ভাদ্রের গরমে স্বস্তির খোঁজে ডাব-শরবতের দোকানে ভিড়

ভাদ্রের গরমে স্বস্তির খোঁজে ডাব-শরবতের দোকানে ভিড়

নন্দীগ্রাম (বগুড়া) প্রতিনিধি: ভাদ্রের তীব্র গরমে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে জনজীবন। প্রখর রোদ ও ভ্যাপসা গরমে স্বস্তি নেই মানুষ, পশুপাখিরও। তবে জীবিকার তাগিদে এই গরম উপেক্ষা করেই মাঠে কাজ করছেন কৃষক ও শ্রমজীবী মানুষ। অন্যদিকে গরম থেকে সাময়িক স্বস্তি পেতে কেউ ছুটছেন ডাবের দোকানে, কেউ বরফ মেশানো লেবুর শরবত কিংবা আখের রসের দিকে।

বগুড়ার নন্দীগ্রাম উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, সকাল গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে বাড়তে থাকে রোদের তেজ। মাঠে রোপা আমনের কাজে ব্যস্ত কৃষক ও কৃষি শ্রমিকরা। প্রচন্ড গরমে শরীর থেকে ঘাম ঝরলেও থেমে নেই তাদের কাজ।

সংসারের খরচ ও জীবিকার প্রয়োজনে গরমকে উপেক্ষা করেই মাঠে কাজ করতে হচ্ছে তাদের। উপজেলার দলগাছা গ্রামের কৃষক জহুরুল ইসলাম বলেন, গরমে মাঠে কাজ করতে খুব কষ্ট হচ্ছে। রোদে বেশিক্ষণ থাকলে শরীর দুর্বল হয়ে যায়। তারপরও কৃষিকাজ তো আর ফেলে রাখা যায় না। সময়মতো ধানের কাজ শেষ করতে হলে এই গরমের মধ্যেই মাঠে থাকতে হচ্ছে।

শুধু কৃষক-শ্রমিক নয়, সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনেও পড়েছে তীব্র গরমের প্রভাব। বাজার ও সড়কের পাশে ছায়ায় দাঁড়িয়ে বিশ্রাম নিতে দেখা যাচ্ছে পথচারীদের। তৃষ্ণা মেটাতে অনেকে ঠান্ডা পানি, লেবুর শরবত ও আখের রস পান করছেন। বিভিন্ন স্থানে বেড়েছে ঠান্ডা পানীয় বিক্রির দোকানেও মানুষের আনাগোনা। গরমের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বেড়েছে ডাব ও লেবুর শরবতের চাহিদা।

নন্দীগ্রামের বিভিন্ন বাজারে ডাবের দোকানগুলোতে দেখা গেছে ক্রেতাদের ভিড়। তবে ডাবের দাম এখন অনেকের নাগালের বাইরে। বর্তমানে প্রতিটি ডাব ১৩০ থেকে ১৭০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। ফলে গরমে ডাব খাওয়ার ইচ্ছা থাকলেও নিম্নআয়ের অনেক মানুষকে দাম শুনে ফিরে যেতে হচ্ছে। ডাব বিক্রেতা তোতা বলেন, গরম বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ডাবের চাহিদাও বেড়েছে।

অন্যদিকে বাজারে লেবুর সরবরাহ পর্যাপ্ত থাকায় বিভিন্ন স্থানে বরফ মেশানো লেবুর শরবতের দোকান বসেছে। এক গ্লাস লেবুর ঠান্ডা শরবত বিক্রি হচ্ছে ৫ থেকে ১০ টাকায়। পাশাপাশি বিভিন্ন স্থানে বিক্রি হচ্ছে আখের রস।

এছাড়াও এই তীব্র গরমে গ্রামের পুকুর, খাল-বিলে শিশুদের পানিতে লাফালাফি ও গোসল করতে দেখা যায়। গরম থেকে সাময়িক স্বস্তি পেতে শিশুরা পানিতে নামলেও এ সময় অভিভাবকদের বাড়তি সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন স্থানীয়রা।

নন্দীগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. ইবকাল মাহমুদ লিটন বলেন, এই গরমে সবাইকে সাবধানে চলতে হবে। প্রচুর পরিমাণে তরল খাবার ও পানি পান করতে হবে। বিশেষ করে শিশুদের প্রতি নজর রাখতে হবে। কোনোভাবেই যেন শরীরে পানিশূন্যতা দেখা না দেয়।

প্রয়োজনে খাবার স্যালাইন ও বিশুদ্ধ পানি পান করতে হবে। বাইরে তৈরি শরবত পান করার ক্ষেত্রেও সতর্ক থাকতে হবে। গরমে হিটস্ট্রোকসহ নানা ধরনের শারীরিক সমস্যা দেখা দিতে পারে।

পোস্ট লিংক : https://karatoa.com.bd/article/181175