সেতুর অভাবে বগুড়ার সারিয়াকান্দি ও দুই ইউনিয়নের মানুষের ভোগান্তি

সেতুর অভাবে বগুড়ার সারিয়াকান্দি ও দুই ইউনিয়নের মানুষের ভোগান্তি

সারিয়াকান্দি (বগুড়া) প্রতিনিধি: বগুড়া সারিয়াকান্দির কর্ণিবাড়ী এবং বোহাইল ইউনিয়নের বাসিন্দারা জামালপুরের মাদারগঞ্জের সীমানায় জহরের ঘাট নামের একটি খালে খেয়া নৌকায় পারাপারে নানা ধরনের ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। কখনো তাদের নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র পানিতে পরে নষ্ট হচ্ছে। এমতাবস্থায় এলাকাবাসীর দুর্ভোগ লাঘব করতে সেখানে দ্রুত একটি সাঁকো বা সেতু নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন দুই ইউনিয়নের বাসিন্দা।

বোহাইল ইউনিয়নের উত্তর শংকরপুর গ্রামের মৃত জাফর সরকারের স্ত্রী জাহেদা বেগম (৬৫) ঘাটে বসে কান্নাকাটি করছেন। জানা গেল, তিনি নৌকা পারাপারের সময় পানিতে পরে গিয়েছিলেন। পানিতে তার হাতের বালা এবং নাকের নোলক হারিয়ে গেছে। বাড়িতে তিনি একা থাকেন। একমাত্র মেয়েকে বিয়ে দিয়েছেন। হাতের বালাগুলো তিনি বিয়ের সময় পেয়েছেন।

নাকের নোলক তার বাবা মা ছোটবেলায় গড়ে দিয়েছেন। একটি বিয়ের দাওয়াতে যাওয়ার জন্য তিনি তার পুরাতন স্বর্ণের জিনিস গুলো চকচকে করতে এবং সংসারের কিছু নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিস কিনতে মাদারগঞ্জ গিয়েছিলেন।

ফেরার পথে খাল পার হয়ে নৌকা থেকে নামার সময় তিনি পানিতে পরে যান। সেখানে পানিতে  তার স্বর্ণের জিনিসগুলো হারিয়ে যায়। পরে অনেক খোঁজাখুঁজি করেও আর তা পাওয়া যায়নি। উপজেলার বোহাইল এবং কর্ণিবাড়ী ইউনিয়নের বাসিন্দারা যমুনা নদীর কারণে সারিয়াকান্দি উপজেলা সদরে যাতায়াতে অভ্যস্ত না। তারা তাদের নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিস কিনতে মাদারগঞ্জ যাতায়াত করেন।

মাদারগঞ্জ যাতায়াতে একমাত্র সড়ক ভেঙে গিয়ে বহু বছর আগে সেখানে একটি খালের সৃষ্টি হয়েছে। কয়েকবছর ধরেই সেখানে এলাকাবাসী খেয়া নৌকায় যাতায়াত করেন। যেটি জহরের ঘাট নামে পরিচিত। এখানে নৌকা পারাপারে এলাকাবাসী নানা ধরনের ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।

কখনো তারা নৌকা থেকে পরে গিয়ে তাদের প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র হারাচ্ছেন, কখনও মোটরসাইকেল পরে গিয়ে মানুষ আহত হচ্ছে, কখনো কলেজ পরুয়া শিক্ষার্থীরা পানিতে পরে তাদের জামাকাপড় নষ্ট করছেন, কখনো এ নৌঘাট পার হওয়ার ভয়ে শিক্ষার্থীরা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অনুপস্থিত থাকছেন, কখনো কৃষকদের সার বীজ এবং কীটনাশক পানিতে পরে নষ্ট হচ্ছে। এমতাবস্থায় সরকার কাছে ২০০ মিটার এলাকার খালের উপর একটি সেতু বা সাঁকোর দাবি জানিয়েছেন সারিয়াকান্দির দুই ইউনিয়নের বাসিন্দা।

কর্ণিবাড়ী ইউনিয়নের বাসিন্দা আহসান হাবীব শেখ বলেন, জহরের ঘাট দিয়ে প্রতিদিন সারিয়াকান্দি উপজেলার হাজার হাজার মানুষ এবং শতশত মোটরসাইকেল নানা ধরনের ভোগান্তির শিকার হয়ে মাদারগঞ্জ যাতায়াত করছেন। জামালপুরের মাদারগঞ্জের সীমানায় হওয়ায় আধুনিক যুগেও সেখানে কোনও সেতু বা সাঁকো নির্মাণ হয়নি।

সীমান্ত এলাকায় বসবাস করার কারণে আমরা খুবই অবহেলিত। তাই জহরের ঘাটে একটি সাঁকো বা সেতু নির্মাণ করা জরুরী। এ বিষয়ে সারিয়াকান্দি উপজেলা নির্বাহী অফিসার এস এম মিকাইল ইসলাম বলেন, জামালপুর জেলার মাদারগঞ্জের কাইজার চরের পাশে সারিয়াকান্দি উপজেলার সীমানা ঘেঁষা একটি খালে দীর্ঘদিন ধরেই সারিয়াকান্দি উপজেলার বোহাইল এবং কর্ণিবাড়ী ইউনিয়নের বাসিন্দারা নানা ধরনের ভোগান্তির শিকার হয়ে যাতায়াত করছেন।

যমুনা নদীর কারণে এসব এলাকার লোকজন তাদের নিত্য পণ্যের জন্য মাদারগঞ্জ উপজেলায় যাতায়াত করছেন। এলাকাবাসীর যাতায়াতের সুবিধার্থে সেখানে একটি সাঁকো বা সেতু নির্মাণের জন্য জামালপুর জেলার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সাথে আলোচনা করে প্রতিবেদন প্রেরণ করা হবে। এছাড়া এলাকাবাসীকে এ বিষয়ে একটি আবেদন করার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।

পোস্ট লিংক : https://karatoa.com.bd/article/180825