ইয়েমেনে রক্তক্ষয়ী লড়াইয়ে ২০০ হুথি যোদ্ধা নিহত

ইয়েমেনে রক্তক্ষয়ী লড়াইয়ে ২০০ হুথি যোদ্ধা নিহত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : ইয়েমেনে ভয়াবহ ড্রোন হামলা ও তীব্র সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির মুখে পড়েছে ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র হুথি গোষ্ঠী। গত ৪৮ ঘণ্টায় দেশটির দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে এসব হামলা ও সংঘর্ষে ২০০ জনেরও বেশি হুথি যোদ্ধা নিহত হয়েছেন।

সংবাদমাধ্যম আল আরাবিয়া বলছে, নিহতদের বেশিরভাগই দেশটির দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় তাইজ প্রদেশে তীব্র সংঘর্ষে প্রাণ হারিয়েছেন বলে রোববার (১৬ আগস্ট) সানার সামরিক সূত্র জানিয়েছে।

সামরিক ও চিকিৎসা সূত্রের বরাতে জানা গেছে, নিহতদের বেশিরভাগই হুথিদের তথাকথিত আল-সামাদ ব্রিগেডের সদস্য। গত দুই দিনে বিপুলসংখ্যক নিহতের মরদেহ হুথি নিয়ন্ত্রিত রাজধানী সানার বিভিন্ন হাসপাতালে নেয়া হয়েছে। বেশ কয়েকটি সূত্রের বরাতে ইয়েমেনের স্বাধীন সংবাদমাধ্যম ইয়েমেন ফিউচার জানিয়েছে, ক্ষয়ক্ষতি পুষিয়ে নিয়ে আবারও হামলা চালানোর চেষ্টা করছে হুথিরা। এ জন্য তাইজ শহরের পশ্চিমে আল-বারহ ফ্রন্টে নতুন করে সেনা ও যোদ্ধা পাঠিয়েছে তারা। নতুন করে পাঠানো যোদ্ধাদের মধ্যে হুথিদের বিশেষ বাহিনী ও কমান্ডোদের পাশাপাশি সামরিক প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত সদস্যরাও রয়েছেন বলে জানা গেছে।

এদিকে হুথিরা আরও যোদ্ধা সংগ্রহের চেষ্টা করছে বলে ইঙ্গিতও পাওয়া গেছে। সানার সূত্রগুলো জানিয়েছে, নিজেদের নিয়ন্ত্রিত এলাকায় আটক শত শত বন্দিকে ছেড়ে দিতে শুরু করেছে গোষ্ঠীটি। বিনিময়ে তাদের যুদ্ধে যোগ দেয়ার শর্ত দেয়া হচ্ছে। সূত্রের বরাতে জানা গেছে, সাদা, হাজ্জাহ ও সানা প্রদেশের বিভিন্ন কারাগার থেকে প্রায় ৮৫০ বন্দি ও আটক ব্যক্তিকে মুক্তি দেয়া হয়েছে। তাদের মধ্যে অপরাধ ও মাদকসংক্রান্ত মামলায় অভিযুক্ত ব্যক্তিরাও রয়েছেন। এছাড়া দামার প্রদেশে আরও প্রায় ১ হাজার ৪০০ বন্দিকে মুক্তি দেয়ার প্রস্তুতি চলছে।

সূত্রগুলো বলেছে, মুক্তি পাওয়া ব্যক্তিদের যুদ্ধে যোগ দেয়ার অঙ্গীকারনামায় স্বাক্ষর করতে হয়েছে। এর বিনিময়ে তাদের বিরুদ্ধে থাকা মামলা প্রত্যাহার অথবা আইনি অবস্থান নিষ্পত্তির আশ্বাস দেয়া হয়েছে। এছাড়া কিছু বন্দিকে আনুষ্ঠানিকভাবে হুথি বাহিনীতে নিয়োগ এবং আর্থিক সহায়তার প্রস্তাবও দেয়া হয়েছে। এ ছাড়া ঋণ পরিশোধ করতে না পারায় কারাগারে থাকা কয়েকজনের দেনা পরিশোধের বিনিময়েও তাদের যুদ্ধে যোগ দেয়ার সুযোগ দেয়া হয়েছে।

পোস্ট লিংক : https://karatoa.com.bd/article/180244