কুড়িগ্রামে গুদাম ভেঙে ১৬৭ বস্তা সার নিয়ে গেলেন কৃষকরা

কুড়িগ্রামে গুদাম ভেঙে ১৬৭ বস্তা সার নিয়ে গেলেন কৃষকরা

ভূরুঙ্গামারী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি: কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারী উপজেলায় বিএডিসি সার ডিলারের গুদামের বেড়া ভেঙে ১৬৭ বস্তা সার নিয়ে গেছে বিক্ষুব্ধ কৃষকরা। আজ রোববার (২৩ আগস্ট) দুপুরে উপজেলার শিলখুড়ি ইউনিয়নের ধলডাঙ্গা বাজার এলাকায় ঘটনাটি ঘটে।

জানা যায়, শিলখুড়ি ইউনিয়নের বিসিআইসির অনুমোদিত সার ডিলার মেসার্স শাহ আমানত এন্টারপ্রাইজে সার বিতরণের উদ্যোগ নেয়। দিতে বিলম্ব ও সারের চেয়ে অতিরিক্ত লোক সমাগম হওয়ায় উপস্থিত কৃষকরা সার পাবেন না আশঙ্কায় ক্ষুব্ধ কৃষকরা মেসার্স শাহ আমানত ট্রেডার্সের টিনের বেড়া ভেঙে ১৪৩ বস্তা ইউরিয়া ও ২৪ বস্তা এমওপি সারের বস্তা নিয়ে যায়।

পরে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হলে অনেকে সারের বস্তা ফেরত দিয়ে যায়। ভূরুঙ্গামারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আজিমুদ্দিন বলেন, ওই ইউনিয়নে চাহিদা প্রায় ৪ হাজার বস্তা সার। কিন্তু মোট বরাদ্দ ছিল ১৩২০ বস্তা। উত্তোলন আরও কম ছিল। ফলে কৃষকরা সার না পাওয়ার শঙ্কায় গুদাম থেকে সার নিয়ে গেছে।

খবর পেয়ে পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এরমধ্যে ১৬৭টি বস্তা সার কৃষকরা নিয়ে গেছে। পরে পুলিশের তৎপরতায় ৩৩ জন ৩৩টি বস্তা ফেরত দিয়ে গেছে। বাকিগুলো উদ্ধারের চেষ্টা চলছে।

মেসার্স শাহ আমানত এন্টারপ্রাইজের সত্ত্বাধিকারী তাইফুর রহমান মুকুল বলেন, দুপুরে সার বিতরণের প্রস্তুতি চলছিল। এসময় কয়েকজন ব্যক্তি এসে তাকে অবরুদ্ধ করে। পরে ডিলার পয়েন্টের বেড়া ভেঙে প্রায় ১৪৩ বস্তা ইউরিয়া ও ২৪ বস্তা এমওপি সার নিয়ে যায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ প্রশাসনকে বেগ পেতে হচ্ছিল। সার লুটপাটের ঘটনায় মামলা করা হবে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল জব্বার বলেন, উপজেলায় আগস্ট মাসে ইউরিয়া সারের চাহিদা ছিল ৬৮০ মেট্রিক টন। সেটি আমরা পেয়েছি এবং বিতরণও চলছে। উপজেলায় ইউরিয়া সারের কোন সংকট নেই। কৃষক আতঙ্কে এমন ঘটনা ঘটিয়েছে। এবিষয়ে ভূরুঙ্গামারী উপজেলা নির্বাহী অফিসার অমৃত দেবনাথ বলেন, খবর পেয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয়। কিছু সার উদ্ধার হয়েছে এবং বাকিগুলো উদ্ধারের চেষ্টা চলছে।

পোস্ট লিংক : https://karatoa.com.bd/article/181052