সৌদির পাঠ্যবইয়ে বাদ জেরুজালেম না ছাড়ার বাক্য, মানচিত্রে উধাও ফিলিস্তিন
আন্তর্জাতিক ডেস্ক : সৌদি আরবের স্কুলের পাঠ্যবইয়ে ইসলাম, ফিলিস্তিন ও ইসরায়েল সম্পর্কিত বিষয়বস্তুর পরিবর্তনের প্রশংসা করেছে ইসরায়েলভিত্তিক গবেষণা সংস্থা ইমপ্যাক্ট-এসই। সংস্থাটির দাবি, নতুন সংস্করণে ইহুদিবিদ্বেষমূলক বিভিন্ন উপাদান বাদ দেওয়ার পাশাপাশি ইসরায়েল ও ইহুদিদের উপস্থাপনেও কিছু পরিবর্তন আনা হয়েছে।
ইমপ্যাক্ট-এসইর পাঠ্যক্রম পর্যালোচনার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সৌদি পাঠ্যবই থেকে ‘মুসলিমরা কখনোই জেরুজালেম ছাড়বে না’ বাক্যটি বাদ দেওয়া হয়েছে। সংস্থাটির মতে, এই বক্তব্য জেরুজালেমে মুসলিমদের নিয়ন্ত্রণ বা উপস্থিতি হুমকির মুখে রয়েছে এবং শহরটি মুসলিম ও অন্য গোষ্ঠীর সংঘাতের ক্ষেত্র—এমন ধারণা তৈরি করতে পারে।
২০২৫ সালের সংস্করণে একটি হাদিসও বাদ দেওয়া হয়েছে, যেখানে মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) এক অসুস্থ ইহুদি বালককে দেখতে যাওয়ার পর তার ইসলাম গ্রহণের ঘটনা উল্লেখ ছিল। ইমপ্যাক্ট-এসই এটিকে ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের গ্রহণযোগ্যতার ক্ষেত্রে ইতিবাচক পরিবর্তন হিসেবে দেখেছে। কোরআনের কিছু আয়াত সংক্ষিপ্ত করার সিদ্ধান্তকেও স্বাগত জানিয়েছে সংস্থাটি।
পাঠ্যবইয়ের মানচিত্রেও পরিবর্তনের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। আগের বইয়ে পুরো ভূখণ্ডকে ‘ফিলিস্তিন’ হিসেবে দেখানো হলেও ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের বইয়ে ‘ফিলিস্তিন’ নামটি সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। তবে মানচিত্রে ইসরায়েলের নামও এখনো দেখানো হয়নি।
একাদশ শ্রেণির একটি ইতিহাস বইয়ে ‘ইহুদি শত্রু’ শব্দের পরিবর্তে ‘ইসরায়েলি দখলদারত্ব’ ব্যবহার করা হয়েছে। তবে ইমপ্যাক্ট-এসই বলেছে, এ পরিবর্তনও যথেষ্ট নয়। তাদের দাবি, ‘ইসরায়েলি দখলদারত্ব’ শব্দটি পুরো ইসরায়েলকে বোঝাতে পারে এবং এতে দেশটিকে স্বীকৃতি না দেওয়ার অবস্থান প্রকাশ পায়।
ইহুদিদের ‘ধূর্ত ও চতুর’ হিসেবে উপস্থাপনের কিছু উদাহরণ নিয়েও আপত্তি জানিয়েছে সংস্থাটি। বিশেষ করে ইসরায়েলের প্রথম প্রেসিডেন্ট চাইম ওয়াইজম্যানের সঙ্গে সৌদি আরবের প্রতিষ্ঠাতা বাদশাহ আবদুল আজিজের সম্পর্কের একটি ঐতিহাসিক ঘটনা নিয়ে পাঠ্যবইয়ের বর্ণনাকে নেতিবাচক হিসেবে দেখেছে তারা। তবে প্রতিবেদনে উল্লিখিত ওই ঘটনার কিছু মূল তথ্য ঐতিহাসিক নথিতেও পাওয়া যায়।
ইমপ্যাক্ট-এসই মধ্যপ্রাচ্যের পাঠ্যবইয়ে পরিবর্তনের পক্ষে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছে এবং ইসরায়েলকে স্পষ্টভাবে স্বীকৃতি দেওয়ার পক্ষে অবস্থান নেয়। সংস্থাটির প্রতিবেদনে সৌদি আরবের সাম্প্রতিক পরিবর্তনকে ইতিবাচক হিসেবে তুলে ধরে বলা হয়েছে, ইসরায়েল ও ইহুদিদের উপস্থাপনের ক্ষেত্রে আগের তুলনায় ধারাবাহিক পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে।
তবে এসব পরিবর্তনের প্রশংসা এমন সময়ে এসেছে, যখন ইসরায়েলে আল-আকসা মসজিদকে ঘিরে উত্তেজনা বাড়ছে এবং ইসরায়েলি রাজনীতিবিদদের একটি অংশ মসজিদটি ধ্বংস করে সেখানে ইহুদি মন্দির নির্মাণের আহ্বান জানিয়ে আসছেন। সোমবার ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ প্রথমবারের মতো দখল করা পূর্ব জেরুজালেমের আল-আকসা মসজিদের ভেতরে ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীদের ইহুদি প্রার্থনার অনুমতিও দিয়েছে।
পোস্ট লিংক : https://karatoa.com.bd/article/180764