বগুড়ার শেরপুরে সরকার নির্ধারিত দামে মিলছে না সার, কৃত্তিম সংকট তৈরির অভিযোগ
শেরপুর (বগুড়া) প্রতিনিধি: বগুড়ার শেরপুরে সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে সার বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। বিশেষ করে টিএসপি ও ডিএপি সার নিয়ে বিপাকে পড়েছেন কৃষকরা। কৃষকের অভিযোগ বস্তাপ্রতি ৪০০ থেকে ৪৫০ টাকা পর্যন্ত বেশি নেওয়া হলেও অনেক ক্ষেত্রে দেওয়া হচ্ছে না দোকানের ম্যামো। একই সঙ্গে বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি করে বেশি দামে সার বিক্রির অভিযোগও করেছেন কৃষকরা।
সরেজমিনে উপজেলার সুঘাট ইউনিয়নের বিনোদপুর ও সাতারা, মির্জাপুর ইউনিয়নের কাশিয়াবালা, তালতা ও শাহবন্দেগী ইউনিয়নের শেরুয়া, গাড়িদহ ইউনিয়নের মিচকীপাড়া এবং খামারকান্দি ইউনিয়নের হুসনাবাদসহ বিভিন্ন এলাকায় কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে এসব অভিযোগ পাওয়া গেছে। কৃষকরা জানান, চাষাবাদের মৌসুমে প্রয়োজন অনুযায়ী সার না পাওয়ায় তারা দুশ্চিন্তায় রয়েছেন।
সাতারা গ্রামের কৃষক মনিরুজ্জামান বলেন, তিনি ১২ থেকে ১৩ বিঘা জমিতে চাষ করছেন। সময়মতো সার না পেলে ফসলের উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তার অভিযোগ, পাইকারি থেকে খুচরা কোথাও পর্যাপ্ত ডিএপি সার পাওয়া যাচ্ছে না।
সাগরপুরের সুদর্শন, জামাইলের মজনু, বিশালপুরের সাইফুল ইষলাম বলেন, আমরা ৪০ থেকে ৫০ বিঘা জমিতে ধান রোপন করেছি, এখন কোথাও সার পাচ্ছিনা। ডিলারদের কাছে গেলে জাতীয় পরিচয়পত্রের ছবি নিয়ে ১ বস্তা করে সার দেয়, এটি কোন কথা, ১ বস্তা সার দিয়ে কি করবো। অথচ বেশি দাম দিলেই তারা চাহিদা মতো সার দিচ্ছেন।
কৃষক ওহিদুল ইসলাম ৩ বিঘা, হামিদুল ইসলাম ৪ বিঘা, মাহমুদুল হক ২ বিঘা, আবু সাঈদ ৫ বিঘা, কাশিয়াবালা গ্রামের বাচ্চু শেখ ২ বিঘা ও বাবলু ৩ বিঘা জমিতে চাষ করছেন।
তারাও বাজারে সার সংকট ও বাড়তি দাম নেওয়ার অভিযোগ করে বলেন, সরকারি নির্ধারিত দাম প্রতি বস্তা টিএসপি সার ১ হাজার ৩৫০ টাকা, তাদের কাছ থেকে নেওয়া হচ্ছে ১ হাজার ৭০০ থেকে ১ হাজার ৮০০ টাকা। একইভাবে ১ হাজার ৫০ টাকা নির্ধারিত দামের ডিএপি সার ১ হাজার ৬০০ টাকা, ইউরিয়া বস্তা প্রতি ২০০ থেকে ৩০০ টাকা পর্যন্ত বেশি নিয়ে বিক্রি করছেন।
এদিকে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক খুচরা সার বিক্রেতারা বলেন, তারা সাধারণত বিসিআইসি ও বিএডিসি ডিলারদের কাছ থেকে সার সংগ্রহ করে কৃষকদের কাছে বিক্রি করেন। তাদের অভিযোগ, বস্তা প্রতি ২শ’ থেকে ৩শ’ টাকা অতিরিক্ত দামে সার কিনতে হচ্ছে এবং পর্যাপ্ত সরবরাহও পাওয়া যাচ্ছে না। অতিরিক্ত দামে সার কেনা হলেও ম্যামোতে সরকারি মূল্য দেখানো হচ্ছে বলেও তিনি দাবি করেন। তবে ডিলারদের পক্ষ থেকে এসব অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছে।
ডিলার শফিকুল ইসলাম শিরু বলেন, বাজারে সারের কোনো সংকট নেই। যে সংকট দেখানো হচ্ছে, তা ভুয়া ও মিথ্যা, তবে বিএডিসি এ ধরনের সংকট তৈরি করে থাকে। কুন্ডু ভান্ডারের স্বত্বাধিকারী তাপস কুন্ডুও বাজারে সারের সংকট ও অতিরিক্ত দাম নেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, বাজারে বর্তমানে সারের কোনো সংকট নেই, অতিরিক্ত দাম নেওয়ার কোনো প্রশ্নই আসে না।
অনেক কৃষক আগাম সার কেনার চেষ্টা করছেন। ফলে সাময়িকভাবে চাহিদা বেড়ে গিয়ে সংকটের মতো পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। তিনি জানান, তার বরাদ্দকৃত সার গত ১২ আগস্ট উত্তোলন করা হয়েছে এবং বর্তমানে টিএসপি সারের কোনো সংকট নেই। তবে ডিএপি সারের কিছুটা সংকট রয়েছে বলে তিনি স্বীকার করেন।
অভিযোগের বিষয়ে শেরপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ফারজানা আক্তার বলেন, উপজেলায় পর্যাপ্ত পরিমাণে সার রয়েছে। বাজার নিয়ন্ত্রনে খুচরা দোকানীদের কাছে সার বিক্রি করতে নিষেধ করা হয়েছে ডিলারদের। এমনকি বাজার নিয়ন্ত্রনে ছুটির দিনেও মাঠে রয়েছে কর্মকর্তারা। বেশি টাকা নিচ্ছেন এমন প্রমাণ পাওয়া গেলে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
শেরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাইদুজ্জামান হিমু বলেন, সরকার নির্ধারিত দামের অতিরিক্ত টাকা নেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। কোনো ডিলার অতিরিক্ত দাম নিলে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
পোস্ট লিংক : https://karatoa.com.bd/article/180933