টেস্ট ইতিহাসে প্রথম যে কীর্তি গড়লেন শরিফুল
স্পোর্টস ডেস্ক : ম্যাকাই টেস্টে অনন্য এক কীর্তি গড়েছেন শরিফুল, যা টেস্ট ইতিহাসে প্রথম! বাংলাদেশের টপ অর্ডার থেকে শুরু করে মিডল অর্ডার পর্যন্ত ধসের মুখোমুখি। তানজিদ হাসান থেকে শুরু করে মেহেদী হাসান মিরাজরা ব্যাট হাতে ব্যর্থ।
ব্যাটারদের ভরাডুবির দিনে শরিফুল যে বড় কোনো ইনিংস খেলেছেন তা নয়। মাত্র ১৪ রান করেন তিনি। তবুও এক বিরল রেকর্ডে নাম লেখা হয়ে গেছে তার। ১১ নম্বরে নেমে ১৩তম ব্যাটার হিসেবে সর্বোচ্চ রান করলেন শরিফুল। ১৯ বলে তিন চারে এই রান করেন তিনি। তার আগে টেস্টে ১১ নম্বরে নেমে সর্বোচ্চ স্কোর করা ব্যাটারদের তালিকায় ছিলেন ১২ জন। ১৮৮৫ সালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে অস্ট্রেলিয়ার ফ্রেডেরিক স্পোফোর্ত (৫০) এই কীর্তি গড়েছিলেন। তারপর ১৮৯৬ সালে টম ম্যাককিবিন এই তালিকায় নাম লেখান ১৬ রান করে। এই অস্ট্রেলিয়ানও ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সেই ইনিংস খেলেন।
এরপর দক্ষিণ আফ্রিকার বার্ট ভোগলার (৬২*), পাকিস্তানের আসিফ মাসুদ (৩০*), শ্রীলঙ্কার আমেরাসিংহে (৩৪), বাংলাদেশের তালহা জুবায়ের (৩১), ইংল্যান্ডের হার্মিসন (৪২), অস্ট্রেলিয়ার নাথান লায়ন (১৪), অ্যাস্টন অ্যাগার (৯৮), ওয়েস্ট ইন্ডিজের শিলিংফোর্ড (৫৩*), আয়ারল্যান্ডের মুরতাঘ (৫৪*) এবং পাকিস্তানের সাকিব মাহমুদ (৪৯) ১১ নম্বরে নেমে দলের অন্যদের চেয়ে বেশি রান করেন। কিন্তু শরিফুল যা করেছেন, ওই ১২ জনের কেউই তা করতে পারেননি।
ব্যাটিংয়ে সর্বোচ্চ ইনিংস খেলার পর বল হাতে নিজের দায়িত্বও পালন করেছেন যথাযথভাবে। লাঞ্চে ব্যাটিংয়ে নেমে অস্ট্রেলিয়া তাদের প্রথম তিন উইকেটের দুটি হারায় শরিফুলের বলে। তারপর চা বিরতির পর তিনি আরও তিনটি উইকেট তুলে নেন। তাতে টেস্ট ইতিহাসে প্রথম কোনো খেলোয়াড় হিসেবে ১১ নম্বরে নেমে সর্বোচ্চ রান ও পাঁচ উইকেট নেওয়ার কীর্তি গড়লেন শরিফুল। দিন শেষ হওয়ার আগে তিনি ৬ উইকেট নিয়েছেন।
নিজের প্রথম ওভারেই ট্র্যাভিস হেড ও মার্নাস লাবুশেনকে ফেরান শরিফুল। শেষ সেশনে দ্বিতীয় স্পেলে বল হাতে নিয়ে স্টিভ স্মিথকে আউট করে গুরুত্বপূর্ণ জুটি ভাঙেন। তারপর পাঁচ বলের ব্যবধানে আরও তিন উইকেট নেন তিনি। বেউ ওয়েবস্টার ও প্যাট কামিন্সের উইকেট নিয়ে ফাইফারের দেখা পান, পরে মিচেল স্টার্ককে সাজঘরে পাঠান।
পোস্ট লিংক : https://karatoa.com.bd/article/180894