেখতে চায় না।

স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, পৌরসভার নেতৃত্বে তাঁরা সৎ, যোগ্য ও অভিজ্ঞ ব্যক্তিকে দেখতে চান। তাঁদের কেউ কেউ আক্কাস সিকদারের দীর্ঘদিনের সাংবাদিকতা, আইন পেশা ও সামাজিক কর্মকাণ্ডের অভিজ্ঞতাকে ইতিবাচকভাবে দেখছেন। তবে তিনি শেষ পর্যন্ত মেয়র পদে প্রার্থী হবেন কি না এবং নির্বাচনে তাঁর অবস্থান কী হবে, তা নির্ভর করবে তাঁর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ও সামগ্রিক নির্বাচনী পরিস্থিতির ওপর।

পোস্ট লিংক : https://karatoa.com.bd/article/181194