ওয়াশিং মেশিনে দুর্গন্ধ হলে...
লাইফস্টাইল ডেস্ক : ওয়াশিং মেশিনের কাজ কাপড় পরিষ্কার করা। তবে কিছুদিন ব্যবহারের পর মেশিন খুলতেই ভেজা কাপড় বা স্যাঁতসেঁতে ঘরের মতো এক ধরনের দুর্গন্ধও হতে পারে। এছাড়া সেই গন্ধ ধোয়া কাপড়েও ছড়াতে পারে। এটিকে অনেক সময়ে পুরানো মেশিনের সমস্যাও ধরে নেওয়া হয়।
তবে নতুন বা পুরানো যেকোনো ওয়াশিং মেশিনেই এমন হতে পারে, যদি নিয়মিত পরিচর্যার অভাব থাকে। ওয়াশিং মেশিনে দীর্ঘ সময় আর্দ্রতা আটকে থাকাই দুর্গন্ধের কারণ। এই পরিবেশে ছত্রাক ও জীবাণু সহজেই জন্মাতে পারে। পাশাপাশি সাবানের আস্তরণ, কাপড়ের ময়লা, শরীরের তেল, খনিজ পদার্থ ও অন্যান্য অবশিষ্টাংশ ধীরে ধীরে জমে দুর্গন্ধ আরও বাড়িয়ে দেয়।
আর্দ্রতা থেকেই শুরু হয় সমস্যা ঃ প্রতিবার কাপড় ধোয়ার সময় মেশিনের ভেতরে পানি ব্যবহার হয়। কাজ শেষ হওয়ার পর যদি সেই আর্দ্রতা পুরোপুরি শুকানোর সুযোগ না পায়, তাহলে মেশিনের বিভিন্ন অংশ দীর্ঘ সময় ভেজা থাকে।
এমন পরিবেশ ছত্রাক ও জীবাণুর বংশবিস্তারের জন্য আদর্শ। বিশেষ করে সামনের দিক থেকে খোলা ওয়াশিং মেশিনে দরজার চারপাশের রাবারের অংশে পানি জমে থাকে। সেখানে কাপড়ের সূক্ষ্ম আঁশ, সাবানের আস্তরণ ও ময়লা আটকে গিয়ে ধীরে ধীরে দুর্গন্ধের উৎস তৈরি করে।
দুর্গন্ধই হতে পারে প্রথম সতর্কসংকেত ঃ স্যাঁতসেঁতে বা বাসি গন্ধ বের হওয়া সাধারণ বিষয় মনে হলেও এটিকে ঠিকঠাক গুরত্ব দেওয়া উচিত। কারণ ছত্রাক জন্মাতে শুরু করলে এক ধরনের ভেজা মাটির মতো গন্ধ তৈরি হয়। যদি কাপড় ধোয়ার পরও বারবার একই গন্ধ পাওয়া যায়, তাহলে শুধু কাপড় নয়, মেশিনের ভেতরেও সমস্যা খুঁজে দেখা প্রয়োজন। তবে দুর্গন্ধ টের পাওয়া মানেই সমস্যা নতুন নয়। অনেক সময় কয়েক সপ্তাহ বা কয়েক মাস ধরে ধীরে ধীরে এটি তৈরি হতে থাকে।
যেসব জায়গায় বেশি ময়লা জমে ঃ ওয়াশিং মেশিনের সব অংশ সমানভাবে নোংরা হয় না। কিছু নির্দিষ্ট জায়গায় বেশি ময়লা ও আর্দ্রতা জমে। বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম বিক্রি প্রতিষ্ঠান স্যামসং-পণ্য সেবা বিভাগের কর্মী দীপক সর্দার বলেন, “রাবারের সিল, সাবান রাখার অংশ, পানি বের হওয়ার ছাঁকনি, কাপড় রাখার ড্রাম এবং পানি নিষ্কাশনের পথ নিয়মিত পরীক্ষা করা প্রয়োজন। বিশেষ করে রাবারের ভাঁজে অনেক সময় ছোট কাপড়ের আঁশ, চুল বা ময়লা আটকে থাকে, যা সহজে চোখে পড়ে না। এই অংশগুলো পরিষ্কার না করলে, ধীরে ধীরে দুর্গন্ধ পুরো মেশিনে ছড়িয়ে পড়তে পারে।
প্রতিবার ব্যবহারের পর কিছু অভ্যাস ঃ কাপড় ধোয়া শেষ হলে মেশিনের দরজা ও সাবান রাখার অংশ কিছু সময় খোলা রাখতে হবে, যাতে ভেতরের আর্দ্রতা দ্রুত শুকিয়ে যায়। একই সঙ্গে ভেজা কাপড় কখনই ঘণ্টার পর ঘণ্টা মেশিনে ফেলে রাখা উচিত নয়। আর্দ্র পরিবেশে মাত্র এক থেকে দুই দিনের মধ্যেই ছত্রাক জন্মাতে পারে। তাই কাপড় ধোয়া শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই সেগুলো বের করে শুকাতে দেওয়া উচিত।
নিয়মিত পরিষ্কার করাও জরুরি ঃ শুধু বাইরে থেকে মুছে রাখলেই হবে না, মেশিনের ভেতরের অংশও নিয়মিত পরিষ্কার করতে হবে। মাসে একবার ভালোভাবে মেশিন পরিষ্কার করা উচিত। আর রাবারের অংশ সপ্তাহে অন্তত একবার পরিষ্কার করলে দুর্গন্ধ হওয়ার ঝুঁকি অনেক কমে যায়। প্রতিবার কাপড় ধোয়ার পর পরিষ্কার করা সম্ভব না হলে, সপ্তাহের নির্দিষ্ট একটি দিন এই কাজের জন্য ঠিক করে নেওয়া যেতে পারে।
যেভাবে পরিষ্কার করতে হয় ঃ মেশিনে যদি ইতিমধ্যে দুর্গন্ধ তৈরি হয়ে থাকে, তাহলে শুধু বাইরে মুছে রাখলে হবে না। পুরো মেশিন ‘ডিপ ক্লিন’ বা গভীরভাবে পরিষ্কার করতে হবে। প্রথমে পানি নিষ্কাশনের ছাঁকনি খুলে জমে থাকা ময়লা পরিষ্কার করতে হবে। এরপর সাবান রাখার অংশ খুলে পরিষ্কার করে, এর ভেতরের স্থানও ভালোভাবে মুছে নিতে হবে।
এরপর ড্রাম, রাবারের সিল, ঢাকনা ও সহজে হাত পৌঁছায় এমন সব অংশ পরিষ্কার করতে হবে। এছাড়া পণ্যটির প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠানের নির্দেশনা অনুযায়ী, খালি মেশিনে গরম পানির ধোয়ার কার্যক্রম চালানো যেতে পারে। এতে ভেতরে জমে থাকা অনেক ময়লা ও দুর্গন্ধ দূর হয়।
সঠিক পরিমাণ পরিষ্কারক ব্যবহারও জরুরি ঃ বেশি পরিষ্কারক ব্যবহার করলে কাপড় আরও ভালো পরিষ্কার হবে এমন ধারণাই প্রচলিত আছে। তবে প্রয়োজনের চেয়ে বেশি পরিষ্কারক ব্যবহার করলে উল্টো মেশিনের ভেতরে আস্তরণ জমে যায়। এ কারণেই পণ্যের সঙ্গে দেওয়া নির্দেশনা অনুযায়ী নির্ধারিত পরিমাণ পরিষ্কারক ব্যবহার করা উচিত। আবার মেশিন যে ধরনের পরিষ্কারক ব্যবহারের জন্য তৈরি, সেটিই ব্যবহার করা নিরাপদ।
ঘরের পরিবেশও প্রভাব ফেলে ঃ বর্ষাকালে বাতাসে আর্দ্রতার পরিমাণ বেশি থাকে। ফলে ওয়াশিং মেশিন যদি বদ্ধ, অন্ধকার বা বাতাস চলাচল কম এমন জায়গায় রাখা হয়, তাহলে সেটি সহজে শুকাতে পারে না। তাই সম্ভব হলে মেশিন এমন জায়গায় রাখা উচিত, যেখানে পর্যাপ্ত বাতাস চলাচল করে। কাপড় ধোয়ার জায়গা নিয়মিত শুকনো রাখলেও দুর্গন্ধের ঝুঁকি কমে।
পোস্ট লিংক : https://karatoa.com.bd/article/180296