অঙ্গীকার ও ওয়াদা রক্ষাই বিএনপির সংস্কৃতি: রিজভী

অঙ্গীকার ও ওয়াদা রক্ষাই বিএনপির সংস্কৃতি: রিজভী

জনগণের ভোটে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে নির্বাচিত সরকারই জনগণের কাছে দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেন, অঙ্গীকার ও ওয়াদা রক্ষা করাই বিএনপির সংস্কৃতি।

বুধবার রাজধানীর জিয়া উদ্যানে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সমাধিতে জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দলের ৪৬তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন তিনি।

রিজভী বলেন, শেখ হাসিনা ২০০৮ সালের নির্বাচনের আগে ঘরে ঘরে চাকরি ও বিনামূল্যে সার দেওয়ার কথা বলেছিলেন। কিন্তু তার আমলে দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে বাংলাদেশের বেকারত্বের হার সবচেয়ে বেশি অবস্থায় ছিল। তার দাবি, প্রতারণা, ভণ্ডামি ও মিথ্যা আশ্বাস আওয়ামী লীগের নীতি ও সংস্কৃতি ছিল। অন্যদিকে বিএনপির সংস্কৃতি হলো অঙ্গীকার ও ওয়াদা রক্ষা করা।

সরকারের সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দলের দুই নেতা বর্তমানে সংসদ সদস্য। জনগণের মধ্যে এসব কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা সংগঠনের অন্যতম দায়িত্ব। ইতিমধ্যে পরিবারের নারীদের ‘ফ্যামিলি কার্ড’ এবং কৃষকদের ‘কৃষক কার্ড’ দেওয়া হয়েছে। প্রায় ১৩ লাখ কৃষকের ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত সুদ ও আসল মওকুফ করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

রিজভী বলেন, নির্বাচনের আগে তারেক রহমান মোয়াজ্জিন, ইমাম ও বিভিন্ন ধর্মীয় সম্প্রদায়ের ধর্মগুরুদের সম্মানী ভাতা দেওয়ার যে অঙ্গীকার করেছিলেন, তা বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

তিনি আরও জানান, ২৫ কোটি গাছ লাগানোর লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে ছয় মাসে প্রায় ৩ কোটি গাছ লাগানো হয়েছে। পাশাপাশি ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খননের লক্ষ্যের মধ্যে গত ছয় মাসে ১০ হাজার কিলোমিটার খাল খনন করা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

আন্তর্জাতিক সম্পর্ক নিয়ে রিজভী বলেন, বাংলাদেশ স্বাধীন ও সার্বভৌম দেশ হিসেবে সমতার ভিত্তিতে সব দেশের সঙ্গে বন্ধুত্ব করতে চায়। কোনো শর্তের ভিত্তিতে বন্ধুত্ব হতে পারে না। পারস্পরিক সম্মান, সমতা ও একে অপরের সার্বভৌমত্বের প্রতি শ্রদ্ধার ভিত্তিতেই অন্য দেশের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখা হবে।

তিনি বলেন, জনকল্যাণমূলক কাজই তারেক রহমানের নীতি। এসব কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়ার দায়িত্ব জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দলের। জিলানী ও রাজিবের নেতৃত্বে সংগঠনটি ভবিষ্যতেও এ ভূমিকা পালন করবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

কর্মসূচিতে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব হাবিব উন নবী খান সোহেল, স্বেচ্ছাসেবক বিষয়ক সম্পাদক মীর সরাফত আলী সপু, সহ-স্বেচ্ছাসেবক বিষয়ক সম্পাদক আব্দুল কাদের ভূইয়া জুয়েলসহ স্বেচ্ছাসেবক দলের কেন্দ্রীয় ও মহানগর পর্যায়ের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

পোস্ট লিংক : https://karatoa.com.bd/article/180654