বিশ্ব মশা দিবস আজ

বিশ্ব মশা দিবস আজ

আজ ২০ আগস্ট, বিশ্ব মশা দিবস। প্রতি বছর এই দিনে বিশ্বজুড়ে মশাবাহিত রোগ সম্পর্কে মানুষকে সচেতন করা, রোগের বিস্তার রোধ এবং মশা নিয়ন্ত্রণে জনসম্পৃক্ততা বাড়াতে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করা হয়।

বিশ্ব মশা দিবসের সঙ্গে জড়িয়ে আছে চিকিৎসাবিজ্ঞানের একটি গুরুত্বপূর্ণ আবিষ্কার। ১৮৯৪ সালে ব্রিটিশ চিকিৎসক স্যার প্যাট্রিক ম্যানসন এবং ভারতীয় মেডিকেল সার্ভিসের কর্মকর্তা রোনাল্ড রস ম্যালেরিয়া ছড়ানোর ক্ষেত্রে মশার ভূমিকা নিয়ে গবেষণা শুরু করেন। দীর্ঘ গবেষণার পর ১৮৯৭ সালের ২০ আগস্ট রোনাল্ড রস প্রমাণ করেন, স্ত্রী অ্যানোফিলিস মশা ম্যালেরিয়ার পরজীবী বহন করে মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে দিতে পারে। এই আবিষ্কার ম্যালেরিয়া প্রতিরোধ ও চিকিৎসাবিজ্ঞানে বড় পরিবর্তন আনে। ম্যালেরিয়া নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ গবেষণার স্বীকৃতি হিসেবে ১৯০২ সালে রোনাল্ড রস চিকিৎসাবিজ্ঞানে নোবেল পুরস্কার লাভ করেন। তার সেই ঐতিহাসিক আবিষ্কারকে স্মরণ করেই ২০ আগস্ট বিশ্ব মশা দিবস পালন করা হয়।

মশা দেখতে ছোট হলেও এর মাধ্যমে ছড়াতে পারে প্রাণঘাতী নানা রোগ। ম্যালেরিয়া, ডেঙ্গু, চিকুনগুনিয়া, জিকা, ইয়েলো ফিভার ও জাপানিজ এনকেফালাইটিসের মতো রোগের অন্যতম বাহক হলো মশা। তাই মশার বংশবিস্তার রোধ ও মশার কামড় থেকে সুরক্ষা নেওয়া জনস্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মশাবাহিত রোগের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের জন্য দিবসটির গুরুত্ব অনেক বেশি। দেশের উষ্ণ ও আর্দ্র আবহাওয়া মশার বংশবিস্তারের জন্য অনুকূল। ফলে বছরের বিভিন্ন সময়ে মশাবাহিত রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা যায়। দেশে মশাবাহিত রোগগুলোর মধ্যে সবচেয়ে পরিচিত ডেঙ্গু, চিকুনগুনিয়া, ম্যালেরিয়া, ফাইলেরিয়া ও জাপানিজ এনকেফালাইটিস। বিশেষ করে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ডেঙ্গুর প্রকোপ জনস্বাস্থ্যের জন্য বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

মশাবাহিত রোগ প্রতিরোধে শুধু সিটি করপোরেশন বা স্থানীয় প্রশাসনের মশকনিধন কার্যক্রমের ওপর নির্ভর করলেই হবে না। বাড়ি ও আশপাশের এলাকায় জমে থাকা পানি পরিষ্কার করা, ফুলের টব, পরিত্যক্ত পাত্র, ডাবের খোসা ও অন্যান্য স্থানে পানি জমতে না দেয়া এবং প্রয়োজন অনুযায়ী মশারি বা রিপেলেন্ট ব্যবহার করাও গুরুত্বপূর্ণ। বিশ্ব মশা দিবস তাই শুধু একটি দিবস পালনের উপলক্ষ নয়। মশাবাহিত রোগ প্রতিরোধে ব্যক্তি, পরিবার ও সমাজ সব পর্যায়ে সচেতনতা বাড়ানোরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করে।

পোস্ট লিংক : https://karatoa.com.bd/article/180676