ইউরোপের মার্কিন ঘাঁটিতে আঘাতের পরিকল্পনা ইরানের

ইউরোপের মার্কিন ঘাঁটিতে আঘাতের পরিকল্পনা ইরানের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সামরিক সংঘাত মধ্যপ্রাচ্যের গণ্ডি পেরিয়ে এবার সমগ্র ইউরোপে ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যদি ইরানি অবকাঠামোয় সামরিক অভিযান অব্যাহত রাখেন, তবে জবাবে ইউরোপে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোয় সরাসরি হামলার পরিকল্পনা করেছে তেহরান। যুক্তরাজ্যের প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম ফিন্যান্সিয়াল টাইমসের এক বিশেষ প্রতিবেদনে এই তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে। 

একই সময়ে ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর চিফ অব স্টাফ মেজর জেনারেল আলী আবদুল্লাহি মধ্যপ্রাচ্যের উপসাগরীয় দেশগুলোকে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে জানিয়েছেন, মার্কিন বাহিনীকে স্থান বা সামরিক সুবিধা দিলে সেসব দেশকে ওয়াশিংটনের যুদ্ধসঙ্গী বিবেচনা করে পাল্টা আঘাত হানা হবে। ফিন্যান্সিয়াল টাইমসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইউরোপে অবস্থিত মার্কিন লক্ষ্যবস্তুগুলোতে আঘাত হানার নীতিগত সিদ্ধান্ত খতিয়ে দেখছে তেহরান। বিশেষ করে বুলগেরিয়ার বেজমের বিমান ঘাঁটি (যা মার্কিন ড্রোন ও রিফুয়েলিংয়ে ব্যবহৃত হয়) এবং সাইপ্রাসের সামরিক স্থাপনাগুলোকে সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক তেহরানের এক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা বলেন, ইউরোপের বোঝা উচিত তাদের ভূখণ্ডেও ক্ষেপণাস্ত্র পড়তে পারে। আমাদের জাতীয় অবকাঠামো ধ্বংস করা হলে এই যুদ্ধ আর কেবল মধ্যপ্রাচ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না। এছাড়া সংঘাত চরম আকার ধারণ করলে হরমুজ প্রণালির তলদেশের মূল সাবসি ফাইবার-অপটিক কেবল কেটে দেওয়ার পরিকল্পনাও রয়েছে তাদের। 

সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) দাবি করেছে, তাদের আঞ্চলিক সমুদ্রসীমা লক্ষ্য করে দুটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে ইরান। যদিও এতে কোনো ক্ষয়ক্ষতি হয়নি, তবে নিরাপত্তাজনিত কারণ দেখিয়ে ইরানের সঙ্গে যাবতীয় বাণিজ্য ও আর্থিক লেনদেন অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত করেছে দেশটি। যদিও ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই এই অভিযোগকে মিথ্যা ও উসকানিমূলক বলে প্রত্যাখ্যান করেছেন।

অন্যদিকে জেনারেল আলী আবদুল্লাহি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, স্বাগতিক দেশের অনুমতি ছাড়া মার্কিন বিমান বা রিফুয়েলিং ট্যাংকার ঘাঁটিতে অবস্থান নেওয়া অসম্ভব। সুতরাং আক্রামণকারী মার্কিন বাহিনীকে যে কোনো সহায়তা প্রদান করা সরাসরি ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণার শামিল। দীর্ঘায়িত এই যুদ্ধ নিয়ে তেহরানের রাজনৈতিক অঙ্গনে মতপার্থক্য তৈরি হয়েছে। 

সাবেক প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ খাতামি অন্ধ আবেগে চালিত হয়ে বিশ্ব পরাশক্তির সঙ্গে যুদ্ধ চালানোর পরিণাম নিয়ে সতর্ক করেছেন। বিপরীতে স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ বহিরাগত শক্তির হস্তক্ষেপ ছাড়া এক নতুন আঞ্চলিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা গড়ে তোলার ডাক দিয়েছেন।

পোস্ট লিংক : https://karatoa.com.bd/article/180675