মাছ বিক্রি করে খেলা শেখা ফারিহা নতুন কুঁড়ির সেরা খেলোয়াড়

মাছ বিক্রি করে খেলা শেখা ফারিহা নতুন কুঁড়ির সেরা খেলোয়াড়

লালপুর (নাটোর) প্রতিনিধি: লালপুরের নান্দ বাজার থেকে দিনমজুর পরিবারের জান্নাতুল ফেরদৌস ফারিহা মনির বাড়িতে যাওয়ার তেমন কোন রাস্তা নেই। মনি এবার নতুন কুঁড়ি স্পোর্টসে মেয়েদের ফুটবলে সেরা খেলোয়াড়। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নিজে ফারিহার হাতে ট্রফি তুলে দেন। সংবর্ধনা মেলে জেলা প্রশাসক থেকেও।

অভাবের সাথে লড়াই করে প্রত্যন্ত গ্রামের কিশোরী হয়ে উঠলেন দেশসেরা খেলোয়াড়। জানা যায়, ফারিহা মনির বাবা মুকুল হোসেন ও মা আজেলা বেগম দু’জনেই দিনমুজর। বাকপ্রতিবন্ধী বাবা ও মায়ের সংসারে এখন সবচেয়ে বড় স্বপ্নের নাম ফারিহা। তারা দুই বোন ও এক ভাই। বড় বোনের বিয়ে হয়েছে অনেক আগেই। মনি স্থানীয় নান্দরায়পুর উচ্চ বিদ্যালয়ের ৭ শ্রেণির শিক্ষার্থী।

প্রধানমন্ত্রীর সাথে ফারিয়ার সাক্ষাতের অভিজ্ঞতা প্রসঙ্গে মনি বলে, প্রথম যেদিন আমি স্টেজে উঠি ম্যাচ অবদা টুর্নামেন্ট সেরা প্লেয়ার হিসেবে প্রধানমন্ত্রীর হাত থেকে পুরস্কার নেই। স্টেজের অনুভুতিটা ছিল একদম অন্যরকম। প্রধানমন্ত্রীর হাত থেকে ট্রফিটা নিচ্ছি পাশেই ছিলেন ক্রীড়ামন্ত্রী। তখন ক্রীড়ামন্ত্রী প্রধানমন্ত্রীকে বলেন এ ফারিয়া। প্রধানমন্ত্রী বলেন আমি ওকে চিনি, ওর ভিডিও আমি দেখেছি, ও ফারিয়া। উনি যে আমাকে চেনেন এটাই আমার পাওয়া। অনেকদিন ফুটবল খেলে এসে রাতের খাওয়াটাও পাইনি, আজ সেই প্রতিদান পেয়িছি আর কোন কষ্ট নেই।

ফারিহা মনি জানায়, আমার উঠে আসাটা সহজ ছিল না। মাছ বিক্রি করে আমাদের সংসার চলতো। একদিন পাশের বাড়িতে টিভিতে ফুটবল খেলা দেখছিলাম। যখন গোল করে তখন সবাই উল্লাস করে। আমিও ভাবতাম আমাকে নিয়ে যদি আমার এলাকার মানুষ এমন উল্লাস করত। এখান থেকেই ফুটবল খেলার নেশা। একদিন খলিসাডাঙ্গা নদীর পাশে মাছ ধরার সময় আমার বর্তমান যে কোচ, জুয়েল রানার সাথে দেখা হয়। জুয়েল স্যার আমার পরিবারকে রাজি করান। তারপর ৮ কিলোমিটার দূরে স্যারের নর্থ বেঙ্গল ফুটবল একাডেমিতে আমি প্যাক্ট্রিস করতে যেতাম। এভাবেই ফুটবল জীবনে পা রাখি।

নর্থবেঙ্গল ফুটবল একাডেমির প্রতিষ্ঠাতা ও ফারিয়ার কোচ মো. জুয়েল রানা বলেন, একসময় জাতীয় স্টেডিয়ামে খেলেছি। ইনজুরিতে পড়ে আর খেলতে পারিনি। ফুটবল খেলার ভালোবাসা থেকে নাটোর থেকে ৩০টা মেয়েদের একটা ক্যাম্প করানোর ডাক পাই। তাদের নিয়ে কাজ করার চিন্তা আসে। যেটা আমি আমার জীবনে করতে পারিনি, ওদের নিয়ে সেই স্বপ্ন দেখি। একদিন নদীর ধারে মাছ ধরছিলাম। তখন ছোট্ট ফারিয়া মনি এসে বলে স্যার আমি ফুটবল খেলতে চাই। ওর মধ্যে যে আগ্রহ দেখেছি, সেই থেকে আমি ওকে নিয়ে প্যাক্ট্রিস করাতাম। এরপর একাডেমি থেকে উপজেলা, জেলা ও বিভাগীয় টিমে খেলে। 

 

পোস্ট লিংক : https://karatoa.com.bd/article/180751