বগুড়ার সারিয়াকান্দিতে অতিবৃষ্টিতে ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক, জনভোগান্তি চরমে

বগুড়ার সারিয়াকান্দিতে অতিবৃষ্টিতে ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক, জনভোগান্তি চরমে

সারিয়াকান্দি (বগুড়া) প্রতিনিধি : অতিবৃষ্টির কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া বগুড়া সারিয়াকান্দির সড়কগুলো এখনো মেরামত হয়নি। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে উপজেলার কাজলা, চালুয়াবাড়ী, কর্ণিবাড়ী এবং বোহাইল ইউনিয়নের কাঁচা সড়কগুলো। এসব ভাঙা সড়কে চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন এলাকাগুলোর মানুষ। অতি দ্রুত সড়কগুলোর সংস্কার চান তারা।

বগুড়া সারিয়াকান্দিতে গত কয়েকমাস আগে অতিবৃষ্টি হয়েছিল। এ ভারি বর্ষনে উপজেলার বেশকিছু সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কোথাও বিশালাকার গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। কোথাও আবার সড়কের সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়েছে। বিশেষ করে চরাঞ্চলের কাঁচা সড়কগুলোর অবস্থা খুবই খারাপ।

উপজেলার বোহাইল ইউনিয়নের মূলবাড়ী নৌঘাট থেকে বোহাইল, শংকরপুর এবং ধারাবর্ষা গামী সড়কের বেশকিছু এলাকায় বিশালাকার গর্তের সৃষ্টি হয়েছে এবং কোথাও সড়কটি মূল সড়ক থেকে বিচ্ছিন্ন হয়েছে।

উপজেলার কর্ণিবাড়ী ইউনিয়নের মহিলা বাঁধ গত কয়েক বছর ধরেই অবহেলিত। যা দীর্ঘদিন ধরে কোনও সংস্কার হয়নি। এ সড়কের বেশকিছু এলাকায় বড়বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। কোথাও এসব গর্ত মূল সড়ককে বিচ্ছিন্ন করে ফেলেছে। কোথাও এসব গর্ত প্রায় ১৫০ মিটার পর্যন্ত বিস্তৃত হয়েছে। যেখানে এলাকাবাসী ড্রামের ভেলা দিয়ে চলাচল করছেন।

গত কয়েকবছর আগে নির্মিত চায়না বাঁধের অবস্থাও বেশ শোচনীয়। সড়কটির ডাকাতমারা নৌঘাট থেকে ৫০০ মিটার দূরে প্রায় ১০০ মিটার এলাকা ধ্বসে গিয়েছে। এতে মূল সড়কটি দিয়ে মানুষসহ বিভিন্ন যানবাহন চলাচল করতে পারছেন না।

শুধুমাত্র পায়ে হেঁটে এলাকাবাসী অনেকদূর ঘুরে কৃষকদের কৃষিজমির উপর দিয়ে চলাচল করছেন। এছাড়া এ সড়কটির প্রায় অর্ধশত এলাকায় বড়বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। কাজলা ইউনিয়নের জামথল নৌঘাট থেকে মাদারগঞ্জ উপজেলা গামী সড়কটিরও একেবারে বেহাল দশা।

বালুবাহী ডাম্প ট্রাক এবং বালুবাহী ট্রলি চলাচল করার কারণে এ সড়কটি দিয়ে বগুড়া থেকে জামালপুর জেলাগামী যাত্রীরা নানা ধরনের ভোগান্তির শিকার হয়ে যাতায়াত করছেন। নৌঘাট থেকে শাহজালাল বাজারগামী পাকা সড়কটিরও বেশকিছু এলাকায় বিশালাকার গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। শাহজালাল বাজার থেকে মানিকদাইড় বাজারগামী পাকা সড়কটিও নানাভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

সড়কটির দক্ষিণ চরঘাগুয়া গ্রামে বিশালাকার গর্তের সৃষ্টি হয়ে সেখানে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। সেখানে যানবাহন চলাচল বন্ধ রয়েছে। এতে এলাকাবাসী অনেকদূর ঘুরে কাঁচা সড়ক দিয়ে যাতায়াত করছেন। এ সড়কের পাকেরদহ গ্রামের কাজলা ইউনিয়ন পরিষদের কাছে ধ্বসে গিয়ে সড়কের সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়েছে।

পাকেরদহ থেকে মানিকদাইড় বাজার পর্যন্ত সড়কটির প্রায় অর্ধশত এলাকায় বড়বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। এসব সড়ক দিয়ে কোথাও কোথাও ব্যাটারি চালিত অটোরিকশা চলাচল করতে পারছে না। কোথাও লোকজন ঘোড়ার গাড়ি দিয়ে তাদের নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র পরিবহন করছেন। কোথাও এলাকাবাসী ঘারে করে জিনিসপত্র পরিবহন করছেন।

কাজলা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ রফিকুল ইসলাম বলেন, অতিবর্ষনের ফলে আমার ইউনিয়নের বেশকিছু সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কোথাও একেবারে সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়েছে। সেখানে এলাকাবাসী অনেকদূর ঘুরে পায়ে হেঁটে চলাচল করছেন।

সড়কগুলোর দুর্দশার বিষয়ে আমি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করেছি। এখনো সড়কগুলো মেরামত করা হয়নি। সড়কগুলো দ্রুত মেরামত করতে এলাকাবাসী পক্ষে আমি উর্ধতন কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।

সারিয়াকান্দি উপজলা নির্বাহি কর্মকর্তা এস এম মিকাইল ইসলাম বলেন, গত কয়েকদিন আগের অবিরাম বর্ষনে সারিয়াকান্দি উপজেলার বেশকিছু সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিশেষ করে চরাঞ্চলের কাজলা ইউনিয়নের শাহজালাল বাজার থেকে মানিকদাইড় বাজারের পাকা সড়ক, কর্ণিবাড়ী ইউনিয়নের মহিলা বাঁধ এবং চায়না বাঁধ নামের দুটি কাঁচা সড়ক এবং বোহাইল ও চালুয়াবাড়ী ইউনিয়নের বেশকিছু সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

এসব সড়কগুলো মেরামত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে প্রতিবেদন প্রেরণ করা হবে। এছাড়া স্থানীয় প্রকৌশলী এবং প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তাকে সড়কগুলো পরিদর্শন করে প্রতিবেদন পাঠাতে নির্দেশ প্রদান করা হবে।

পোস্ট লিংক : https://karatoa.com.bd/article/180491