শরৎযাত্রা শুরু হলেও রংপুরাঞ্চলে উষ্ণতার কবলে প্রাণ-প্রকৃতি
রংপুর জেলা প্রতিনিধি: ঋতুচক্রের পথপরিক্রমায় এখন শরৎকাল। এ ঋতুতে আকাশে মেঘের ভেলা আর বর্ষা ঋতুর রেশ ধরে চলে বৃষ্টির আনাগোনা। তবে এবার প্রকৃতি এতটাই রুক্ষ যে- চলতি আগস্ট মাসে যেখানে বৃষ্টি হওয়ার কথা সাড়ে ৩শ’ মিলিমিটারের বেশি। সেখানে দুই সপ্তাহে বৃষ্টি হয়েছে ১০০ মিলিমিটারেরও কম। ফলে রংপুরাঞ্চলের কয়েকটি জেলায় বইছে মৃদু তাপপ্রবাহ। তার সাথে লোডশেডিং জনজীবনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।
রংপুর আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানা যায়, ২০২০ থেকে ২০২৩ সালের আগস্টে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ২১ থেকে ২৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস। সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩০ থেকে ৩২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। গত তিন বছরে তা ৩ থেকে ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেড়ে ৩৫ থেকে ৩৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছেছে।
এ বছর আগস্টে স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক কম বৃষ্টিপাত হবে। পুরো মাসে সাড়ে ৩০০ মিলিমিটার বৃষ্টি হওয়ার কথা থাকলেও ১৫ দিনে বৃষ্টি হয়েছে প্রায় ৯০ মিলিমিটার। এ অঞ্চল থেকে বৃষ্টিবলয় দূরে থাকায় বৃষ্টিপাতের পরিমাণ কম হচ্ছে।
বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) রংপুর জেলা শাখার সদস্য সচিব রশিদুস সুলতান বাবলু জানান, উষ্ণতা বাড়ার অন্যতম কারণ হচ্ছে এ অঞ্চলের নদ-নদীতে পানি কমে যাওয়া। পানি কমে যাওয়ায় এ অঞ্চলে বৃষ্টিবলয় তৈরি হচ্ছে না। এছাড়া পরিবেশদূষণের কারণেও এ অঞ্চলে উষ্ণতা বাড়ছে। বর্জ্য পচে-গলে দুর্গন্ধ বাতাসে মিশে মারাত্মক পরিবেশদূষণ করছে।
এসব বর্জ্যের মধ্যে হোটেল ও রেস্তোরাঁর আবর্জনা, শিল্পকারখানা থেকে উৎপাদিত বর্জ্য, রান্নাঘরের পরিত্যক্ত আবর্জনা, হাটবাজারের পচনশীল শাকসবজি ও কসাইখানার রক্ত অন্যতম। যেখানে-সেখানে ময়লা-আবর্জনা উন্মুক্তভাবে ফেলে রাখায় বাতাস ও মাটি দূষিত হচ্ছে। ফলে প্রকৃতির ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে।
রংপুর অফিসের আবহাওয়াবিদ মোস্তাফিজার রহমান জানান, আগস্টে স্বাভাবিকের চেয়ে কম বৃষ্টিপাত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। কয়েক বছর ধরে এ অঞ্চলে উষ্ণতা বাড়ছে। এর কয়েকটি কারণ হলো বৃষ্টিপাত কমে যাওয়া, জলবায়ুর পরিবর্তন, মেঘের বলয় দূরে সরে যাওয়া এবং পরিবেশ দূষণ। আজ রোববার (১৬ আগস্ট) রংপুরে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩৩ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এর মধ্যে বাতাসের আর্দ্রতা ছিল ৮০ শতাংশ।
পোস্ট লিংক : https://karatoa.com.bd/article/180214