বগুড়ার ধুনটে কাঁচা সড়কে পানি জমে থাকে সারা বছর, হাজারো মানুষের চরম দুর্ভোগ
ধুনট (বগুড়া) প্রতিনিধি : একটু বৃষ্টি হলেই বদলে যায় পুরো দৃশ্যপট। রাস্তা যেন আর রাস্তা থাকে না পরিণত হয় কাদাপানি আর গর্তের এক দুর্ভোগের পথে। হেঁটে চলাই যেখানে কঠিন, সেখানে যানবাহন চলাচল অনেকটা স্বপ্নের মতো। এমনই দুর্ভোগের চিত্র বগুড়ার ধুনট উপজেলার গোপালনগর ইউনিয়নের বলারবাড়ি গ্রামের।
সরেজমিন দেখা যায়, বলারবাড়ি বিলের ভেতর দিয়ে প্রায় দুই কিলোমিটার কাঁচা রাস্তা রয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, প্রায় সারা বছরই রাস্তাটির বিভিন্ন অংশ জলাবদ্ধ থাকে। বর্ষা এলেই কাদাপানি আর খানাখন্দে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ে সড়কটি। সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়তে হয় অসুস্থ ও জরুরি রোগীদের। বেহাল রাস্তার কারণে অ্যাম্বুলেন্স তো দূরের কথা, অটোরিকশা কিংবা মোটরসাইকেলও অনেক সময় গ্রামে ঢুকতে পারে না।
ফলে গুরুতর অসুস্থ রোগীকে ঘোড়ার গাড়িতে কিংবা কাঁধে তুলে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে মূল সড়কে নিতে হয়। এতে একদিকে যেমন সময় নষ্ট হয়, অন্যদিকে বাড়ে রোগীর স্বজনদের দুশ্চিন্তা। শিক্ষার্থীদেরও প্রতিদিন কাদাপানি মাড়িয়ে বিদ্যালয়ে যেতে হয়।
বর্ষায় অনেক সময় পোশাক ও বই-খাতা নিয়ে স্কুলে পৌঁছানোই কঠিন হয়ে পড়ে। একই সঙ্গে কৃষকরাও পড়েন বিপাকে। মাঠের উৎপাদিত কৃষিপণ্য বাজারে নিতে বাড়তি ভাড়া গুনতে হয় তাদের। ফলে উৎপাদন খরচের সঙ্গে যোগ হয় পরিবহন ব্যয়ের বাড়তি চাপ।
উপজেলার গোপালনগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আনোয়ারুল ইসলাম জানান, এই রাস্তার বিকল্প কোন রাস্তা না থাকায় বাধ্য হয়ে এ পথেই এলাকাবাসিকে যাতায়াত করতে হয়। তাই একটি পাকা সড়ক নির্মাণের পাশাপাশি বিলের ওপর প্রয়োজনীয় ব্রিজ নির্মাণ করা হলে দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ থেকে মুক্তি মিলবে। তার প্রত্যাশা, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত উদ্যোগ নিয়ে রাস্তাটি পাকা ও নিরাপদ চলাচলের উপযোগী করবে।
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) ধুনট উপজেলা প্রকৌশলী বখতিয়ার হোসেন বলেন, বলারবাড়ি গ্রাম ও আশপাশের এলাকার মানুষের দূর্ভোগ লাঘব করতে একটি ব্রিজ সহ রাস্তা পাকাকরণের জন্য প্রাক্কলন তৈরি করে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে পাঠানো হয়েছে। সরকারি বরাদ্দ পাওয়ার পর ব্রিজ সহ রাস্তাটি পাকা করা হবে।
পোস্ট লিংক : https://karatoa.com.bd/article/180952