জয়পুরহাট সীমান্ত ঘেষা রাস্তার বেহাল অবস্থা: চরম দুর্ভোগে স্থানীয়রা

জয়পুরহাট সীমান্ত ঘেষা রাস্তার বেহাল অবস্থা: চরম দুর্ভোগে স্থানীয়রা

জয়পুরহাট প্রতিনিধি: জয়পুরহাট সদর উপজেলার ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তঘেঁষা একমাত্র সড়কটি আজও পাকা না হওয়ায় চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন স্থানীয়রা। সামান্য বৃষ্টিতেই সড়কটি চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ে।

এতে সীমান্তে পুশইন, উত্তেজনা বা কোনো অঘটন ঘটলে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সময়মতো পৌঁছাতে পারে না। পাশাপাশি স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী, রোগী, কৃষক ও ব্যবসায়ীসহ সব শ্রেণিপেশার মানুষ পড়েছেন চরম বিপাকে।

জানা গেছে, সদর উপজেলার কদমতলী মোড় থেকে রামকৃষ্ণপুর ও কল্যাণপুর হয়ে পাঁচবিবি উপজেলার লকমা জমিদার বাড়ি পর্যন্ত প্রায় ৪ কিলোমিটারের এই আঞ্চলিক সড়কটি পুরোটাই সীমান্তঘেঁষা। দীর্ঘদিনেও সড়কটি সংস্কার না হওয়ায় বর্ষা মৌসুমে কাদা-পানিতে একাকার হয়ে যায়। মুমূর্ষু কিংবা প্রসূতি রোগীদের সময়মতো হাসপাতালে নেওয়া সম্ভব হয় না। শিক্ষার্থীরাও ঠিক সময়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যেতে পারে না।

সড়কটির বেহাল দশা নিয়ে স্থানীয় শিক্ষার্থী আকলিমা খাতুন বলেন, ‘বর্ষার সময় যখন আমরা স্কুলে যাই, কাদা-পানির কারণে স্কুলে পৌঁছানোর আগেই আমাদের ড্রেস কাদায় মেখে যায়।’ স্থানীয় বাসিন্দা মোস্তাক আহমেদ বলেন, ‘আমরা দীর্ঘদিন ধরে মেম্বার-চেয়ারম্যানকে ভোট দেই, কিন্তু তারা আমাদের রাস্তাগুলো করে না। রাস্তা না করার কারণে বর্ষার সময় আমাদের চলাফেরায় অনেক কষ্ট হয়।’

শিউলি আক্তার নামের আরেক নারী বলেন, ‘রাস্তার সমস্যার কারণে কোনো ডেলিভারি বা অসুস্থ রোগীকে হাসপাতালে নেওয়া যায় না। এই রাস্তা দিয়ে চলাফেরা করা একেবারেই অসম্ভব হয়ে পড়েছে।’

স্থানীয় বাসিন্দা আক্কাস আলী বলেন, ‘এই রাস্তার এমন দশা যে, কোনো ইজিবাইক বা মোটরসাইকেল চলতে পারে না। বাধ্য হয়ে আমরা ঘাড়ে ও পিঠে বোঝা বয়ে কোনোরকমে ওপারে গিয়ে বাজারে যাই।’ রামকৃষ্ণপুর কদমতলী নিম্নমাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. শাহ আলম বলেন, প্রধানমন্ত্রীর কাছে আমাদের জোর দাবি, আমাদের এই রাস্তাটা যেন দ্রুত করে দেওয়া হয়।’

এ বিষয়ে স্থানীয় ধলাহার ইউনিয়নের চেয়ারম্যান তোজাম্মেল হক বলেন, ‘কল্যাণপুর ও রামকৃষ্ণপুর মিলে একটি ওয়ার্ড। এখানে প্রায় ১৬-১৭শ’ ভোটার বসবাস করেন। তাদের সুবিধার জন্য যত দ্রুত সম্ভব এই রাস্তাটি টেন্ডারের আওতায় নিয়ে আসার জন্য সংশ্লিষ্টদের কাছে বিনীত অনুরোধ জানাচ্ছি।’

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) জয়পুরহাটের নির্বাহী প্রকৌশলী আ. রহিম বলেন, যেহেতু এটি সীমান্তবর্তী এবং বিজিবির যাতায়াতের সঙ্গে সম্পৃক্ত রাস্তা, তাই আগামীতে নতুন প্রকল্পের প্রস্তাবনা চাওয়া হলে এটি অন্তর্ভুক্ত করে বাস্তবায়নের সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হবে।

পোস্ট লিংক : https://karatoa.com.bd/article/180478